Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৮-১০-২০১৬

১৬ বছরের অনশন ভেঙে সাংবাদিকদের মুখোমুখি ইরম শর্মিলা

১৬ বছরের অনশন ভেঙে সাংবাদিকদের মুখোমুখি ইরম শর্মিলা

ইম্ফল, ১০ অগাস্ট- ভারতের মনিপুর থেকে সশস্ত্র বাহিনীর বিশেষ ক্ষমতা আইন বা আফস্পা প্রত্যাহারের দাবিতে অনশন শুরু করার ১৬ বছর পর মঙ্গলবার অনশন ভেঙে প্রথমবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছেন ইরম চানু শর্মিলা। কলকাতার সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে এ তথ্য।

অনশন ভাঙার মুহূর্তের বর্ননা দিতে গিয়ে সংবাদমাধ্যমটি বলে, নাকে নেই এত দিনের সর্বক্ষণের সঙ্গী রাইলস টিউব। ডান হাতের বুড়ো আঙুলে ব্যক্তিগত বন্ডে টিপছাপ দেওয়ার নীল কালি জ্বলজ্বল করছে। পরণে সাদা ফুলহাতা জামা, আকাশ-নীল পাজামা। গলায় জড়ানো মণিপুরি মাফলার। সাংবাদিকদের সামনে এসে প্রথমেই বললেন, ‘আজ খুব দুঃখের দিন। এত দিনের সংগ্রাম শেষ করা এক বিরাট শূন্যতা। কিন্তু আমি সাধারণ মানুষের মতো বাঁচতে চেয়েছিলাম।’

ইরম শর্মিলা চানু কি মেনে নিচ্ছেন, তার অনশন সত্যাগ্রহ আন্দোলন ব্যর্থ? চানু জানান, মন্তব্য করবেন না। তবে তার নিজের মতো করে, নিজের পথে আফস্পা-বিরোধী আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

শর্মিলা বলেন, ‘আমার দিনবদলের আহবান মানুষের উপরে বর্ষিত হবে। তারা আমায় এত দিন দেবি হিসেবে বিশ্বাস করেছেন। এবার মানুষ হিসেবে বিশ্বাস করে দেখুন। যদি মানুষ সত্যিই আমার সঙ্গে না-থাকে, মনে করব, তারা পরিবর্তন চাইছেন না।’

১৬ বছর পরে মুখে মধু দিয়ে তিনি জানান, স্বাদটা একেবারে অন্য রকম। রাতে ভাবছি চাবোন বা ফেনা ভাত খাব’।

প্রতিবেদন থেকে আরও জানা গেছে, অনেকে বলছে, প্রেমে পড়েই এই ‘অধঃপতন’ দেবীর। প্রেমিকের পরামর্শেই কি অনশন ভাঙা? শর্মিলা বলেন, ‘এটা আমার জীবন, আমার সিদ্ধান্ত। প্রেম তো একটা মেয়ের জীবনে স্বাভাবিক নিয়ম মেনেই আসে। মানুষ আমায় বিপ্লবের প্রতীক ভাবে। কিন্তু আমারও যে আশা-আকাঙ্খা থাকতে পারে, তা কেউ বিশ্বাসই করেন না। আর আমার প্রেমিক এই সিদ্ধান্তে কোনও প্রভাব ফেলেনি।’

নতুন জীবন সম্পর্কে চানু জানান, ২০১৭ সালের প্রথম দিকেই বিধানসভা নির্বাচন। তাই প্রথমেই নির্বাচন কমিশনের কাছে গিয়ে ভোটে লড়ার পদ্ধতি জানবেন। তার স্পষ্ট কথা, ‘আমি রাজনীতির কিছুই জানি না। পড়াশোনাও তেমন করিনি। আমি সাম্য আর ন্যায়ের জন্য লড়ব। কোনও দলে যোগ দেব না। ওক্রাম ইবোবি সিংহ (মণিপুরের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী)-কে হারাতে চাই। ক্ষমতা পেলেই আফস্পা তুলে দেব।’

চানু আরও জানান, রাতটা পুলিশের হেফাজতে কাটিয়ে, কাল কোনও আশ্রমে যাবেন (সম্ভবত ইসকনের আশ্রম)। কিন্তু আশ্রম জীবন কী আবারও তাকে জনবিচ্ছিন্ন করে দেবে  না? চানুর মতে, আশ্রম সমাজেরই অঙ্গ। তার কোনও নিরাপত্তাও চাই না। জঙ্গি সংগঠনগুলি ইতোমধ্যে তাকে হুমকি দিয়ে রেখেছে।

চানু বলেন, ‘ইচ্ছে হলে আমায় হত্যা করতে পারে। মিথ্যে অপবাদে গান্ধী বা যিশুকেও মরতে হয়েছে।’

শর্মিলা বলেন, ‘নরেন্দ্র মোদি বরাবর হিংসায় মদত দিয়ে এসেছেন। পিতৃতুল্য দরদ দিয়ে, অহিংসভাবে দেশ চালান প্রধানমন্ত্রী। সরিয়ে দিন অমানবিক আইন। কাশ্মীর ও মণিপুরের লোককে নিজের পছন্দ মতো ভবিষ্যৎ বেছে নেওয়ার অধিকার দেওয়া হোক। তবেই সমস্যা মিটবে।’

দক্ষিণ এশিয়া

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে