Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৮-০১-২০১৬

৯ বছর ধরে পলাতক বিএনপি নেতা হারিছ লন্ডনে

৯ বছর ধরে পলাতক বিএনপি নেতা হারিছ লন্ডনে

সিলেট, ০১ আগষ্ট- দেশের রাজনৈতিক অঙ্গণের আলোচিত ব্যক্তি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীর খোঁজ মিলছেনা প্রায় নয় বছর ধরে। ওয়ান ইলেভেনের সময় দুদকের করা শীর্ষ দুর্নীতিবাজদের তালিকায় হারিছের নাম ছিল উপরের দিকে। বিএনপি আমলে দেশের প্রভাবশালী এই ব্যক্তি বর্তমানে লন্ডনে আছেন বলে দাবি করেছে একটি ঘনিষ্টসূত্র। ২০০৭ সালে দুদকের তালিকাতে নিজের নাম দেখার পর থেকেই পালিয়ে বেড়াচ্ছেন হারিছ চৌধুরী। 

২০১৪ সালের ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা ও ২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারির গ্রেনেড হামলার চার্জশিটভুক্ত আসামী হওয়ায় সহসাই দেশে ফিরছেন না হারিছ চৌধুরী এমন ধারণা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দের। 

অবৈধ প্রভাব আর রাজনৈতিক ক্ষমতার জোরে ‘সিনেমাটিক’ জীবন যাপন করেছেন পলাতক হারিছ চৌধুরী। তার রাজকীয় জীবন যাপনের গল্প এখনো ফিরে মানুষের মুখে মুখে। তবে এখন আর সেই দিন নেই। নেই হারিছ চৌধুরীর গ্রামের বাড়ির সেই চালচলন। এখন অনেকটাই ফাঁকা বলা যায় বাড়িটি।

ঢাকা থেকে সিলেটের সীমান্তবর্তী কানাইঘাটের বাড়িতে হারিছ চৌধুরী আসা-যাওয়া করতেন হেলিকপ্টারে। গ্রামে অবস্থানকালে প্রভাবের জোরে অনেক অভাবই দূর করেছেন এই পলাতক নেতা। তিনি গ্রামে যখন থাকতেন বিদ্যুৎ বিভ্রাট হতো না মুহূর্তের জন্যও। ঘরের পাশেই পোস্ট অফিস, কৃষি ব্যাংক, মডেল স্কুল, তফশিল অফিস, দাতব্য চিকিৎসালয়, এমনকি পুলিশ ফাঁড়িও স্থাপন করিয়েছিলেন। কাঁচা রাস্তার গ্রামে শুধু তার বাড়ি যাওয়ার রাস্তাটি ছিল পিচঢালা। বাড়ির ভেতর নির্মাণ করা হয়েছিল নজরকাড়া বাংলো, ছিল চিড়িয়াখানাও।

চারদলীয় জোট সরকারের সময়ে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলার দুটি মামলা, ২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি হবিগঞ্জে সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া হত্যাকান্ডে বিস্ফোরক আইনের মামলা ও জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলারও আসামি এই হারিছ। হারিছ চৌধুরীর বিরুদ্ধে বড় ধরনের অভিযোগে কমপক্ষে ছয়টি মামলা হয়েছে।

কানাইঘাট উপজেলার সড়কের বাজার সংলগ্ন দর্পনগর গ্রামে তাঁর মূল বাড়ি। গত চারদলীয় জোট সরকারের আমলে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হওয়ার আগে পর্যন্ত ঢাকার বিজয়নগরে ভাড়া বাসায় থাকতেন। পাঁচ বছরের ব্যবধানে গুলশানে কেনেন চারটি বাড়ি। অস্ট্রেলিয়া ও লন্ডনে কেনেন একাধিক ফ্ল্যাট।

অবশ্য গুলশানের চারটি বাড়ির মধ্যে একটি তাঁর এক ঘনিষ্ঠ ব্যক্তির নামে বরাদ্দ নিয়েছিলেন হারিছ চৌধুরী। দুদকে মামলা হওয়ার পর হারিছের পরিবারের পক্ষ থেকে বাড়িটি ফেরত দেওয়া হয় ২০১৪ সালে।

ঢাকার হাওয়া ভবনের আশীর্বাদপুষ্ট হয়ে দুর্নীতির বরপুত্র হয়ে ওঠা হারিছ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রথম দিকেই আত্মগোপন করেন। এক মাসের বেশি সময় হবিগঞ্জে আত্মগোপনে থাকার পর সিলেট শহরে অবস্থান নেন। তখনই দুর্নীতি দমন কমিশনের শীর্ষ দুর্নীতিবাজদের তালিকায় তাঁর নাম উঠে আসে। একপর্যায়ে ২০০৭ সালের ২৯ জানুয়ারি সিলেটের জকিগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে মামাবাড়ি ভারতের করিমগঞ্জে চলে যান। তাঁর চাহিদা মতো দরকারি কাগজপত্র, দলিল-দস্তাবেজ স্বজনরা বস্তায় ভরে সীমান্তপথে ভারতে তাঁর কাছে পৌঁছে দেয়।

হারিছের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, ভারত থেকে তিনি প্রথমে লন্ডনে যান। লন্ডন থেকে ইরানে যান তাঁর ভাই আবুল হাসনাত চৌধুরীর কাছে। ইরান থেকে মালয়েশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করে বর্তমানে লন্ডনে আছেন।

হারিছ চৌধুরীর আট একর জমিতে গড়ে তোলা বিলাসবহুল বাড়িতে গেলে দেখা যায়, পুরো বাড়িটিই একরকম জনমানবহীন। এত বড় বাড়িতে থাকেন শুধু হারিছের সর্বকনিষ্ঠ ভাই কামাল আহমদ। হারিছের চাচাতো ভাই সিলেট জেলার কানাইঘাট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী।

হারিছ চৌধুরী কোথায় তা জানেন না দাবি করে আশিক বলেন, খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হওয়ার আগে থেকেই হারিছ চৌধুরীর স্ত্রী ও এক ছেলে এক মেয়ে লন্ডনে চলে গিয়েছিল। হারিছরা পাঁচ ভাই। তার মধ্যে ঢাকায় থাকেন সেলিম চৌধুরী, সিলেটের কানাইঘাটের বাড়িতে থাকেন কামাল আহমদ চৌধুরী। কানাইঘাটে তাঁদের বাড়িতে আর কেউ থাকে না।

ঢাকার নটর ডেম কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র শুরুতে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েছিলেন। তবে ১৯৭৭ সালে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আহ্বানে জাগদলে যোগ দেন। সিলেট জেলা বিএনপির প্রথম কমিটির সাধারণ সম্পাদক, কেন্দ্রীয় যুবদলের সাধারণ সম্পাদক, সহসভাপতিসহ বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

তবে সর্বশেষ কাউন্সিলে বিএনপির কোনো পদেই রাখা হয়নি হারিছকে। দেশে ফিরে আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নিলেও ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মামলার সম্পূরক অভিযোগপত্রে তাঁর নাম থাকায় দেশে ফেরার পরিকল্পনা বাদ দেন তিনি। ২০১২ সালের ৭ ডিসেম্বর হারিছ চৌধুরীর ছোট ভাই সৌদি আরবের আল-রাজি ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা আবুল হাসনাত চৌধুরী ঢাকায় মারা যান। তখন হারিছ ইরানে অবস্থান করছিলেন।

গত নির্বাচনের আগে সিলেট-১ আসনে হারিছ চৌধুরীকে প্রার্থী করার দাবি জানিয়ে পোস্টারিংও করা হয়েছিল। ১৯৭৯ ও ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৫ (কানাইঘাট-জকিগঞ্জ) আসনে বিএনপির প্রার্থী হয়ে পরাজিত হয়েছিলেন হারিছ। তবে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হওয়ায় পরাজয়ের সব গ্লানি মুছে যায়। 

হারিছ চৌধুরীর স্ত্রী জোসনা আরা বেগম, ছেলে নাঈম সাফি চৌধুরী ও মেয়ে সামিরা তানজিম (মুন্নু আরা)। মেয়ে ব্যারিস্টার ও ছেলে নরওয়েভিত্তিক একটি তেল কম্পানিতে কাজ করছেন। সর্বশেষ ওয়ান-ইলেভেনের আগে হারিছের সঙ্গে দেখা করতে স্ত্রী-সন্তানরা ঢাকায় এসেছিলেন। হারিছের ইচ্ছা ছিল জাতীয় নির্বাচনে দেশে এসে প্রার্থী হবেন। তবে বিএনপি থেকে কোনো সংকেত মেলেনি।

হারিছের চাচাতো ভাই আশিক চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, ‘নির্বাচন হলে কানাইঘাট-জকিগঞ্জ আসনে জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল কাহের চৌধুরী মনোনয়ন পেতে পারেন। আমি নিজেও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।’

আর/১০:১৪/৩১ জুলাই

সিলেট

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে