Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.0/5 (10 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৭-৩০-২০১৬

জঙ্গিবিরোধী ‘সর্বদলীয়’ কমিটিতে বিএনপি?

মিজানুর রহমান খান


জঙ্গিবিরোধী ‘সর্বদলীয়’ কমিটিতে বিএনপি?

ডিসি সম্মেলন শেষে ২৮ জুলাই জনপ্রশাসনমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ইঙ্গিত দিয়েছেন বা তেমন একটা ধারণা পত্রিকান্তরে এসেছে যে জঙ্গিবিরোধী প্রস্তাবিত কমিটিতে ‘বিএনপি-জামায়াত’ প্রতিনিধিরাও থাকতে পারেন। তিনি বলেছেন যে আওয়ামী লীগ দলীয়ভাবে মাঠপর্যায়ে সন্ত্রাস ও নাশকতাবিরোধী কমিটি করছে। এটা দলের সিদ্ধান্ত। কিন্তু প্রশাসন যে সন্ত্রাসবিরোধী কমিটি করতে যাচ্ছে, সেগুলো দলীয় হবে না।

আমরা মনে করি না যে এতে জামায়াতের আশ্বস্ত হওয়ার কোনো কারণ আছে। কারণ, জামায়াতকে কোনো কমিটিতেই রাখার সুযোগ নেই। বাস্তবতাও তা নির্দেশ করে না। তা ছাড়া জামায়াত তার দাঁড়ি পাল্লা নিয়ে কোথাও নির্বাচিত হওয়ারও সুযোগ পায়নি। সুতরাং আইনত তার কোনো প্রতিনিধি নেই। কিন্তু প্রশ্ন হলো, সরকারি দল বিএনপিকে কি জঙ্গিবিরোধী সর্বদলীয় কমিটিতে রাখবে? আবার বিএনপিও থাকতে চাইবে কি না, সেটাও প্রশ্ন। এই সহাবস্থান কতটা বাস্তবসম্মত?

তবে এখানে মুখ্য বিবেচ্য হলো বিএনপিকে সরকার রাখবে কি রাখবে না? কারণ, এই মুহূর্তে অনেকেই জামায়াতকে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি বলেই নয়, অন্য অনেক জোরালো কারণেও তার রাজনৈতিক পুনর্বাসন বন্ধ থাকা দেখতেই উৎসাহী। কিন্তু জটিলতা হলো ‘বিএনপি-জামায়াত’ শব্দবন্ধ নিয়ে।

একজন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক অবশ্য বলেন, সৈয়দ আশরাফকে সাংবাদিকেরা এই প্রশ্ন প্রথমে যখন করেন, তখন তিনি এড়িয়ে যান, কিন্তু দ্বিতীয় দফা যখন করেন, তখন তিনি বলেন, ‘অফকোর্স।’
দিনকাল যা পড়েছে, তাতে এটুকু উত্তরে আমরা অতিসচেতনেরা কেউ কেউ সন্দিহান থাকব, এর দ্বারা তিনি ‘সর্বদলীয় কমিটিতে বিএনপি-জামায়াতের অন্তর্ভুক্তিকে অনুমোদন দিয়েছেন কি না। এটা তাঁর দল বা সরকারের অবস্থান কি না। তবে এটা কি নিশ্চিত যে পত্রিকার খবর পড়ে ডিসিরা ‘সব দল’কে সংজ্ঞায়িত করে ওই দুই দলের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের রাখবেন?

আসলে এর সঙ্গে জটিল রাজনৈতিক প্রশ্ন জড়িত। যে প্রশ্ন অনুচ্চারিত অথচ অপ্রিয় সত্য তা হলো, ‘বিএনপি-জামায়াত’ সম্পর্কের বাতাবরণের আলোকে আওয়ামী লীগ ধর্মপ্রশ্নে তার ঐতিহাসিক পলায়নপরতাকে আড়াল করে রাখতে পারছে। বাহাত্তরের সংবিধানে ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ কীভাবে এল, আর নিজের জন্মের পরে কোরআন-সুন্নাহর পরিপন্থী আইন করব না মর্মে যা তারা বলল, সেটা তারা আজও কেন মানছে, এটা দ্বারা তারা কী করে বিএনপি থেকে নিজকে আলাদা করতে পা‌রে, তার ব্যাখ্যা আওয়ামী লীগ কখনো দেয়নি। এবারের পর্বে এই প্রশ্ন তাকে করার কেউ নেই। কিন্তু প্রশ্নটা জ্বলন্ত।

দেশি-বিদেশি বিভিন্ন মহল থেকে ‘একদলীয়’ব্যবস্থা প্রবর্তনের অভিযোগ উঠেছে। ক্ষমতাসীন দলের প্রায় সব স্তর থেকে যথারীতি ‘বিএনপি-জামায়াত’বিরোধী মনোভাব সর্বাত্মক বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। এমন অবস্থায় আমরা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের জবানিতে জঙ্গিবিরোধী লড়াইয়ে ‘বিএনপি ও জামায়াতকে’ তৃণমূলের সঙ্গে রাখার ইঙ্গিত পেলাম। অনেকে বলতে পারেন, তিনি গণতন্ত্রসম্মত উত্তর দিয়েছেন, কিন্তু তা বাস্তবসম্মত নয়। কিন্তু এ কথা অনস্বীকার্য যে এটা দীর্ঘদিন অমীমাংসিত রাখা অসমীচীন যে সমাজে তাদের মর্যাদা কী হবে। এর বিহিত না করেও দেশের রাজনৈতিক ভঙ্গুরতা ঘোচানো যাবে না।

আমরা জানি যে বাংলাদেশের রাজনীতিতে কথা ও কাজের মধ্যে বিস্তর ফারাক আছে। জামায়াত বাদ থাক, সর্বদলীয় স্থানীয় কমিটিতে বিএনপিকে রাখা হবে কি হবে না, সেটাই বড় প্রশ্ন। ধারাবাহিকভাবে কয়েকটি নির্বাচনে অন্তত ৩০ ভাগ ভোট লাভকারী কোনো দলের প্রতিনিধিত্ব বাইরে রেখে ‘সর্বদলীয়’ কমিটি তো হতে পারে না। কিন্তু বাস্তবে তা পা‌রেও!

আমি কৌতূহলের সঙ্গে বলব, বহুদিন বাদে আকারে-ইঙ্গিতে হলেও এ রকম একটি কথা মিডিয়ায় জায়গা পেল। গণতান্ত্রিক সমাজ মানে যে প্রতিপক্ষের সঙ্গে সমঝোতা, একটু আপস, একটু ভাগাভাগি, সেটা আমাদের জাতীয় রাজনীতি থেকে নির্বাসিত হতে বসেছিল। সেটা ফিরে আসছে না। কিন্তু সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম অন্তত জঙ্গিবিরোধী প্রশাসনের কমিটিতে দেশের সব দলকে রাখার বিষয়টি তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেননি!

এখন অন্য যারা ক্ষমতাসীন দল ও তাদের মিত্র হিসেবে আছে, তাদের উচিত হবে একটা কথা ভেবে দেখা। আর সেটা হলো, বিএনপির রাজনীতির যতখানি অসামঞ্জস্যপূর্ণ ও অগ্রহণযোগ্য, ততখানি বাতিল ধরে নেওয়ার অবস্থান অপরিবর্তিত রাখা আর ডিসিদের জঙ্গিবিরোধী প্রস্তাবিত সর্বদলীয় কমিটিতে বিএনপিকে রাখতে বলার মধ্যে কোনো স্ববিরোধিতা থাকে কি না। গণতন্ত্রের শর্ত কী বলে?

অবশ্য বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে একটা পার্থক্য টানাও সমীচীন। সেটা বিএনপির স্বার্থে বিএনপির তরফেই সব থেকে বেশি জরুরি। এটা তারা না করলে বিএনপির সঙ্গে পাকিস্তানি সামরিক যোগসূত্রের আশঙ্কা ও সন্দেহ সংশয় নাকচ করা কঠিনই থাকবে। এটা তারা চাইলেই এখন পারে, তা মনে করা সহজ নয়। বিধ্বস্ত জামায়াতকে ছাড়তে বিএনপির অব্যাহত অপারগতা অতিদক্ষিণপন্থী কোনো কোনো বিদেশি মহলের আশীর্বাদপুষ্ট কি না, সেটা দুর্বল প্রশ্ন নয়।

জামায়াতের অবস্থান রাজনীতিতে কী হবে, তাদের অনুসারীদের রাষ্ট্র কী শর্তে বাক্‌স্বাধীনতা দেবে, তা সংবিধান ও আইনের আওতায় একটা স্থায়ী সুরাহা হওয়াই বাঞ্ছনীয়। এ বিষয়টি কোনো ব্যক্তি বা মহলবিশেষের ইচ্ছা-অনিচ্ছা বা সংবেদনশীলতার আলোকে কিংবা তার প্রতিফলন কোনো মেঠো বক্তৃতা-বিবৃতি দিয়ে নির্দিষ্ট করার মতো নয়। জার্মান নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ সিগফ্রিড উলফ এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, বাংলাদেশে জামায়াত দুর্বল হলে আইএসও হবে। সেই লক্ষ্যে সরকারকে আরও দ্রুত হাঁটতে হবে।

জঙ্গিবাদ রুখতে হলে রাষ্ট্রকে সামর্থ্য অর্জন করতে হবে। আর সেই সামর্থ্য বাড়াতে জনগণের বিশ্বাসযোগ্য প্রতিনিধিদের মধ্যে একটা ন্যূনতম সমঝোতা লাগবেই। সর্বদলীয় কমিটিতে নিশ্চয় আত্মস্বীকৃত স্বাধীনতাবিরোধী বা উগ্র রক্ষণশীলদের রাখা যাবে না। প্রকারান্তরে স্বীকার করলেন যে শুধু গাড়িঘোড়া, গোলাবারুদ ও লোকলস্কর বাড়িয়ে এই সমস্যা মোকাবিলা করা যাবে না। তৃণমূলে সক্রিয় সর্বদলীয় কমিটি মানে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। এটা যে একটি শক্তিশালী সামাজিক রক্ষাকবচ হতে পারে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

তর্কের খাতিরে কেউ বলতে পারেন সৈয়দ আশরাফুলের সতর্ক সম্মত ধারণামতে সর্বদলীয় কমিটি গঠনকে সমর্থন, আর বিএনপি-জামায়াতের কোনো কোনো নেতার আইনানুযায়ী বিচার চলমান থাকার মধ্যে কোনো দ্বন্দ্ব থাকা উচিত নয়। যদি দ্বন্দ্ব মনে করাই হয়, তাহলে সে জন্য একটি উপযুক্ত আইনের সমর্থন দরকার। প্রচলিত কোনো আইনই সর্বদলীয় কমিটিকে প্রত্যাখ্যান করে না। আমরা আইনের আওতায় যেকোনো কিছুর আশু সুরাহার পক্ষে।

যদি আমরা আইনের শাসন মানি, তাহলে দেখব, বেগম জিয়া ও তাঁর ছেলের বিচার মানে বিএনপির বিচার নয়। জামায়াতের কতিপয় চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী নেতার শাস্তি হওয়া এবং তাকে সমর্থন করা এক বিষয়। তাদের নেতাদের বিচার আর সংগঠনের বিচারকে বলা চলে প্রায় সদর্থক। আবার জামায়াতকে স্বাধীনতাবিরোধী হিসেবে বিচার করা আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

বিএনপির দু-একজন শীর্ষ নেতাকে যুদ্ধাপরাধের দায়ে বিচার করা গেছে। কিন্তু বিএনপির প্রতিষ্ঠাতাদের কেউ যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত হননি। বিএনপিকে সংগঠন হিসেবেও বিচারের কোনো প্রশ্ন নেই। বরং সেদিন আমাকে একজন স্মরণ করিয়ে দিলেন যে জিয়াউর রহমানের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য যদি জামায়াতের পুনর্বাসনই হবে, তাহলে পঁচাত্তরে জাতির জনককে হত্যা-পরবর্তী ১৯৭৯ সালের প্রথম সাধারণ নির্বাচনে জামায়াত নামে কোনো দল নির্বাচনে অংশ নিল না কেন? বেগম খালেদা জিয়া তাঁর প্রথম সরকার গঠনে সমর্থন নিয়েও গোলাম আযমের নাগরিকত্বের মামলায় তাঁর স্বাধীনতাবিরোধিতার দলিলপত্র সুপ্রিম কোর্টে নিষ্ঠাভরে হাজির করে তাঁর ‘বিচার’ চাইলেন কেন?

প্রসঙ্গক্রমে এটা স্মরণ করলাম এ কারণে যে আজ কোনো কোনো সাংবাদিক অভিন্ন প্রশ্নের ব্রাকেটে বিএনপি ও জামায়াতকে বন্দী করেছেন। আর বিএনপির তাতে লজ্জা নেই। বিএনপির পুনর্জীবন আর সম্ভব কি না, সেটা একটা বিরাট প্রশ্ন, কিন্তু আওয়ামী লীগের জন্য না হোক, দেশের ও গণতন্ত্রের জন্য তো একটি গ্রহণযোগ্য বিরোধী দল লাগবে। রাজনীতিতে একটা শূন্যতা তো চলছে। এর প্রতিক্রিয়া ও ফলাফল কী?

ক্ষমতাসীন দলের সুশাসন দিতে না পারা আর বিরোধী দলের ভূমিকার এই শূন্যতা জঙ্গিবাদের জন্য সহায়ক বলে অনেকে মনে করেন। কিন্তু এর কোনোটিকেই দ্রুত সারিয়ে তোলা যাবে না। এটাই বড় ভয়।

তবে এ প্রসঙ্গে এটাও বলি, জামায়াতকে নিয়ে কী করা হবে আর কী করা হবে না, সেই প্রশ্নে জামায়াত, বিএনপি ও আওয়ামী লীগকে যার যার দায়িত্ব যথাসম্ভব দ্রুত সেরে ফেলা উচিত। জামায়াতকে নিষিদ্ধ করলে তারা নতুন নামে আইন মেনে আসুক, কিন্তু একে নিষিদ্ধ বা এর একটা এসপার-ওসপার করাই ভালো। যাঁরা ভাবেন তাদের যেনতেনভাবে দৌড়ের ওপর রাখলেই তারা দুর্বল হবে, সেটা বিশ্বের অন্যান্য ইতিহাস সায় দেয় না।

শুনতে ভালোই লাগবে, জামায়াত নামে স্বাধীন বাংলাদেশে কোনো দল নেই। অবশ্য আমি আগে লিখেছি, জামায়াতের ওপর মুজিবনগর সরকারের নিষেধাজ্ঞা কখনো তোলা হয়নি। সামরিক ফরমানগুলোকে যেমন, তেমনি জামায়াতকে গোড়া থেকে বাতিল (ভয়েড এবিনিশিও) গণ্য করাই সংগত। তাদের মন্ত্রিত্বও বেআইনি। নতুন নামে আসতে হলেও একাত্তরের রাজনৈতিক ভুলের জন্য তাদের অনুশোচনা ও ক্ষমাপ্রার্থনা করতে হবে। না করলে আইনের আওতায় বাধ্য করা যাবে কি যাবে না, ভাবতে হবে।

প্রস্তাবিত জঙ্গিবিরোধী কমিটিতে ঠাঁই পেতে বিএনপির এখনই জামায়াত ছাড়ার ঘোষণা উত্তম। কথিতমতে আওয়ামী লীগ আবার কী করে বসে, অতীতে কী করেছিল, সেটা তাদের বিবেচনায় নেওয়ার প্রয়োজন নেই। সেটি জনগণের ওপর ছেড়ে দেওয়াই ভালো।

আর বিএনপি-জামায়াত কী করে বা না করে, সেই ভাবনায় থেকে সরকার রাজনৈতিক দল সংস্কারে আরও দীর্ঘ সময় পার করতে পারে না। সংসদে আইনে করে ‘জামায়াতবাদ’ (প্রধানত ইসলামের অপব্যাখ্যাসংবলিত মওদুদিবাদ) নিষিদ্ধ করা থেকে তার বিরত থাকা চলবে না। জামায়াতকে শুধু নির্বাচনে বারিত করা হয়েছে, কিন্তু বর্তমান রাষ্ট্র ও সংসদের স্বীকৃত আইনের চোখে জামায়াত এখনো একটি রাজনৈতিক দল।

তাই অনেকে যুক্তি দেন যে জামায়াতকে বৈধ রেখে ক্ষমতাসীন দলের রাজনৈতিক বৈধ প্রতিপক্ষ বিএনপি, যার আইন করার কোনো এখতিয়ার নেই, এমনকি এখন সংসদের ত্রিসীমানায় যার ঠাঁই নেই, এখন তাকেই প্রকারান্তরে জামায়াত ‘নিষিদ্ধ’ করতে চাপ দেওয়া হচ্ছে। এ কথায় অতিশয়োক্তি থাকলেও এ ধারণা একেবারে ভিত্তিহীন নয়। আওয়ামী লীগ তার অপারগতা অন্যের ওপর চাপাতে পারে না। এর মধ্যে যে পলায়নপরতা আছে, তার রাজনৈতিক বোঝা, রাষ্ট্র আর বহন করতে পারছে না।

আরও বেশি দেরি হওয়ার আগে বুঝতে হবে, জাতীয় রাজনীতির মূলধারায় এ ধরনের বকেয়া সমস্যা জিইয়ে রাখলে, তাতে রাজনৈতিক পানি ঘোলাটে থেকে ঘোলাটেতর হবে। আর সেটা জঙ্গিবাদ, সামাজিক সন্ত্রাস ও নানামাত্রিক উগ্রপন্থার বিস্তারে সহায়ক হবে। বিদেশিরা তাদের স্বার্থ নিজ নিজ দেশের অনুকূলে বেশি ভালো করে হাসিল করার সুযোগ নিতে পারে।
দল আর সরকার দুটো আলাদা সত্তা। যা দলের স্বার্থ, তা সরকারের স্বার্থ না-ও হতে পারে বরং তা কখনো সংঘাতপূর্ণ হতে পারে। ডিসিরা মাঠ প্রশাসনে কী করে দল ও সরকারি প্রশাসনের মধ্যে ফারাক রাখবেন, যদি-না সেটা কেন্দ্রীয় সরকারে আদৌ না থাকে, সেটাও বিবেচনায় নিতে হবে।

তবে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে না হলেও মাঠপর্যায়ে শিথিলভাবে আপসের একটা ধারা চালু হোক। অনুকম্পায় নয়, অধিকার বলেই বিএনপি প্রতিনিধিদের কমিটিতে রাখা হোক।

আমরা যখন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও তাঁর স্বেচ্ছা নির্বাসিত ছেলেকে ‘মাইনাস’ করার কথা শুনছি, যখন বেগম খালেদা জিয়ার জাতীয় ঐক্যের ডাক, যা খুবই ইতিবাচক প্রতীয়মান হয়, তা কথিতমতে ‘নাকচ’ হওয়ার কথা শুনছি, তখন সারা দেশে আমরা জঙ্গিবিরোধী কার্যকর ‘সর্বদলীয় কমিটি’ পেতে যাচ্ছি?

সৈয়দ আশরাফের ঘোষণায় আমরা ‘জাতীয় ঐক্যের’ মানে একটা আপসরফামূলক ধারণার একটা প্রচ্ছন্ন প্রতিফলন দেখি। এত অন্ধকারের মধ্যে এটাও একটা আলোর ইশারা। 
স্থানীয় সরকারে বিএনপির প্রতিনিধি এখন অনেক কম। তাই যেসব জেলা-উপজেলায় নির্বাচিত প্রতিনিধি পাওয়া যাবে না, সেখানে তাঁদের মনোনীতদের যারা একসময় সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন, তাঁদের অন্তর্ভুক্ত করতে অগ্রাধিকার দেওয়া যেতে পারে।

লক্ষণীয় তিন দিনের সম্মেলনে কিন্তু ‘বিএনপি-জামায়াতের’ থাকা বিষয়ক কোনো নির্দেশনা ডিসিরা আনুষ্ঠানিকভাবে পাননি। তাই সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে যে অভিপ্রায় আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ব্যক্ত করলেন কিংবা সাংবাদিকদের পীড়াপিড়িতে উচ্চারণ করলেন, সেটা বাস্তবে ডিসিরা অনুসরণে উদ্যোগী হবেন বলে মনে হয় না। 

সৈয়দ আশরাফুলের ইঙ্গিত যদি দলের সিদ্ধান্ত হয়, তাহলে তা একটা গাইডলাইন হিসেবে ডিসিদের কাছে যেতে পারে। ডিসিরা ভরসা পাবেন। জনগণেরও মনোবল বাড়বে। প্রধানমন্ত্রী যে আগামী সাধারণ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে বলেছেন, সেই ধারণার মধ্যে প্রতিপক্ষ যে একেবারে বিযুক্ত বা অস্পৃশ্য নয়, চাইলে এর মাধ্যমে সে ধরনের একটা বার্তাও পৌঁছানো যেতে পারে।

আর/১০:১৪/৩০ জুলাই

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে