Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 1.0/5 (1 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৮-০৪-২০১৬

ফেসবুক এরিয়া ৪০৪

আবির হাসান


ফেসবুক এরিয়া ৪০৪

অ্যামেরিকার সরকারের যেমন রয়েছে একেবারেই গোপন একটি এরিয়া 'এরিয়া ৫১', ঠিক তেমনিভাবে ফেসবুকেরও এরকম রয়েছে 'এরিয়া ৪০৪'। তবে এই দুটির মধ্যেকার মূল তফাৎ হচ্ছে ফেসবুক আমাদের এই এরিয়া ৪০৪ সম্পর্কে জানিয়ে দিয়েছে। হ্যাঁ, এর মধ্যে কোন প্রকারের এলিয়েন বা এরকম কোন কিছুরই সম্পৃক্ততার আভাস পাওয়া যায়নি!  

এরিয়া ৪০৪ হচ্ছে মূলত একটি ল্যাব যা হার্ডওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং এর উপরে ফোকাস করে তৈরি করা হয়েছে। এই ল্যাবের মধ্যে দুটি আলাদা অংশ রয়েছে, একটি হচ্ছে ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ল্যাব এবং অন্যটি হচ্ছে প্রোটোটাইপ ওয়ার্কশপ। এই ল্যাবটিতেই পরবর্তী প্রজন্মের সব হার্ডওয়্যার তৈরি করা হবে বলেই প্রতিষ্ঠানটি আশাবাদী। এই এরিয়া ৪০৪ সম্পর্কে সাধারণ কিছু প্রশ্ন আপনাদের মনে জাগতেই পারে। আর সেই সাধারণ প্রশ্নগুলোর মাধ্যমেই চলুন এই এরিয়া ৪০৪-কে আরও কিছুটা ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করা যাক। 

 এই এরিয়া ৪০৪ আসলে কী? 
এই প্রশ্নের উত্তরে আমরা অ্যারন মামিতের কাছ থেকে কিছুটা ধারণা নিতে পারি। অ্যারনের মতে, 'ফেসবুক সম্প্রতি তাদের এই এরিয়া ৪০৪  ল্যাবটি চালু করেছে। ল্যাবটি ফেসবুকের হেডকোয়ার্টারের মূল ক্যাম্পাসে প্রায় ২২,০০০ স্কয়ার ফুট জায়গার উপর স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির পরবর্তী সব হার্ডওয়্যার প্রোডাক্টগুলো এবং এগুলোর কম্পোনেন্টগুলোর ফাস্ট প্রোটোটাইপ এবং মডেলগুলো এই ল্যাবটিতেই তৈরি করা হবে। 
এরিয়া ৪০৪ ল্যাবটির পরবর্তী কাজগুলোর মধ্যে থাকতে পারে ফেসবুকের সোলার ড্রোন, প্রোজেক্ট এরাইস, ইন্টারনেট বিমিং লেসার প্রযুক্তি, ভার্চুয়াল রিয়ালিটি, পরবর্তী প্রজন্মের জন্য সার্ভার সমূহ এবং ইত্যাদি।'
 
কেন তৈরি করা হয়েছে এই এরিয়া ৪০৪? 
এ সম্পর্কে মিক্যাল গ্রিভস এবং স্পেনসার বার্নস বলেন , 'ফেসবুকে অনেক আগে থেকে আলাদা আলাদা টিমের জন্য আলাদা আলাদা হার্ডওয়্যার ল্যাবের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। বর্তমানে প্রায় সমগ্র পৃথিবীতেই ফেসবুকের হার্ডওয়্যার ল্যাব রয়েছে। একটা সময় দেখা গিয়েছে যে যখন আলাদা আলাদা টিমগুলো থেকে ইঞ্জিনিয়াররা তাদের এক্সপার্টিসগুলো অন্যদের সাথে শেয়ার করছেন তখন চমৎকার কিছু ঘটছে এবং সেই একই প্রজেক্টগুলোর গতি পূর্বের চাইতে বৃদ্ধি পাছে। এজন্য প্রতিষ্ঠানটি এমন একটি ল্যাব তৈরি করতে চেয়েছিল যেখানে সবগুলো টিমগুলোকে চমৎকার ভাবে একত্রিত করা সম্ভব হয়। আর এই চিন্তা থেকেই পরবর্তীতে ফেসবুক এরিয়া ৪০৪ তৈরি করা হয়েছে।' 
 
আসলেই কি এরকম কিছু ফেসবুকের দরকার ছিল? 
মার্টিন উইলিয়ামের কিছু কথা এ সম্পর্কে তুলে ধরছি। তার মতে, 'প্রোজেক্ট এরাইস'  হচ্ছে একটি ওয়্যারলেস বেস স্টেশন যা একই সাথে ২৪টি ক্লায়েন্ট ডিভাইসকে সার্ভ করতে সক্ষম। এখানে প্রতিষ্ঠানটি যে আইডিয়ার পেছনে কাজ করে যাচ্ছে তা হল, রেডিও স্পেকট্রামকে আরও চমৎকার ভাবে ব্যবহারের মাধ্যমে অনেকগুলো ডিভাইসে অনেক বেশি পরিমাণের ডাটা খুব দ্রুত গতিতে ট্র্যান্সফার করা। এই প্রযুক্তিটি নিয়ে ফেসবুক কাজ করে যাচ্ছে, কেননা এর ফলে একই সাথে আরও চমৎকারভাবে আরও বেশি সংখ্যক মানুষ খুব দ্রুত গতিতে তাদের অ্যাকটিভিটিস ফেসবুকে চালিয়ে যেতে পারবেন। এবং এরকম একটি ল্যাব এক্ষেত্রে বেশ কাজে আসবে।'    
 
শেষ প্রশ্ন! 'ল্যাবটির এরকম অদ্ভুত নাম কেন দেয়া হয়েছে?' 
ব্র্যান্ডন বেইলির মতে, 'ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা অনেকেই যে সাইটগুলো সচল নন সেগুলো ভিজিট করতে গিয়ে ইরর-৪০৪ মেসেজটি দেখে থাকেন। সেই পেজগুলো তারা ব্রাউজ করতে চাইলেও তখন সেটি ব্রাউজ করা সম্ভব হয়না। ঠিক তেমনি ভাবে, ফেসবুকে কর্মরত ইঞ্জিনিয়াররাও অনেক আগে থেকেই এরকম একটি ল্যাব বা ওয়ার্ক স্পেসের প্রতীক্ষায় ছিল, যা এতদিন তারা পায়নি! ফলে, ইরর ৪০৪ নামটি থেকেই এই ল্যাবটির নামকরণ করা হয়েছে!'  

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে