Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 1.3/5 (3 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৮-০৮-২০১৬

নারী নেতৃত্ব: নিবন্ধনের শর্ত পূরণ থেকে অনেক দূরে বিএনপি

মোসাদ্দেক বশির


নারী নেতৃত্ব: নিবন্ধনের শর্ত পূরণ থেকে অনেক দূরে বিএনপি

ঢাকা, ০৮ আগষ্ট- বিএনপির সদ্যঘোষিত কেন্দ্রীয় কমিটিতে নারীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। দলের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী পর্ষদ স্থায়ী কমিটিতে নারী কেবল একজনই। তিনি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। গত কমিটিতে নারীর সংখ্যা ছিল দুইজন। ওই নেত্রী সারোয়ারী রহমানকে সরিয়ে দিয়েছেন খালেদা জিয়া। তাকে এবার ভাইস চেয়ারম্যান করেছেন বিএনপি নেত্রী।

অবশ্য স্থায়ী কমিটিতে এখনো দুটি পদ খালি থাকায় আরও দুইজনের স্থায়ী কমিটিতে জায়গা পাওয়ার সুযোগ আছে। কেবল স্থায়ী কমিটি নয়, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, সহসভাপতি, সাংগঠনিক সম্পাদকসহ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির কোথাও নারীরা তেমন গুরুত্ব পাননি। ৭৩ সদস্যের উপদেষ্টা কমিটিতে নারী আছেন কেবল ছয়জন। ৩৬ জন ভাইস চেয়ারম্যানের মধ্যে নারী তিনজন। ১০ জন সাংগঠনিক সম্পাদকের মধ্যে নারী কেবল একজন। এ ছাড়া তিনজন সম্পাদক ও ১৫ জন সহসম্পাদক নারী। সদস্য পদে নতুন অন্তর্ভুক্ত ১১৩ জনের মধ্যে নারী ১৭ জন। আগের কমিটিতে ১৮০ জনের মধ্যে নারী ছিলেন ২৫ জন। সব মিলিয়ে ৫০২ সদস্যের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটিতে নারীর সংখ্যা ৬৭। যা শতকরা হিসাবে ১৩ দশমিক ৩৪ ভাগ।

বিএনপির গত কেন্দ্রীয় কমিটির ৩৮২ জনের মধ্যে নারী ছিলেন ৪২ জন। স্থায়ী কমিটি মিলে এই সংখ্যা ছিল ৪৪। অর্থাৎ গত কমিটিতে নারী প্রতিনিধিত্ব ছিল শতকরা ১০ ভাগ।

সে হিসাবে গতবারের চেয়ে এবার বিএনপিতে নারী নেতা বেড়েছে ২ শতাংশ। আগামী সাড়ে তিন বছরে ২০ শতাংশ ভাগ আরও বাড়াতে হবে।

নির্বাচন কমিশনে রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধনে শর্ত হিসেবে ২০২০ সালের মধ্যে দলের সব কমিটিতে কমপক্ষে ৩৩ শতাংশ নারীর অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। শর্ত পূরণ না হলে দলের নিবন্ধন বাতিল হতে পারে। আর নিবন্ধন বাতিল করে কোনো দল তার প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে পারে না।

২০০৮ সালে এই শর্ত মেনেই নিবন্ধনের জন্য আবেদন করে রাজনৈতিক দলগুলো। আর এরপর থেকে নারীদের নেতৃত্বের সামনের কাতারে আগের চেয়ে বেশি হারে নিয়ে আসছে তারা।

এই অবস্থায় বিএনপির ‘উল্টো যাত্রা’ অবাক করেছে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। সাবেক নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘বিএনপিতে নারীদের অংশগ্রহণ অবশ্যই কম হয়েছে। ২০২০ সালের মধ্যে তাদেরকে তো সব কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারী সদস্য রাখতে হবে। সেই হিসাবে তাদের হাতে আর মাত্র চার বছর সময় আছে। এই অবস্থায় আরও নারী নেত্রীকে উঠিয়ে আনা উচিত ছিল।’

স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ তোফায়েল আহমেদ বলেন, শিক্ষার দিক দিয়ে বর্তমানে ছেলে-মেয়ে সমান তালেই এগিয়ে যাচ্ছে। তাই রাজনীতিতেও নারীদেরকে এগিয়ে আসা উচিত। পুরুষ সদস্যরা সাধারণত প্রশাসন ও দল নিয়ে ব্যস্ত থাকে। আইন প্রণয়নে জাতীয় সংসদে মেয়েদের ভূমিকা রাখার বেশি সুযোগ রয়েছে। 

জানতে চাইলে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান বলেন, ‘ম্যাডাম যা ভালো মনে করেছেন সেভাবে কমিটি করেছেন’। কিন্তু স্থায়ী কমিটতে তো কেবল একজন নারী- এই মন্তব্যের জবাবে তিনি মৃদু হাসেন।

রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন আইন অনুযায়ী সব কমিটিতে এক তৃতীয়াংশ নারী সদস্য থাকার বাধ্যবাধকতার কথা স্মরণ করিয়ে দিলে সেলিমা রহমান বলেন, ‘সেটা তো কোনো বিশেষ কমিটি নয়, সারা দেশের হিসাব।’

না, সাবেক নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেন তো বলেছেন, সব কমিটিতেই ৩৩ শতাংশ নারী সদস্য থাকতে হবে- এটা জানালে সেলিমা রহমান বলেন, ‘আমাদের কমিটিতে নারীর সংখ্যা পর্যায়ক্রমে বাড়ছে। এবারও অনেক নারী কমিটিতে পদ পেয়েছেন। আরও পাওয়ার সুযোগ আছে।’

বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় নারীদেরকে বিশেষ কোনো চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয় কি না-জানতে চাইলে সেলিমা রহমান বলেন, ‘এক সময় কঠিন ছিল। কিন্তু নারীরা এখন তো ভালো করছে। এখন আর আলাদা কোনো চ্যালেঞ্জ নেই।’ 

বিএনপির নতুন কমিটিতে নারী যারা
সদ্যঘেষিত উপদেষ্টা কমিটিতে যে ছয়জন নারী আছেন তারা হলেন, সরোয়ারী রহমান, তাজমেরী ইসলাম, শাহিদা রফিক, রোজী কবির, তাহসিনা রুশদি লুনা এবং আফরোজা খান রিতা।

ভাইস চেয়ারম্যান দুই নারী হলেন রাবেয়া চৌধুরী ও সেলিনা রহমান। একমাত্র নারী সাংগঠনিক সম্পাদক হলেন- শ্যামা ওবায়েদ।

তিন সম্পাদক হলেন: মহিলা বিষয়ক সম্পাদক নুর-এ-আরা সাফা, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক রাশেদা বেগম হীরা, স্বর্নিভর বিষয়ক সম্পাদক শিরিন সুলতানা।

সহসম্পাদক রয়েছেন ১৫ জন। এরা হলেন- আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহসম্পাদক ফাহিমা মুন্নী, রুমিন ফারহানা ও বেবী নাজনীন, শিক্ষা বিষয়ক সহসম্পাদক হেলেন জেরিন খান ও ফরিদা মনি শহিদুল্লাহ। মহিলা বিষয়ক সহসম্পাদক আফরোজা আব্বাস ও সুলতানা আহমেদ। প্রান্তিক জনশক্তি উন্নয়ন বিষয়ক সহসম্পাদক অপর্ণা রায়, ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সহসম্পাদক নেওয়াজ হালিমা আরলি, স্থানীয় সরকার বিষয়ক সহসম্পাদক শাম্মী আক্তার, স্বনির্ভর বিষয়ক সহসম্পাদক নিলুফার মনি, তাতী বিষয়ক সহসম্পাদক রাবেয়া সিরাজ, নার্সেস ও স্বাস্থ্য সহকারী বিষয়ক সহসম্পাদক মিসেস জাহানারা বেগম, মানবাধিকার বিষয়ক সহসম্পাদক আশিফা আশরাফি পাপিয়া।

পুরনো কমিটির মধ্যে রেজিনা ইসলাম, বিলকিস ইসলাম, সাঈদা রহমান জোৎস্না, রওশন আরা ফরিদ, লাভলী রহমান, কাজী হেনা, খালেদা পান্না, শাহিদা আখতার রিতা, নূরজাহান ইয়াসমিন, লায়লা বেগম, রহিমা সিকদার, লিটা বশির, মেহেরুন্নেছা হক, রাজিয়া আলিম, শাহিনা খান, খালেদা ইয়াসমিন, ইয়াসমিন আরা হক, ফেরদৌস ওয়াহিদা, শাহানা আখতার সানু, সাইমুম বেগম, হাসিনা আহমেদ, খালেদা রাব্বানী, রহমান রানী, চমন আরা, নার্গিস আলী এবং জেনা খান।

নতুন যে ১৭জনকে জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য করা হয়েছে তারা হলেন- ঢাকার নাছিম আক্তার কল্পনা, ফরিদা ইয়াসমিন, যশোরের সাবেরা সুলতানা, পঞ্চগড়ের রিনা পারভীন, বাগেরহাটের আয়েশা সিদ্দিকা মানি, নুর জাহান মাহবুব, পিয়ারা মোস্তফা, সিমকি ইসলাম, আরিফা জেসমিন, সিলেটের মুন্নী, রুখসানা খানম মীতু, সেলিনা রউফ চৌধুরী, পিরোজপুরের এলিজা জামান, কুমিল্লার সাবেরা আলাউদ্দিন হেনা, রিজিয়া ইসলাম, ঢাকার কেরানীগঞ্জের রাবেয়া আলী এবং শরীয়তপুরের তাহমিনা খান।

এফ/১০:১০/০৮আগষ্ট

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে