Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 1.3/5 (3 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৮-০৮-২০১৬

ডিপথেরিয়ার ব্যাপারে জানুন

সাবেরা খাতুন


ডিপথেরিয়ার ব্যাপারে জানুন

ডিপথেরিয়া একটি সংক্রামক রোগ যা হয়ে থাকে  Corynebacterium  diptheriae নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশির মাধ্যমে ডিপথেরিয়া অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণত এক বছরের কম বয়সের শিশুরাই এই মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হয়। ডিপথেরিয়ার লক্ষণ ও প্রতিকার সম্পর্কেই জেনে নেব আজ।

ডিপথেরিয়ার লক্ষণ :  
ডিপথেরিয়া সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া যে বিষাক্ত পদার্থ উৎপন্ন করে তা শ্বসনতন্ত্রের বিশেষ করে নাক ও গলার টিস্যুকে নষ্ট করে দেয়। ডিপথেরিয়ার লক্ষণগুলো দেখা যায় ইনফেকশন হওয়ার দুই থেকে সাত দিন পরে।

-   ৩৮ ডিগ্রী সেলসিয়াস বা ১০০.৪ ডিগ্রী ফারেনহাইট তাপমাত্রার জ্বর থাকে।

-   ক্লান্তি ও শরীর ঠাণ্ডা হয়ে যায়

-   গলা ব্যথা হয়

-   গলার গ্রন্থি ফুলে যায়

-   ঢোক গিলতে সমস্যা ও ব্যথা হয়

-   অনেক বেশি কাশি হয়

দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে ব্যাকটেরিয়া যখন ভালো টিস্যুকে নষ্ট করে দেয় তখন মৃত টিস্যুগুলো পুরো ধূসর আবরণ তৈরি করে রোগীর গলা ও নাকে, একে সিউডোমেমব্রেন বলে। বিষাক্ত পদার্থ রক্তস্রোতে মিশে যেতে পারে যার ফলে হার্ট, কিডনি ও নার্ভ ড্যামেজ হয়ে যায়।

রোগ নির্ণয় :  
চিকিৎসক গলার ভেতরে ধূসর আবরণ বা ফুলে যাওয়া টনসিল দেখে শনাক্ত কএবেন যে ডিপথেরিয়া হয়েছে। আক্রান্ত স্থান থেকে টিস্যু নিয়ে কালচার করতে ল্যাবরেটরিতে পাঠাবেন।  

ডিপথেরিয়ার চিকিৎসা  : 
ডিপথেরিয়া একটি মারাত্মক রোগ। তাই ডাক্তার প্রথমেই অ্যান্টিটক্সিন ইনজেকশন দেবেন ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করার জন্য। এছাড়াও ইরাথ্রোমাইসিন ও পেনিসিলিনের মত এন্টিবায়োটিক দেবেন ইনফেকশন দূর করার জন্য। যেহেতু এটি একটি ছোঁয়াচে রোগ তাই ডিপথেরিয়ার রোগীদের অন্যদের থেকে আলাদা থাকতে বলা হয় ইনফেকশন দূর হওয়া পর্যন্ত।

ডিপথেরিয়া প্রতিরোধ :  
শিশুর ডিপথেরিয়া প্রতিরোধের জন্য টিকা দেয়া হয়। একে DTaP টিকা বলে, যা সাধারণত ৫  বাড়ে অর্থাৎ শিশুর ২ মাস, ৪ মাস, ৬ মাস, ১২-১৮ মাস এবং ৪-৬ বছর বয়সে দেয়া হয়। এই টিকা ১০ বছর পর্যন্ত কার্যকরী থাকে। তাই ১২ বছর বয়সে আবার তাকে টিকা নিতে হবে যাকে   TD   টিকা বলে।

এই টিকা দেয়ার ফলে তেমন কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়না। প্রতি চার জনে একজন শিশুর মধ্যে টিকার স্থানটি লাল হয়ে ফুলে যাওয়া, ব্যথা করা, জ্বর এবং বমির মত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার লক্ষণ দেখা যায়। তীব্র পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ফলে ১০৫ ডিগ্রী ফারেনহাইটের উপরে জ্বর আসতে পারে, শিশু অনেকক্ষণ যাবত ননস্টপ কাঁদতে থাকে এবং খিঁচুনি আসতে পারে। তবে এগুলো খুবই বিরল পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া।

ডিপথেরিয়া তীব্র আকার ধারণ করলে শিশুর চোখ, ঘাড় ও গলায় এবং শ্বসনতন্ত্রের মাংস পেশীতে প্যারালাইসিস হতে পারে। তাই রোগ ধরা পড়া মাত্রই চিকিৎসা শুরু না করলে শিশুর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।      

লিখেছেন- সাবেরা খাতুন

এফ/০৯:৪৫/০৮আগষ্ট

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে