Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৮-০৪-২০১৬

একসময়ের ‘অলিম্পিক হিরো’ এখন রিকশাচালক

একসময়ের ‘অলিম্পিক হিরো’ এখন রিকশাচালক

লাহোর, ০৪ আগষ্ট- জীবনের উত্থান-পতনটা ভালোভাবেই দেখা হয়ে গেছে পাকিস্তানের এক সময়ে অলিম্পিক হিরো মোহাম্মদ আশিকের। মাত্র কয়েক দশকের ব্যবধানে অলিম্পিক সাইক্লিংয়ের হিরোই এখন জীবন ধারণ করছেন রিকশা চালিয়ে।

কয়েক যুগ আগে অলিম্পিক সাইক্লিংয়ে অংশ নিয়ে নিজ দেশের হিরো বনে গিয়েছিলেন আশিক। অসাধারণ কৃতিত্বের জন্য দেশের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে পদকও পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু এখন তার খোঁজ কেউ রাখে না। সে সময় পাওয়া পদকটি প্রতিদিন একবার করে নেড়ে-চেড়ে দেখাই এখন তার সান্ত্বনা।

এক সময় নায়ক বনে যাওয়া সাইক্লিন্ট আশিক দুঃখ করে বলেন, ‘লোকজন হয়তো ভাবছে আমি মরে গেছি।’ চোখের পানি মুছতে মুছতে বার্তা সংস্থা এএফপিকে ৮১ বছর বয়সী এই সাবেক সাইক্লিস্ট বলেন, ‘আমার প্রায়শই মনে পড়ে পাকিস্তানের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও নির্বাহী কর্মকর্তাদের সঙ্গে করমর্দনের মুহূর্তগুলো। আমি বিশ্বাস করতে পারছি না তারা কিভাবে আমাকে ভুলে গেলেন।’

১৯৬০ ও ৬৪ সালে অনুষ্ঠিত অলিম্পিকে পাকিস্তানের হয়ে অংশ নেয়া এই ক্রীড়াবিদ এখন দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় শহর লাহোরে রিকশা চালিয়া জীবিকা নির্বাহ করেন।

এক জন বক্সার হিসেবে ক্রীড়াঙ্গনে নিজের ক্যারিয়ার শুরু করা আশিক ইজুরির কারণে বার বার স্ত্রীর গঞ্জনা খেয়ে সাইক্লিংয়ের দিকে নিজেকে ধাবিত করেন। ওই ইভেন্টেই ১৯৬০ সালে রোমে অনুষ্ঠিত অলিম্পিকে পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করেন তিনি। চার বছর পর ১৯৬৪ সালে জাপানের টোকিওতে অনুষ্ঠিত গেমসে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। দুটি আসর থেকে দেশের জন্য কোনো পদক নিয়ে আসতে না পারলেও নিজ দেশে জাতীয় বীর হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন আশিক।


তিনি বলেন, ‘নিজ দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে সে সময় আমি খুবই খুশি ছিলাম। অলিম্পিকের মত আসরে পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করতাম।’

কিন্তু যখনই সাইক্লিংয়ের ক্যারিয়ার শেষ হয়ে গেল, তখনই সবার নজরের আড়ালে চলে গেলেন আশিক। এক সময় একটি প্রতিষ্ঠানের জনসংযোগের কাজে নিয়োজিত থাকলেও স্বাস্থ্যগত কারণে ১৯৭৭ সালে সেটি হারাতে হয় তাকে। এর পর ট্যাক্সি চালিয়ে এবং পরবর্তী ভ্যান চালনাসহ বিভিন্ন ছোটখাট ব্যবসা করার চেষ্টা করলেও বারবার ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। বিগত ছয় বছর ধরে লাহোরের রাস্তায় রিকশা চালিয়ে জিবীকা নির্বাহ করছেন এক সময়ের এই কৃতি ক্রীড়াবিদ।

উপার্জন কমে যাওয়ার কারণে বসবাসেও এসেছে দৈন্যতা। রিকশা চালিয়ে দৈনিক গড়ে ৪০০ রুপি রোজগার করা আশিক এখন বসবাস করেন আনুমানিক ১০ লাখ রুপিতে দিয়ে ক্রয় করা ৪৫০ বর্গফিটের একটি বাড়িতে।

ইতোমধ্যে মারা গেছেন তার স্ত্রী। নিজের চার সন্তানও তার সঙ্গে থাকেন না। তাদের ওপর নির্ভর করে থাকতেও চান না আশিক। রিকশার সামনেই নিজের অর্জিত মেডেল ঝুলিয়ে রাখতে পছন্দ করেন তিনি। তবে এর বেশী কিছু না। আমেরিকার সাবেক রাষ্ট্রপতি ক্যালভিন কুলিজের একটি বিখ্যাত উক্তি ‘যে জাতি তাদের নায়কদের ভুলে যায়, সে জাতি কখনো উন্নতি করতে পারে না।’ তিনি তার রিকশার সামনে ঝুলিয়ে রেখেছেন। 

এ বিষয়ে কোন যাত্রী তার কাছে প্রশ্ন করলে তিনি তাদেরকে নিজের অতীত ঘটনা বর্ণনা করেন এবং বলেন, গরীবদের কখনো ক্রীড়াবিদ হওয়া উচিৎ নয়।

এক সময় তার স্ত্রী এবং সন্তানরা তাকে অনুরোধ করতেন অতীতের কথা স্মরণ না করার জন্য। তিনি বলেন, ‘একদিন আমি আমার স্ত্রীকে এর কারণ জিজ্ঞেস করলে জবাবে তিনি বলেছিলেন, আমার স্বাস্থ্য নিয়ে তিনি চিন্তিত। তিনি শুধু বলতেন সব সময় যেন খুশি থাকি। যারা আমাকে ভুলে গেছে তাদেরও যেন আমি ভুলে যাই। আমি তখন বললাম ঠিক আছে। তখন তিনি খুশি হলেন। এর কয়েক মুহুর্ত পরেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন আমার স্ত্রী।’

ঘটনাটি দুই বছর আগের। এখন স্ত্রীর জন্য দোয়া চাইতে প্রার্থনা করতেও তার হাত কাপে। তিনি বলেন, ‘আমি এখন স্বর্গে আমার প্রিয়তমা স্ত্রীর কাছে চলে যেতে চাই। এই মানবেতর জীবনের চেয়ে সেটিই উত্তম।’

আর/১৭:১৪/০৪ আগষ্ট

অন্যান্য

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে