Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.4/5 (54 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৭-৩১-২০১৬

প্রেসিডেন্ট হিলারি ক্লিনটন?

হাসান ফেরদৌস


প্রেসিডেন্ট হিলারি ক্লিনটন?
ওবামা হিলারিকে তাঁর উত্তরাধিকারী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন

হিলারি ক্লিনটন আগামী নভেম্বরে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী হিসেবে প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন, এ কথা এখন নিশ্চিত হয়েছে। বারাক ওবামার কথায়, বহু অভিজ্ঞ এই রাজনীতিক আমেরিকার ইতিহাসে সবচেয়ে অধিক প্রস্তুত প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী। প্রার্থী হিসেবে তিনি অথবা বিল ক্লিনটন, কেউই হিলারির চেয়ে অধিক যোগ্য নন। তাঁর বিপক্ষে রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্যবসার বাইরে জীবনে অন্য কিছু করেননি, রাষ্ট্র পরিচালনায় বা প্রশাসনে তাঁর বিন্দুমাত্র অভিজ্ঞতা নেই। তাঁকে ক্লাউন, প্রতারক, মিথ্যাবাদী, বিপজ্জনক ইত্যাদি কত নামেই না ডাকা হয়েছে। হিলারি যে তাঁকে অনায়াসে পরাস্ত করবেন, এমন কথা মাস খানেক আগেও বলা হতো। কিন্তু এখন মনোনয়ন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর নির্বাচনী প্রচারণা যখন পুরো মাত্রায় শুরু হয়েছে, অনেকেই মাথা চুলকানো শুরু করেছেন।

নিউইয়র্ক টাইমসের বহু অভিজ্ঞ নির্বাচনী বিশ্লেষক নেট সিলভারের কথা ধরুন। দুই সপ্তাহ আগে তিনি বলেছিলেন, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে হিলারির জয়ের সম্ভাবনা ৭৬ শতাংশ। কিন্তু এখন ঠিক উল্টো কথা শোনা যাচ্ছে। চলতি প্রবণতা অক্ষুণ্ন থাকলে হিলারি নয়, ট্রাম্পের জেতার সম্ভাবনা অধিক—সিলভারের হিসাবে ৫৫ শতাংশ। প্রেসিডেন্ট ওবামা পর্যন্ত ডেমোক্র্যাটদের সতর্ক করে বলেছেন, সাবধান, যেকোনো কিছু ঘটতে পারে। তাঁর কথায়, ‘রাজনীতিতে অদ্ভুত নানা ঘটনা ঘটে থাকে।’

ব্যাপারটা ভেঙে দেখা যাক। হিলারির জয়ের পক্ষে যে যুক্তি, সেটি তাঁর বিপক্ষেও সবচেয়ে বড় অস্ত্র। তিনি পেশাদার রাজনীতিক, কার্যত সারা জীবন কোনো না কোনো রাজনৈতিক দায়িত্ব পালন করেছেন। অথচ এই পেশাদার রাজনীতিকদের ব্যর্থতার জন্যই আজ আমেরিকা বিশ্বে তার মর্যাদা হারিয়েছে। অনেক হয়েছে, এবার এমন একজনকে বেছে নেওয়া যাক, যিনি রাজনীতির বাইরের লোক। ঠিক এই যুক্তি কাজে লাগিয়ে নিজেকে অধিক যোগ্য প্রার্থী হিসেবে উপস্থিত করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

হিলারির দ্বিতীয় সমস্যা, নির্বাচিত হলে তিনি হবেন বারাক ওবামা প্রশাসনের সম্প্রসারণ। ওবামা ইতিমধ্যে দুই দফা নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁকে সমর্থন করে এমন লোকের সংখ্যা কম নয়, কিন্তু তাই বলে আরও চার বা আট বছর সেই একই লোকেদের হাতে দেশের শাসনভার থাকতে হবে কেন? মার্কিন ভোটাররা অতীতে খুব নিকটতম সময়েই পরপর তিন দফা একই দলের প্রার্থীর পক্ষে ভোট দিয়েছেন।

সমস্যা আরও আছে। দীর্ঘদিন আমাদের চোখের সামনে হিলারিকে আমরা দেখেছি, তাঁর ভালো-মন্দ সবই আমাদের জানা। এ দেশে হিলারি বা তাঁর স্বামী বিল ক্লিনটনকে পছন্দ করে না এমন লোকের অভাব নেই। হিলারি নিজেই বলেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে এক ‘বিশাল দক্ষিণপন্থী ষড়যন্ত্র’ চলছে। এই দক্ষিণপন্থী গ্রুপ, যাদের প্রায় সবাই রিপাবলিকান, বিল ও হিলারিকে ঠেকাতে সব ধরনের মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছে। তাদের সঙ্গে রয়েছে আমেরিকার সবচেয়ে জনপ্রিয় ও শক্তিশালী টিভি ফক্স নিউজ। গত ২০ বছর, তার জন্মের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত, বিল ও হিলারির বিরুদ্ধে অহর্নিশি তারা প্রচার করে চলেছে। একে ঠেকাবে এমন কোনো কার্যকর অস্ত্র ডেমোক্র্যাটরা অথবা দেশের উদারনৈতিক অংশ এখন পর্যন্ত বের করতে পারেনি।

হিলারি নারী, সেটিও তাঁর বিরুদ্ধে কাজ করছে। আমেরিকা অবশেষে একজন নারীকে প্রেসিডেন্ট পদে মনোনয়ন দিয়েছে, এই ঐতিহাসিক ঘটনায় যাঁরা উল্লসিত, তাঁরা ভুলে যান যে এ দেশ এখনো অতি-রক্ষণশীল, মেয়েদের প্রথাগত ভূমিকার কট্টর সমর্থক। ভাবা হতো, দেশের নারী ভোটারের সংখ্যা অধিক, তাঁদের সমর্থনেই হিলারি নির্বাচনী বৈতরণি উতরে যাবেন। অথচ এই মুহূর্তে আমেরিকার নারীদের মধ্যে হিলারিকে সমর্থন করেন না তঁাদের পরিমাণ ৫৮ শতাংশ, যা পুরুষদের মধ্যে তাঁর সমর্থনের চেয়ে ২ শতাংশ কম। মেয়েদের মধ্যে ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন অবশ্য আরও কম, কিন্তু সেটি ভিন্ন প্রসঙ্গ।

এ বছরের নির্বাচন যেভাবে আবর্তিত হচ্ছে, তাতে দুটি প্রবণতা খুব স্পষ্ট। এক. পেশাদারি, ওয়াশিংটনভিত্তিক রাজনীতির প্রবল বিরোধিতা। ঠিক এই বিরোধিতা ব্যবহার করে একদিকে ট্রাম্প, অন্যদিকে বার্নি স্যান্ডার্সের মতো সম্পূর্ণ প্রথাবিরুদ্ধ রাজনীতিক মধ্যমঞ্চ দখল করে বসেছেন। এ বছর যাঁরা বহিরাগত-আউটসাইডার, তাঁরা পেশাদার রাজনীতিকদের পেছনে ফেলে এগিয়ে যাবেন—এ কথা অধিকাংশ নির্বাচনী মডেল থেকে ভবিষ্যদ্বাণী করা হচ্ছে। এই প্রবণতার কারণে অনভিজ্ঞ হওয়া সত্ত্বেও ট্রাম্প নজর কাড়তে সক্ষম হয়েছেন।

দুই. দেশের অধিকাংশ শ্বেতকায় পুরুষ, বিশেষত যাঁদের কলেজ ডিগ্রি নেই, তাঁরা সবচেয়ে অসন্তুষ্ট। নতুন শতকের গোড়া থেকে যে মন্দাবস্থা শুরু, যা ২০০৮ সাল থেকে মহামারির আকার নিয়ে দেশের ওপর জুড়ে বসে, তাতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এই শ্বেতকায় নাগরিকেরা। এঁদের অধিকাংশ হয় কারখানার বা কয়লাখনির কর্মজীবী অথবা ছোট ব্যবসার মালিক ও কর্মচারী। একদিকে মন্দাবস্থা, অন্যদিকে বিশ্বায়ন—এ দুই প্রবল নেতিবাচক শক্তির প্রভাবে হাজার হাজার মিল-কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে, কয়লাখনিও আর নেই। একসময় যাঁরা নিজেদের মধ্যবিত্ত বলে বিবেচনা করতেন, এখন তাঁরা দুই বা তিনটি কাজ করেও সংসার চালাতে পারেন না। ওবামার আট বছরে মন্দাবস্থা কাটিয়ে ওঠার নানা চেষ্টা হয়েছে, কিন্তু এসব চেষ্টায় সবচেয়ে লাভবান হয়েছেন তাঁরা, যাঁদের আমরা ‘ওয়ান পারসেন্ট’ নামে অভিহিত করে থাকি। ট্রাম্প ও স্যান্ডার্স উভয়েই নিজেদের অবশিষ্ট ‘নাইনটি নাইন পারসেন্ট’-এর মুখপাত্র হিসেবে স্থাপন করেছেন। একজন বাম, অন্যজন ডান, কিন্তু তাঁদের অর্থনৈতিক বার্তায় তেমন কোনো ফারাক নেই।

অর্থনৈতিক মন্দাবস্থার সঙ্গে যুক্ত করুন অভিবাসন ও সন্ত্রাস। গত অর্ধশতকে অব্যাহত অবৈধ অভিবাসন প্রক্রিয়ার ফলে আমেরিকার জনসংখ্যাগত চরিত্র বদলে যাচ্ছে। শ্বেতকায় মানুষ এখন ডানে বা বাঁয়ে যেদিকেই তাকায়, তাদের চোখে পড়ে অভিবাসী। তারা কেউ মেক্সিকো থেকে আসা, কেউবা মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়া থেকে আসা। এরা আমাদের চাকরি খেয়ে ফেলছে, এরাই সন্ত্রাসী ও অপরাধী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, দক্ষিণপন্থী তথ্যমাধ্যম অহর্নিশ এ কথা প্রচার করে চলেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প ঠিক এই মিথ্যা প্রচারকে তাঁর নির্বাচনী রণকৌশলের কেন্দ্রীয় স্তম্ভ করেছেন এবং সেই প্রচারে বিশ্বাস করে এমন সাদা মানুষের মধ্যে নিজের সমর্থন বাড়াতে সক্ষম হয়েছেন। বাছাইপর্বে তিনি এই সাদা মানুষদের সমর্থনেই আগের যেকোনো রিপাবলিকান প্রার্থীর চেয়ে বেশি ভোট পেয়েছেন।

প্রশ্ন হলো, শুধু শ্বেত মানুষের ভোট দিয়ে কি ট্রাম্পের পক্ষে সম্ভব হবে নির্বাচনে জেতা? অধিকাংশ বিশ্লেষক মনে করেন, অসম্ভব। গত দুই নির্বাচনে ওবামার বিরুদ্ধে জন ম্যাককেইন ও মিট রমনি শ্বেত মানুষের ভোট পকেটস্থ করেও জিততে পারেননি। ২০১২ সালে ওবামা রমনিকে হারিয়েছিলেন ৫০ লাখ ভোটে, যার ৩৯ শতাংশ ছিল শ্বেতকায়। ওবামার জয়ের পেছনে বড় শক্তি ছিল আফ্রিকান-আমেরিকান ও হিস্পানিকদের বিপুল সমর্থন। ট্রাম্পের পক্ষে শুধু ম্যাককেইন-রমনির ভোটারদের দিয়ে জেতা সম্ভব হবে না, তাঁর প্রয়োজন পড়বে আরও ৫০ বা ৬০ লাখ অতিরিক্ত ভোট। ট্রাম্প বাজি ধরেছেন, উসকনসিন, পেনসিলভানিয়া ও ওহাইওর মতো শ্বেতপ্রধান অঙ্গরাজ্য থেকে এই অতিরিক্ত ভোট ছিনিয়ে আনবেন।

হিলারির জন্য বিজয়ের পথ হবে কিছুটা ভিন্ন। মধ্যবিত্ত ও নিম্ন–মধ্যবিত্ত শ্বেতকায় ভোটার, বিশেষত পুরুষ ভোটার, তিনি ৩০-৩৫ শতাংশের বেশি পাবেন বলে মনে হয় না। তিনি আশা করছেন, শ্বেতকায় ভোটের যে খামতি, তা তিনি পুষিয়ে নেবেন একদিকে মেয়েদের, অন্যদিকে আফ্রিকান-আমেরিকান ও হিস্পানিকদের ভোট দিয়ে। এ দুই গ্রুপের মধ্যেই ট্রাম্পের প্রতি প্রবল বিরুদ্ধতা রয়েছে। নারী ভোটারদের ৭১ শতাংশ বলেছেন, তাঁরা ট্রাম্পকে সমর্থন করবেন না। রমনিকে যেসব নারী সমর্থন করেছিলেন, তার ৩ বা ৪ শতাংশও যদি মুখ ঘুরিয়ে নেন, ট্রাম্পের জন্য তা হবে মহা সর্বনাশ। হিলারি আশা করছেন, ট্রাম্পের নারীবিদ্বেষী বক্তব্যে ক্ষিপ্ত এসব নারীর এক বড় অংশ তাঁকে সমর্থন জানাবে।

অন্যদিকে ট্রাম্পের প্রতি আফ্রিকান-আমেরিকান ও হিস্পানিকদের সমর্থন ৫ শতাংশ বা তার চেয়েও কম। হিলারি আশা করছেন, গত দুই নির্বাচনে ওবামা যে বহুজাতিক কোয়ালিশন নির্মাণ করেছিলেন, তিনিও তাদের সমর্থন পাবেন। ওবামা হিলারিকে তাঁর উত্তরাধিকারী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন, নিজের অর্জন যাতে বিস্মৃত না হয়, সে জন্য তিনি নিজেও জোরেশোরে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেবেন, হিলারির জন্য তা হবে এক মস্ত সহায়। বর্তমানে ওবামার পক্ষে জনসমর্থন ৫০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। ওবামার এই জনপ্রিয়তা ও মাঠপর্যায়ে নিজের চমৎকার ব্যবস্থাপনা ব্যবহার করে হিলারি যথেষ্ট মানুষকে নিজের পক্ষে টানতে পারবেন বলে ভাবা হচ্ছে।

হিলারির হিসাবের খাতায় আরও রয়েছে ১৮-৩০ বছর বয়সী ভোটারদের গ্রুপ। এঁদের অনেকেই এ বছর প্রথমবারের মতো ভোট দেবেন। বার্নি স্যান্ডার্সের রাজনৈতিক বিপ্লব এঁদের কাঁধে চড়েই এত দূর এসেছে। বার্নির সমর্থক কেউ কেউ হয়তো হিলারির পক্ষে ভোট দেবেন না, বা তাঁরা হয়তো আদৌ ভোট দিতে যাবেন না। কিন্তু তাঁরা ট্রাম্পকে ভোট দেবেন, এ কথা ভাবার কোনো কারণ নেই। এই ভোটারদের হাতে রাখার জন্য হিলারি ইতিমধ্যে অনেকটা বাঁয়ে সরে এসেছেন। স্যান্ডার্সও তাঁকে পূর্ণ সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এঁরা দুজন একযোগে মাঠে নামলে তরুণ ভোটারদের অধিকাংশ হিলারির পক্ষে দাঁড়াবেন, হিলারি এই বাজি নিয়েই এগোচ্ছেন।

এ তো গেল মোট ভোটের হিসাব। গত সপ্তাহে ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প’? এই নামের কলামে ইলেকটোরাল কলেজ ভোটের গতি-প্রকৃতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জিততে হলে দরকার পড়বে অন্যূন ২৭০ ইলেকটোরাল ভোট। অধিকাংশ বিশ্লেষক একমত, এই সংখ্যা অর্জন হিলারির জন্য যত সহজ, ট্রাম্পের জন্য ততটা নয়। আমেরিকার অধিকাংশ অঙ্গরাজ্য ইতিমধ্যে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট দুই ভাগে বিভক্ত। এর বাইরে মাঝামাঝি রয়েছে ১১টি অঙ্গরাজ্য। ‘ব্যাটলগ্রাউন্ড স্টেটস’ নামে পরিচিত এই রাজ্যগুলোর ভোটের ফলাফলই নির্ধারণ করবে হোয়াইট হাউস কার কবজায় আসবে। ওবামা ২০০৮ সালে এই রাজ্যগুলোর সব কটিতে এবং ২০১২-এর নির্বাচনে ১০টি রাজ্যে বিজয়ী হয়েছিলেন। সেই একই ফলাফল ধরে রাখতে পারলে ওবামার উত্তরসূরি হিসেবে হিলারিও হয়তো তাঁর দীর্ঘদিন পুষে রাখা স্বপ্ন পূরণে সক্ষম হবেন।

নির্বাচনী প্রচারণা মাত্র শুরু হয়েছে। আগামী ১০০ দিনে বাতাস বাঁয়ে বা ডানে হেলে পড়বে না, এমন আগাম ভবিষ্যদ্বাণী করা অসম্ভব। তবে বাজি যদি ধরতেই হয়, তাহলে হিলারির নামে দু-দশ টাকা জমা রেখে দেখতে পারেন। আমি তো রাখছি।

লেখক: হাসান ফেরদৌস

মুক্তমঞ্চ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে