Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৮-০১-২০১৬

কোথায় আছেন গুলশান হামলার মূল হোতারা?

কোথায় আছেন গুলশান হামলার মূল হোতারা?

ঢাকা, ০১ অগাস্ট- গুলশান হামলার মূল হোতারা দেশে না দেশ ছেড়ে পালিয়েছে, সেই তথ্য সুনির্দিষ্টভাবে কেউ দিতে পারেননি। হামলার মূল হোতাদের ধরতে নানামুখী তৎপরতা চালাচ্ছে পুলিশ। হামলার এক মাসের মধ্যেই মূল হোতাদের চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে বলে দাবি পুলিশের। এখন একইসঙ্গে হামলার পরিকল্পনাকারী, পরিকল্পনাকারী, অর্থদাতা, প্রশিক্ষক ও জড়িতদেরও চিহ্নিত করা হয়েছে।

তাদের এখনও কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব না হলেও অভিযান অব্যাহত আছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তারা।গুলশান হামলার ঘটনায় জড়িত জঙ্গিদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে ৪ জনকে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার করে পুলিশ। তবে তাদের গুলশান হামলা মামলায় এখনও গ্রেফতার দেখানো হয়নি বলেও জানান সংশ্লিষ্টরা।

গুলশান হামলার তদন্তে সংশ্লিষ্টরা জানান, গুলশান হামলায় জড়িতরা কোথায় কাদের কাছে প্রশিক্ষণ নিয়েছে, কাদের আশ্রয়ে ছিল, কারা তাদের অর্থ ও অস্ত্র সরবরাহ করেছে, তাদের সবাইকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ ঘটনার মূল হোতাদের গ্রেফতারে একের পর এক অভিযান চালানো হচ্ছে। কিন্তু জঙ্গিরা ঘন-ঘন অবস্থান পরিবর্তন করায় এখনও তাদের গ্রেফতার সম্ভব হয়নি।

তদন্তে সংশ্লিষ্টরা জানান, গুলশান হামলার মাস্টারমাইন্ড হচ্ছে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডিয়ান নাগরিক তামিম চৌধুরী। তার পরিকল্পনাতেই গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা চালানো হয়। মাস্টারমাইন্ড তামিম চৌধুরী প্রায় দুই বছর আগে কানাডা থেকে দেশে আসে। এরপর থেকে জেএমবির একটি অংশের নেতৃত্ব দিতে থাকে সে। মূলত দেশীয় জঙ্গি সংগঠনের আন্তর্জাতিক যোগাযোগ স্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে তামিম। গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলছেন, সিলেটের বাসিন্দা তামিম চৌধুরী দেশের ভেতরেই আত্মগোপনে আছেন বলে তাদের কাছে তথ্য রয়েছে। তাকে ধরতে নানামুখী তৎপরতা চালানো হচ্ছে।

তামিম চৌধুরী ছাড়া আরও কয়েকজন মাস্টারমাইন্ডের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। গুলশান হামলায় জড়িত জঙ্গিরা উত্তরাঞ্চলের গাইবান্ধা ও সিরাজগঞ্জের চরাঞ্চলের একাধিক বাসায় প্রশিক্ষণ নেয়। কল্যাণপুর অভিযানে নিহত ঢাকা অঞ্চলের জেএমবি’র কমান্ডার জঙ্গি রায়হান কবির ওরফে তারেক ছিলো তাদের প্রশিক্ষক। এছাড়া আরও কয়েকজন প্রশিক্ষককে শনাক্ত করা হয়েছে। যাদের কাজই হলো যারা অপারেশনে যাবে তাদের অস্ত্র চালানোর প্রশিক্ষণ দেওয়া।

কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের কর্মকর্তারা বলছেন, গুলশান হামলার সঙ্গে নিহত পাঁচ জঙ্গিদের সঙ্গে আরও অন্তত ১০-১২ জন সরাসরি জড়িত ছিল। সেই তথ্যও তাদের হাতে রয়েছে। ঘটনার আগে রেকি করাসহ হামলায় নানাভাবে সহযোগিতা করছে তারা। যেকোনও সময় তাদের গ্রেফতার করা সম্ভব হবে।

ওই কর্মকর্তা আরও জানান, সাম্প্রতিক জঙ্গি হামলাগুলো নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবির একটি অংশ করছে। এই অংশটি কথিত ইসলামিক স্টেটের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতে পেরেছিল। নব্য জেএমবির পুরো নেটওয়ার্ক এখন গোয়েন্দাদের নখদর্পণে।

গুলশানের জঙ্গি হামলার ঘটনায় নিহত জঙ্গিদের আশ্রয়দাতা হিসেবে ইতোমধ্যে ৪ জনকে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা হলেন, বসুন্ধরার ই-ব্লকের ৬ নম্বর সড়কের টেনামেন্ট-৩-এর ৬/এ ফ্ল্যাটের মালিক নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি জিয়া উদ্দিন আহসান, তার ভাগ্নে আলম চৌধুরী ও ভবনের কেয়ারটেকার মাহবুবুর রহমান তুহিন। এছাড়া আরেক জঙ্গি আস্তানা শেওড়াপাড়ার ৪৪১/৮ নম্বর বাসার মালিক নূরুল ইসলামকেও ৫৪ ধারায় গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একদফা রিমান্ড শেষে তারা সবাই এখন কারাগারে রয়েছেন।

গুলশানের জঙ্গি হামলার তদন্ত তদারক কর্মকর্তা ও কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেন, আমরা গুলশানসহ সাম্প্রতিক জঙ্গি হামলার ঘটনায় জড়িতদের অনেককেই শনাক্ত করেছি। এরা নব্য জেএমবির হয়ে কাজ করছে। এদের ‘মাস্টারমাইন্ডদের’ও চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের ধরতে অভিযান চলছে।

গত ১ জুলাই শুক্রবার রাতে গুলশান-২-এর ৭৯ নম্বর সড়কের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা চালায় জঙ্গিরা। এতে বনানী থানার ওসি সালাহ উদ্দিন খান ও গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার রবিউল করিম ছাড়াও ১৭ বিদেশি নাগরিক ও তিন বাংলাদেশি নিহত হন। সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে পরিচালিত যৌথ অভিযান অপারেশন ‘থান্ডারবোল্টে’৫ জঙ্গিসহ ছয়জন নিহত হন হয়। অভিযানে জীবিত উদ্ধার করা হয় তিন বিদেশি নাগরিকসহ ১৩ জিম্মিকে।
নিহতদের মধ্যে ৯ জন ইতালির, ৭জন জাপানি ও ১ জন ভারতের নাগরিক। বাকি ৩ জন বাংলাদেশি, যাদের মধ্যে ১ জনের যুক্তরাষ্ট্রেরও নাগরিকত্ব ছিল। নিহত সাত জাপানির মধ্যে ৬ জনই মেট্রোরেল প্রকল্পের কাজে নিয়োজিত ছিলেন।

গুলশান হামলার ঘটনায় এ পর্যন্ত ছয় প্রত্যক্ষদর্শী আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। তারা হচ্ছেন মেট্রোরেল প্রকল্পের গাড়িচালক রাশেদ সরদার, রাসেল মাসুদ, হলি আর্টিজানের কর্মচারী মিরাজ হোসেন ও আমিন চৌধুরী সিজান। এর আগে গত ২৬ জুলাই একজন ভারতীয় নাগরিকসহ দু’জন ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে জবানবন্দি দেন আদালতে। তাদের ১৬৪ ধারার জবানবন্দির আবেদন করেন পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের পরিদর্শক (তদন্ত কর্মকর্তা) হুমায়ুন কবীর।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে