Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৮-০৮-২০১৬

সন্তানকে বাঁচানোর আকুতি

জীবন মুছা


সন্তানকে বাঁচানোর আকুতি

ঢাকা, ০৮ আগষ্ট- সন্তানের জীবন বাঁচাতে দুদিন ধরে প্রেসক্লাবের সামনে বসে আছেন এক নওমুসলিম নারী। যে কোনো একজন সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলতেই তিনি দুদিন ধরে সেখানে বসে আছেন। প্রেসক্লাবে প্রবেশ করতে চাইলে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা প্রহরীরা তাকে ঢুকতে দেয়নি। 

সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে প্রেসক্লাবের মেইন গেটে কথা হয় জান্নাতুল ফেরদৌস হুমায়রা নামের ওই নারীর সঙ্গে। সঙ্গে আড়াই বছরের শিশুসন্তান ইয়াছিন আরাফাত। একটি ছোট কাপড়ের থলে নিয়ে বসে আছেন তিনি। 

এগিয়ে গিয়ে কথা বলতেই কেঁদে ফেলেন তিনি। বলেন, ‘আপনি সাংবাদিক? ভাই আমি গত দুদিন ধরে এখানে বসে আছি আপনার মত একজন সাংবাদিককে আমার দুঃখের বিষয়টি বলার জন্য। কিন্তু আমাকে ভেতরে ঢুকতে দিচ্ছেন না দারোয়ানরা।’ 

কি সমস্যা জানতে চাইলে এ প্রতিবেদককে জান্নাতুল ফেরদৌস নামের ওই নারী জানান, গত ফেব্রুয়ারি মাসে তার আড়াই বছরের শিশুসন্তানের (পুত্র) ঘুমের মধ্যে মুসলমানদের যে খতনা হয় তা অলৌকিকভাবে হয়ে যায়। এরপর বিষয়টি নিয়ে তারা ডাক্তারের পরামর্শ নেন। ডাক্তার তাদের বলেন, এটা সৃষ্টিকর্তার পক্ষ থেকে হয়েছে; এতে তাদের করার কিছু নেই। এরপর বিষয়টি নিয়ে তাদের পরিবারে বড় ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হয়। 

হুমায়রা ছিলেন মূলত হিন্দু। তার আগের নাম পূজা ভট্টাচার্য, পিতা শ্যামল ভট্টাচার্য। স্বামীর নাম বিজয় ভট্টাচার্য । নগরীর বায়েজিদ ওয়াপদা কলোনি এলাকায় তাদের পৈতৃক বাড়ি। তার স্বামীর বাড়ি হাটহাজারির কলেজ গেট নাপিত পাড়ায়। 

চার বছর আগে বিজয়ের সঙ্গে পূজার বিয়ে হয়। বিজয় পেশায় একজন বাস ড্রাইভার। নিজের আড়াই বছরের পুত্রসন্তান এমন হওয়ার পর তার স্বামী এবং শ্বশুরবাড়ির লোকজন ছেলেটিকে বাড়িতে রাখতে অপারগতা প্রকাশ করে। 

তারা শিশুসন্তানটিকে কোনো মুসলিম পরিবারের কাছে দিয়ে দেয়ার জন্য পূজার ওপর চাপ প্রয়োগ করতে থাকেন। কিন্তু নিজের সন্তানের মায়া ত্যাগ করতে পারেননি তিনি। একপর্যায়ে সন্তানের জন্য তিনিও হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে গত ১৬ মার্চ ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। 

বর্তমানে তার নাম জান্নাতুল ফেরদৌস হুমায়রা। শিশুসন্তানের নাম ইয়াছিন আরাফাত। শিশুসন্তান নিয়ে নিজে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করায় স্বামী তাকে তালাক দেয়। তালাকপ্রাপ্ত হয়ে শ্বশুরবাড়ি থেকে বের হয়ে আসলে নিজের বাপের বাড়িতেও জায়গা হয়নি তার। এছাড়া তার স্বামী তাকে নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে বলেও জানান তিনি। সন্তানকে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে।

এরপর হুমায়রা কিছুদিন বায়েজিদ সেনানিবাস এলাকায় এক সেনা কর্মকর্তার বাসায় ঝি’র কাজ করেন। বর্তমানে সেটিও ছেড়ে দিয়ে ইপিজেড এলাকায় একটি পোশাক কারখানায় চাকরি নিয়েছেন বলে জানান তিনি। হুমায়রা জানান, তিনি ডিগ্রি পাস।

নওমুসলিম এই নারী জানান, বিষয়টি নিয়ে গত ৪/৫ দিন আগে বায়েজিদ থানায় গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি। সাধারণ ডায়েরি করতে চাইলে মিজানুর রহমান নামে এক পুলিশ কর্মকর্তা তার কাছে ৫০০ টাকা আর মামলা করতে চাইলে ৩ হাজার টাকা দাবি করেন।

তবে বায়েজিদ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)  মো. মহসিন জানান, এ ধরনের কোন নারী এসেছেন বলে তার কাছে কোনো তথ্য নেই। আর মিজান নামের যে পুলিশ কর্মকর্তার কথা বলছেন, তিনি গত কয়েকদিন ধরে থানায় ডিউটি অফিসারের দায়িত্বেও ছিলেন না। তবুও বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন বলেও জানান তিনি। 

হুমায়রা জানান, বর্তমানে সন্তান নিয়ে তিনি রীতিমত নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। শিশুসন্তানকে মেরে ফেলবে বলে প্রতিনিয়ত হুমকি দিচ্ছে স্বামী। এ ছাড়া এর আগে একবার গরম পানি দিয়ে সন্তানের মুখ ঝলসে দিয়েছিল বলেও জানান তিনি। তিনি এ ব্যাপারে প্রশাসনসহ সবার সহায়তা কামনা করেছেন।

এফ/২৩:২০/০৮আগষ্ট

চট্টগ্রাম

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে