Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 1.3/5 (3 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৮-০৪-২০১৬

সৌদিতে অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন বাংলাদেশি শ্রমিকরা

সৌদিতে অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন বাংলাদেশি শ্রমিকরা

রিয়াদ, ০৪ অগাস্ট- সৌদি আরবে হঠাৎ করেই কর্মহীন হয়ে পড়েছেন বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানসহ দক্ষিণ এশিয়ার বেশ কিছু শ্রমিক। এদের মধ্যে সবচেয়ে করুণ দশা বাংলাদেশিদের। অনেক বাংলাদেশি  না খেয়ে কিংবা একবেলা খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন বলে বৃহস্পতিবার বিবিসি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

আটকা পড়া শ্রমিকদের একজন হলেন ফরিদপুরের মিজানুর রহমান। আঠারো বছর ধরে তিনি সৌদিতে কাজ করছেন। কিন্তু এখন সে দেশে তার দিন কাটছে কোনোরকমে একবেলা খেয়ে। তিনি টেলিফোনে বিবিসি’কে বলেন, ‘তিন বেলার জায়গায় দিনের মধ্যে একবেলা খাই। ভারতের কিছু বড় বড় কোম্পানি আছে তারা সাহায্য করছে। তারা মূলত ভারতীয়দের সাহায্য করছে, সেখান থেকে আমরাও কিছু কিছু পাই।’

বাংলাদেশের অভিবাসী শ্রমিকদের একটি বড় অংশই কাজ করে সৌদি আরবে। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ক্রমাগত পড়তে থাকায় সৌদিতে বহু কোম্পানিতে কাজ বন্ধ হতে শুরু করেছে গতবছর থেকেই। সবচেয়ে বেশি শোচনীয় অবস্থা নির্মাণ সংস্থাগুলোর। অনেক প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের হঠাৎ করেই ছাঁটাই করা হয়েছে। অনেকে মাসের পর মাসে বেতন পাচ্ছেন না। ফলে শ্রমিকদের জন্য নির্মিত শিবিরগুলোতে তাদের দিন কাটছে প্রায় অভূক্ত অবস্থায়। মিজানুর রহমান জানান, যেখানে তিনি কাজ করতেন সেখানে বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ফিলিপিন্স এবং শ্রীলঙ্কার শ্রমিকরা কাজ করতো। একবছর আগে কোম্পানির নিবন্ধন বাতিল হয়ে যায়। এরপর থেকে বেতন বন্ধ করে দেয়া হয়।

গত চারমাস ধরে খাওয়াও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে । ইসলামি দাওয়াত সেন্টার নামে একটি প্রতিষ্ঠান রমজান মাসে খাবার দিয়েছিল। এরপর আরেকটি কোম্পানি কিছু চাল-ডাল দিয়ে যায়। কিছু পাকিস্তানি ও ভারতীয় কোম্পানি সাহায্য করেছে। মিজানুর বলেন,‘এমন করুণ অবস্থা কারও কাছে একটা টাকাও নাই’।

মিজানুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, ‘দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন।  কিন্তু দূতাবাসের কোনও কর্মকর্তা এসে দেখেননি পর্যন্ত আমরা কি অবস্থায় আছি। খেয়ে আছি না, না খেয়ে আছি।’

তিনি আরো বলেন, কারও আকামা নাই। আকামা ছাড়া গেটের বাইরে যাওয়া যায় না। গেটের বাইরে গেলেই পুলিশ আক্রমণ করে। একবার পুলিশ ধরলেই ২০ হাজার টাকা জরিমানা করে। তবে মিজানুর মনে করেন, ‘এখন বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কোনো মন্ত্রী যদি আমাদের পাশে দাঁড়ায় তাহলে হয়তো একটা কিছু হবে। অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে বদলি হলেও কাজ করতে পারি। কিন্তু  বদলি হতেও ৭০/৮০ হাজার টাকা লাগে। মানুষ খেতেই পায় না এত টাকা কোথা থেকে দিবে?’

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা এলাকার বাসিন্দা আব্দুল করিম জানান, ১৪০ জনেরও বেশি বাংলাদেশী শ্রমিক এখন এ অবস্থায় আছেন। কর্তৃপক্ষ বলছে, এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে আসা শ্রমিক, যারা সে দেশে বেকার রয়েছেন, তারা যাতে অন্য চাকরিতে ঢুকতে পারেন বা দেশ ত্যাগ করতে পারেন সে লক্ষ্যে বিধিনিষেধ শিথিল করা হবে। ভারতীয় শ্রমিকদের মধ্যে প্রায় আট হাজার বেকার হয়ে পড়েছেন। তবে তাদের ভবিষ্যত নিয়ে কথা বলতে সেদেশের মন্ত্রী পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ভিকে সিং এখন জেদ্দায় রয়েছেন। কিন্তু প্রবাসি শ্রমিকদের জন্য এখনও কোনো উদ্যোগ নেয়নি বাংলাদেশ সরকার।

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে