Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৭-৩০-২০১৬

পাক জনকের নাতি এখনও বিন্দাস ব্যবসা চালাচ্ছেন ভারতে

পাক জনকের নাতি এখনও বিন্দাস ব্যবসা চালাচ্ছেন ভারতে

নয়া দিল্লী, ৩০ জুলাই- আজও পাকিস্তানের জনক মহম্মদ আলি জিন্নার শিকড় ছড়িয়ে রয়েছে ভারতে৷ তাঁর নাতি নসলি ওয়াডিয়া সপরিবারে একেবারে বহাল তবিয়তে এদেশে ব্যবসা চালাচ্ছেন৷ নসলি হলেন জিন্নার একমাত্র সন্তান, মেয়ে দীনা ওয়াডিয়ার ছেলে এবং তিনিই আবার ওয়াডিয়া গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান, যাদের অন্যতম বিখ্যাত সংস্থা বম্বে ডাইং ৷

১৯৪৭ সালে ইংরেজরা ভারত ছেড়ে চলে যাওয়ার আগে বিভক্ত করা দিয়ে যায় ভারত এবং পাকিস্তানে৷ সেই সময় কিন্তু ‘কায়েদ-ই-আজম’ মহম্মদ আলি জিন্নার একমাত্র কন্যা দীনা পাকিস্তানে যাননি৷ উলটে তিনি থেকে গেলেন বাপু-নেহরুর ভারতেই৷ আসলে তার আগে থেকেই পিতা-পুত্রী সম্পর্ক চিড় ধরেছিল৷ আর এই জটিল সম্পর্কের কারণ দীনার বিয়ে৷ দীনা স্বেচ্ছায় এক অ-মুসলিম পাত্রকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন৷ জিন্না এমনিতে ছিলেন আপাদমস্তক সাহেব৷ কিন্তু তখন তো তিনি পাকিস্তানের দাবিদার৷ পাছে মেয়ের বিয়ে নিয়ে মুসলিম লিগ চটে যায়! বাবা মেয়ের উপর চটে গেলেন৷ জিন্না চেষ্টা করেছিলেন ওই যুবকটির থেকে মেয়ের মন সরাতে৷ কিন্তু মন কি আর সরানো যায়? দীনা নেভিল ওয়াডিয়াকে কথা দিয়েছিলেন৷ তাই কোনও চাপেই সরতে চাননি বিয়ে থেকে৷

জিন্নার সেক্রেটারি এমসি চাগলা এক সময় জানিয়েছিলেন, ওই বিয়ে ঘিরে বাবা-মেয়ের মধ্যে কম ঝগড়া, কথা কাটাকাটি হয়নি৷ ওই সময় দীনা তাঁর বাবাকে এমন প্রশ্নও করেছিলেন যা সেই সময়ের তুলনায় অবশ্যই দুঃসাহসি৷অন্তত পিতা-পুত্রীর সম্পর্কের ক্ষেত্রে তো বটেই৷ দীনার মা মরিয়াম নিজেই ছিলেন পার্সি৷ মহম্মদ আলি জিন্না প্রেম করে নিজেও একজন পার্সিকেই বিয়ে করেছিলেন৷ আর সেই তিনিই পার্সি নেভিল ওয়াডিয়ার সঙ্গে মেয়ের বিয়ে দিতে বেঁকে বসেছিলেন! এই দ্বিচারিতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছিলেন জিন্নার প্রকৃত শিক্ষিতা কন্যা৷ শোনা যায়, জিন্নার কাছে তাঁর মেয়ে দীনা জানতে চেয়েছিলেন, ‘‘ভারতের এত মুসলমান মহিলাদের কোনও একজনকে বেছে না নিয়ে কেন আপনি একজন পার্সি মহিলাকেই বিয়ে করেছিলেন?’’ এভাবেই বাপ-মেয়ের অবস্থান চলে গিয়েছিল দুই মেরুতে৷ পাকিস্তানের জনক হয়েও ব্যক্তিজীবনে জিন্না হয়ে পড়েছিলেন একাকী, বিচ্ছিন্ন৷


পিতা -পুত্রী মহম্মদ আলি জিন্না ও দিনা ওয়াডিয়া

এভাবে দেশভাগের আগেই বাবা-মেয়ের সম্পর্কে চিড় ধরে যায়৷ বম্বেতে স্বামীর সঙ্গে বসবাস শুরু করছিলেন দীনা৷ সুখী সংসার৷ কালক্রমে এক পুত্র ও একটি কন্যার জন্ম হয়৷ বাবা-মেয়ের সম্পর্কে এতটাই ফাটল ধরে গিয়েছিল যে, দেশভাগের পর পাকিস্তানের নাগরিকত্ব গ্রহণ দূরস্থান, ১৯৪৮ সালের সেপ্টেম্বরে জিন্না মৃত্যুর পর বাবার শেষকৃত্যে যাওয়ার আগে পর্যন্ত পাকিস্তানে মাটিতে পা দেননি দীনা৷ জিন্না তনয়ার দ্বিতীয় বার পাকিস্তান সফর ২০০৪ সালে, পুত্র নসলি এবং নাতি নেস ও জাহাঙ্গিরের সঙ্গে৷ সেবার লাহোরে ভারত-পাক ক্রিকেট ম্যাচও দেখেন তিনি৷ তাঁর ওই সফর ঘিরে পাকিস্তানে কৌতূহল ছিল৷ তবে তিনি কিংবা তাঁর ছেলে কেউই এই বিষয়ে সেদেশে মুখ খোলেননি৷

১৯৯৬ সালে দীনার স্বামী নেভিল ওয়াডিয়ার মৃত্যু হয়৷ ব্যবসা থেকে তিনি অবসর নিয়েছিলেন ১৯৭৭ সালেই৷ তখন থেকেই নসলি পৈতৃক শিল্পগোষ্ঠীর মাথায় বসেন৷ আপাতত পারিবারিক ব্যবসায় নসলির সঙ্গে রয়েছেন তাঁর দুই ছেলে নেস এবং জাহাঙ্গির৷

পরবর্তীকালে নানা কারণে, বিশেষ করে ধীরুভাই আম্বানির সঙ্গে লড়াইয়ের কারণে নসলি ওয়াডিয়াকে একের পর এক মামলা এবং বিতর্কে জড়িয়ে পড়তে দেখা গিয়েছে৷পাশাপাশি রয়ে গিয়েছে তাঁর ভারতের নাগরিকত্ব নিয়ে নানা প্রশ্ন৷

১৯৮৭ সালের অগস্ট মাসে সিবিআই নসলিকে গ্রেফতার করে৷ অভিযোগ ছিল, হোটেলের রেজিস্টারে তিনি নিজেকে ভারতীয় বলে দাবি করেছিলেন৷ অথচ তখন তিনি ছিলেন ব্রিটিশ পাসপোর্টেরও অধিকারী৷ বলাই বাহুল্য পিছনে রাজনৈতিক খেলা ছিল৷ তার পর ১৯৮৮ সালের এপ্রিলে তাঁর সংস্থা বম্বে ডাইংয়ের বিরুদ্ধে বিদেশি মুদ্রা নিয়ম লঙ্ঘনের জন্য নোটিশ জারি হয়৷ আবার ১৯৮৯ সালের জুলাই মাসে তাঁর ভিসা নাকচ হয়ে যায়৷ তবে পরে বম্বে হাইকোর্ট এই সরকারি সিদ্ধান্তের উপর স্থগিতাদেশ জারি করে এবং বিকল্প হিসেবে ভারতীয় নাগরিকত্ব নেন৷ এর তিন বছর পর ১৯৯৩ সালে তাঁর একদা বন্ধু অনাবাসী ভারতীয় ব্যবসায়ী রাজন পিল্লাইয়ের সঙ্গে ব্রিটানিয়ার চেয়ারম্যান হওয়া ঘিরে লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়েন তিনি৷ তখন পিল্লাইও অভিযোগ তোলেন, ভারতের নাগরিক হয়েও নসলি ব্রিটিশ পাসপোর্ট ব্যবহার করছেন৷ তখন অবশ্য নসলি ব্রিটিশ পাসপোর্ট বাতিলের ফটোকপি জমা দিয়ে এই অভিযোগের জবাব দেন৷ তবে ১৯৯৩ সালের আগস্টে নসলির বিরুদ্ধে একগুচ্ছ অভিযোগ নিয়ে কংগ্রেসের ৭০ জন সাংসদের স্বাক্ষরিত একটি চিঠি তৎকালীন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসবি চ্যবনের কাছে পাঠানো হয়৷ সেই অভিযোগগুলির মধ্যে ছিল দুটি পাসপোর্ট রাখা,অন্ধকার জগতের সঙ্গে যোগাযোগ এবং পাকিস্তানের হয়ে চরবৃত্তি৷  কংগ্রেসের এই এমপিদের অভিযোগ ছিল, মুম্বই বিস্ফোরণের পরে পরেই নসলি দুবাই গিয়েছিলেন দাউদ ইব্রাহিমের সঙ্গে দেখা করতে৷ যদিও সেই অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি৷


ওয়াদিয়া পরিবার

আসলে নিন্দুকেরা অনেক সময়ই নসলির দিকে আঙুল তুলতেন মহম্মদ আলি জিন্নার নাতি বলে৷ তবে তা নিয়ে তাঁকে কখনই বিশেষ অস্বস্তি পেতে দেখা যেত না বলেই অনেক প্রবীণ সাংবাদিকের অভিমত৷ দেশভাগকে দুঃখজনক ঘটনা বলেই নসলি মনে করেন৷ আর এর জন্য উভয় পক্ষেরই অনেক দায় আছে বলে মনে করেন তিনি৷ আশ্চর্য হলেও সত্যি, জিন্নার নাতির সঙ্গে গেরুয়া শিবিরের সম্পর্কটা কিন্তু কখনই খারাপ নয়৷ ১৯৬০-এর দশকে যখন স্রেফ গদিওয়ালা বানিয়ারা জনসঙ্ঘের ছাতায় তলায় তখন তাঁর মতো অভিজাত শিল্পপতি গেরুয়া শিবিরের সঙ্গে ভালোই যোগাযোগ রাখতেন৷ নানাজি দেশমুখের পাশাপাশি অটলবিহারী বাজপেয়ি এবং লালকৃষ্ণ আডবানির সঙ্গে জিন্নার নাতির ঘনিষ্ঠতার কথা অনেকেরই অবিদিত নয়৷

আর/১০:১৪/৩০ জুলাই

দক্ষিণ এশিয়া

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে