Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৭-২৭-২০১৬

গুলশানে আবাসিক হোটেল, তিন রেস্তোরাঁ বন্ধ

গুলশানে আবাসিক হোটেল, তিন রেস্তোরাঁ বন্ধ

ঢাকা, ২৭ জুলাই- রাজধানীর গুলশানে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে দ্বিতীয় দিনের অভিযানে একটি আবাসিক হোটেল, তিনটি রেস্তোরাঁ ও একটি গাড়ি শোরুম বন্ধ করে দিয়েছে রাজউকের ভ্রাম্যমাণ আদালত।

এছাড়া একটি বাড়ির নিচতলার পার্কিং উদ্ধার, একটি বাড়ির সামনের র‌্যাম্প এবং আরেকটির সামনে অবৈধ বার্ধিত অংশ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় গুলশান এক নম্বরের দুই নম্বর সড়ক থেকে অভিযান শুরু হয়। চলে বিকাল ৫টা পর্যন্ত।

৭ নম্বর সড়কের ১এ/২ নম্বর বাড়িটির আবাসিক অনুমোদন থাকলেও দ্বিতীয় তলা থেকে ৬ষ্ঠ তলা পর্যন্ত ‘হলিডে ভিলাগ্রাম’ নামে আবাসিক হোটেল চালানো হচ্ছিল। নিচতলায় হোটেলের রেস্তোরাঁ এবং অভ্যর্থনা।

অভিযানের সময় হোটেলের বিভিন্ন ৭টি কক্ষে অতিথি ছিল। অতিথিদের হোটেল ছাড়তে এক ঘণ্টা সময় দেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত। পরে হোটেলটির গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় আদালত।

হলিডে ভিলাগ্রাম হোটেলের মানবসম্পদ কর্মকর্তা এমএম জি ফাহাদ বলেন, “আমরা অভিযানের ব্যাপারে জানতাম না। জানলে অতিথিদের বিভিন্ন হোটেলে পাঠিয়ে দিতে পারতাম।”

এর আগে আবাসিক ভবনে বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালানোয় ২ নম্বর সড়কের  ‘থাই অ্যামারল্ড’ নামের একটি রেস্তোরাঁর গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেয় আদালত।

৮ নম্বর সড়কের ১/বি নম্বর বাড়ির নিচতলায় পার্কিংয়ের জায়গায় ‘রুচিতম’ রেস্তোরাঁ, দোতলায় ‘প্রিমিয়ার সুইটস’ কোনো কর্মকর্তাকে না পেয়ে দুটি প্রতিষ্ঠানের গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে বন্ধ করে দেওয়া হয়। এছাড়া ওই ভবনের অনুমোদনহীন বর্ধিতাংশ গুঁড়িয়ে দেয় রাজউক।

একই সড়কের ৭ নম্বর বাড়িতে ‘সালসাবিল কারস’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানেরও গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে।

গুলশান, বনানী ও বারিধারা এলাকায় ২১ কর্মদিবস ধরে অভিযান চলবে বলে জানিয়েছে রাজউক।

গত ১ জুলাই গুলশান-২ নম্বরের হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলায় ১৭ বিদেশিসহ ২০ জিম্মি নিহতের পর আবাসিক এলাকায় অননুমোদিত সব ধরনের প্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।

পরে গুলশান, বনানী ও বারিধারা এলাকা ঘুরে এ ধরনের ৫৫২টি প্রতিষ্ঠানের তালিকা করেন রাজউক কর্মকর্তারা।

তালিকায় ৩৪২টি রেস্তোরাঁ, ৬২টি আবাসিক হোটেল ও গেস্ট হাউজ, ১৬টি বার, ৫৬টি স্কুল, ৩টি কলেজ, ২৩টি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ৫০টি হাসপাতাল ও মেডিকেল সেন্টার রয়েছে।
মঙ্গলবার প্রথমদিনের অভিযানে ১০টি প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হয়েছে, যার মধ্যে রেস্তোরাঁ, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও বিউটি পার্লার রয়েছে।

বনশ্রীতে উচ্ছেদে বাধা

রাজউকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার জাকির হোসেনের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত বেলা ১১টার দিকে রামপুরার বনশ্রীতে উচ্ছেদ অভিযানে গেলে দোকানদার, বাড়ির মালিকরা বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। তারা উচ্ছেদের বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দেন।

এ সময় কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এবং বাড়ির সামনের বর্ধিত অংশ ভেঙে দেওয়া হয়। কিন্তু কোনো প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদ না করেই ফিরে যায় আদালত।

তবে দোকান ও বাড়ির মালিকরা নিজেরাই স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়ায় উচ্ছেদ চালানো হয়নি বলে রাজউকের নির্বাহী পরিচালক খন্দকার জাকির হোসেন জানিয়েছেন।

“আমরা উচ্ছেদ করতে এসেছিলাম। তারা আমাদের লিখিত প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তাদের প্রতিষ্ঠান সরিয়ে নেবেন। আমরা প্রতিষ্ঠানগুলো চিহ্নিত করে দিয়েছি। তারা না সরালে পরে আমরাই উচ্ছেদ করব।”

বনশ্রী কল্যাণ সমিতির সভাপতি আবুল কালাম জানান, মানবিক দিক বিবেচনা করেই উচ্ছেদ না করার অনুরোধ করা হয়েছে।

অননুমোদিত প্রতিষ্ঠান সরিয়ে নিতে কমপক্ষে ছয় মাস সময় লাগবে বলে জানান তিনি।

রাজউকের তথ্য অনুযায়ী, বনশ্রীতে ১২০টি অননুমোদিত প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে