Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৮-০৪-২০১৬

জঙ্গি ইস্যুতে চাপা পড়েছে লাখো মানুষের আর্তনাদ

আরিফুল ইসলাম


জঙ্গি ইস্যুতে চাপা পড়েছে লাখো মানুষের আর্তনাদ

গাইবান্ধা, ০৪ আগষ্ট- সম্প্রতি জঙ্গি তৎপরতার কারণে বিপাকে পড়েছে বন্যা কবলিত সাধারণ মানুষ। তাদের নিয়ে তেমন মাথাব্যাথা নেই কোন মহলের। সরকার, মিডিয়া, বিরোধী দলসহ সবাই জঙ্গির পিছনে ছুটছে। দেশের ৬০শতাংশ এলাকা পানিতে ভাসলেও সবাই শুধু দেশের একটি সমস্যা নিয়েই ব্যাস্ত।

সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, জঙ্গি সমস্যা জাতীয় সমস্যা এটা ঠিক, কিন্তু বন্যা সমস্যাকে ছোট করে দেখা যাবে না। সবাইকে ঐকবদ্ধ ভাবে এ সমস্যার সমাধানে এগিয়ে আসতে হবে। সরকারের সাথে সাথে মিডিয়া ও বিরোধী দল জঙ্গি সমস্যার করণে বন্যা সমস্যার ওপর তেমন গুরুত্ব দেয়নি। একটি ইসুতে চাপা পড়েছে লাখো মানুষের আর্তনাদ।

এ পর্যন্ত রোগে আক্রান্ত হয়েছে সাড়ে তিন হাজার মানুষ। পানিতে ডুবে ও সাপে কেটে মারা গেছে ৬০ জন। বন্যা দুর্গত এলাকায় পানি কমার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়তে শুরু করেছে রোগের প্রাদুর্ভাব। ডায়রিয়া, চর্মরোগ, চোখে প্রদাহ, শ্বাসনালী প্রদাহসহ নানা ধরনের রোগে ভুগছে বানবাসীরা।

এসময় খাবার স্যালাইন, শুকনো খাবারসহ ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ চললেও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেটের সংকট দেখা দিয়েছে।এবারের বন্যায় ১৬ জেলার প্রায় ৭ লাখ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বানের পানিতে ডুবে গত ৯ দিনে শিশুসহ ৫৫ জন ও সাপে কেটে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর জানায়, ১৬টি জেলার ৭২টি উপজেলার ৩৭৮ ইউনিয়নের ৬ লাখ ৮৫ হাজার ৯১৪টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এরমধ্যে ১৫ হাজার ১১২টি পরিবারের ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী রিপন কর্মকার জানান, নদ-নদীর পানি কমতে থাকায় উত্তরাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। মধ্যাঞ্চলের অবস্থান স্থিতিশীল রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৯০টি পর্যবেক্ষণ স্টেশনের মধ্যে ১৭টি পয়েন্টে বিপদসীমার ওপরে বয়ে যাচ্ছে পানি। ঢাকাসহ মধ্যাঞ্চলের পরিস্থিতি আরও উন্নতি হবে।

গাইবান্ধা, জামালপুর, সিরাজগঞ্জ ও বগুড়ার বন্যা পরিস্থিরি উন্নতি অব্যাহত থাকবে। রাজবাড়ি, মানিকগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ ও শরীয়তপুর এলাকায় বন্যা পরিস্থিতিও স্থিতিশীল থাকতে পারে।

নিয়ন্ত্রণ কক্ষের কর্তব্যরত চিকিৎসক সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “পানি কমছে, সঙ্গে বাড়ছে রোগের প্রভাব। পানি কমলে দুর্গত এলাকায় দুষিত পানি ছড়িয়ে পড়ায় ডায়রিয়া, চর্মরোগ, চোখের প্রদাহ, শ্বাসনালতে প্রদাহসহ পানি বাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়।” এসময় বিশুদ্ধ পানি পান, খাবার স্যালাইনসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসার খুব দরকার বলে জানান তিনি।

এ কর্মকর্তা জানান, গত ২৫ জুলাই থেকে বিভিন্ন রোগে ৩ হাজার ৩২৭ জন আক্রান্ত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ৬৪৩ জন আক্রান্ত হয়েছে; যার মধ্যে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যাই বেশি। এসময় ডায়রিয়ায় ২৮১ জন, আরটিআই ৯৪ জন, চর্মরোগে ৮১ জন, চোখের প্রদাহে ৪৮ জন, আঘাতে ২৬ জন ও অন্যান্য রোগে ১০৮ জন আক্রান্ত হয়েছে।

শুধু গত ৯ দিনে ৬০ জন মারা গেছে। অধিকাংশই শিশু। এরমধ্যে পানিতে ডুবে শিশুসহ ৫৫ জন ও সাপে কেটে ৫ জন রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছে পানিতে ডুবেই ১০ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ’র কর্মকর্তারা জানান, দুর্গত এলাকায় এতোদিন পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট সরবরাহে সংকট মোকাবেলায় প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। সাময়িক সময়ের জন্য কোথাও কোথাও এ ধরনের ট্যাবলেট সংকট দেখা দিতে পারে। দ্রুততার সঙ্গে কয়েক লাখ ট্যাবলেট তৈরি করে মজুদের জন্য এসেন্সিয়াল ড্রাগ কোম্পানি লিমিটেডকে বলা হয়েছে।

আর/১৭:১৪/০৪ আগষ্ট

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে