Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 1.3/5 (3 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৮-০৪-২০১৬

ভেসে যাচ্ছে হাজার হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ

ভেসে যাচ্ছে হাজার হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ

ঢাকা, ০৪ অগাস্ট- স্বাধীনতার পরপরই রাজধানী ঢাকা সম্প্রসারিত হওয়ায় গুলশান, বনানী ও বারিধারায় গড়ে উঠে কূটনীতিক ও অভিজাত আবাসিক এলাকা। পাকিস্তান আমলে এর নকশা করা হলেও ৮০-এর দশকে পূর্ণাঙ্গ এলাকা তৈরি হওয়ায় সময়ের চাহিদা অনুয়ায়ী কূটনীতিক ও অভিজাত আবাসিক এলাকায় সরকারের অনুমতিতেই কিছু বাণিজ্যিক স্থাপনা গড়ে ওঠে।

তবে হঠাৎ করেই রাজধানীর এসব অভিজাত এলাকা গুলশান, বনানী, বারিধারা, উত্তরা ও ধানমন্ডি এলাকায় রাজউকের হোটেল-রেস্টুরেস্ট উচ্ছেদ অভিযানে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ ধ্বংসের পথে। এর বেশির ভাগই বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে করা হয়েছে। পাশাপাশি এসব হোটেলে এক লাখের বেশি শ্রমিক চাকরি হারিয়ে তাদের ওপর নির্ভরশীল প্রায় ১০ লাখ মানুষ বিপাকে পড়বে।

গুলশান, বনানী ও বারিধারা এলাকায় রাজউক তিন শতাধিক হোটেলকে অবৈধ ঘোষণা করেছে। তন্মধ্যে ৮০টি হোটেল, ৬০টি গেস্টহাউজ ও ২০০টি রেস্টুরেন্ট। হোটেল মালিকরা জানান, তারা এসব হোটেল পরিচালনায় ৪ বিলিয়ন টাকার ভ্যাট ও অন্যান্য ইউটিলিটি ফি সরকারকে পরিশোধ করেন। যানজট নিরসন ও কূটনীতিক এলাকার নিরাপত্তার অজুহাতে রাজউকের নকশাবহির্ভূত দেখিয়ে অবৈধ বলে হঠাৎ করেই বিপুল বিনিয়োগের এসব হোটেল-রেস্টুরেন্ট উচ্ছেদে অর্থনৈতিক বিপর্যয়সহ নতুন সমস্যায় পড়বে এসব এলাকার বাসিন্দারা।

ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উদ্যোক্তারা আর ব্যাংকঋণ পরিশোধ করতে না পারায় বেড়ে যাবে ব্যাংকের খেলাপি ঋণ। এ জন্য অভিজাত এলাকার হোটেল-রেস্টুরেন্ট উচ্ছেদে সরকারের সিদ্ধান্তের পর থেকেই গুলশান, বনানী ও উত্তরার আবাসিক এলাকা থেকে হোটেল, রেস্তোরাঁ ও অন্যান্য বিনোদন স্থাপনা উচ্ছেদ না করার দাবি জানিয়ে সরকারের বিভিন্ন দফতর ও মহলে দেনদরবার করছে ফেডারেশন অব হোটেল, গেস্টহাউজ অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে অভিজাত এলাকা থেকে নকশাবহির্ভূত এসব স্থাপনা স্থানান্তরে ৬ মাসের সময় দিলেও রাজউক নির্ধারিত সময়ের এক মাস আগেই কোনো নোটিশ ছাড়াই হঠাৎ উচ্ছেদ করায় বিপুল ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

ব্যবসায়ীরা জানান, তারা সরকারি নিয়ম মেনেই ট্রেড লাইসেন্স, আয়কর, ভ্যাট ও সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিয়েই হোটেল, গেস্টহাউজ ও রেস্টুরেন্ট গড়ে তোলেন। বাংলাদেশে বর্তমানে সরকারি ব্যবস্থাপনায় মাত্র ৩০০ থেকে ৪০০ রুম ভাড়া দিতে পারে। অথচ এর চাহিদা হাজার গুণ বেশি। রাজধানীর গুলশান, বনানী, বারিধারা, উত্তরা, ধানমন্ডি ও আশপাশের এলাকায় ৫ শতাধিক আবাসিক হোটেল আছে। ঢাকার ওই এলাকায় বর্তমানে প্রতি রাতে ৪ হাজার কক্ষ ভাড়া দেয়ার চাহিদা থাকলেও মাত্র তিন হাজার কক্ষ ভাড়া দেয়ার সক্ষমতা আছে আবাসিক হোটেলগুলোর। বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় সরকারি তদারকিতেই রাজধানী ঢাকায় বিদেশি ও দেশীয়দের হোটেলে থাকার ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু অভিজাত এলাকায় এসব হোটেল বন্ধ করে দিলে বিদেশি ও দেশি ব্যবসায়ীরা নিরাপদে স্বচ্ছন্দে থাকার সুযোগ হারাবেন।

ফেডারেল অব হোটেল গেস্টহাউজ অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট অনার্স অ্যাসোসিয়েশনের উপদেষ্টা এম এইচ রহমান গুলশান- বনানীর কোনো হোটেল অবৈধ নেই দাবি করে বলেন, সরকারের জ্ঞাতসারেই এসব হোটেল, গেস্টহাউজ অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট ব্যবসা চলছে। এর সাথে এক লাখ লোক জড়িত। এগুলো উচ্ছেদ করলে এক লাখ লোক বেকার হবে এবং ১০ লাখ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এছাড়া হোটেল ব্যবসায়ীরা ব্যাংক থেকে লোন দিয়ে হোটেল ব্যবসা করেন। এখন বন্ধ করে দিলে তারা কিভাবে এ লোন শোধ করবেন এ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তাগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা। গুলশানের বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে সিকিউরিটি আর্চওয়ে, মেটাল ডিটেক্টর ও সিসিটিভি স্থাপনসহ বিভিন্ন নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। অতিরিক্ত নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ দেয়া হয়েছে। উন্নত নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সরকারের সহযোগী হিসেবে এসব প্রতিষ্ঠান দায়িত্ব পালন করছে। ফলে আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, নিরাপত্তার কারণে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো উচ্ছেদ নয় বরং সংরক্ষণই যৌক্তিক ও সঠিক। আশপাশে বা গুলশানে পর্যাপ্ত হোটেল-রেস্টুরেন্ট না থাকায় বিদেশিসহ গুলশানে আসা লোকজন খাবার ও থাকার জন্য বাইরে যাওয়ায় আরো বেশি যানজটের সৃষ্টি হবে।

ব্যবসায়ীরা জানান, অভিজাত আবাসিক এলাকায় বাস্তব প্রয়োজনের তাগিদে গড়ে ওঠা হোটেল-রেস্টুরেন্ট উচ্ছেদ পর্যটন শিল্প উন্নয়ন ও বিদেশি ক্রেতা ও পর্যটকদের আস্থা অর্জনের ক্ষেত্রে বিরূপ প্রভাব ফেলবে। অভিজাত এলাকার হোটেল ও উন্নতমানের গেস্টহাউজগুলোতে প্রতিরাতে কমপক্ষে তিন হাজার বিদেশি অবস্থান করেন। এ প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে সরকার বৈদেশিক মুদ্রা, মূল্য সংযোজন কর ও কর পাচ্ছে। এছাড়া বাণিজ্যিক হারে গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানির বিল ও অন্যান্য শুল্ক আদায় করছে। সরকারের উচ্ছেদের সিদ্ধান্তে এসব প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায় ধস নেমেছে। প্রতিষ্ঠানের মালিকদের মধ্যে আতঙ্ক ও হতাশা দেখা দিয়েছে।

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে