Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৭-২৬-২০১৬

ডিসিদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ১৯ নির্দেশনা

ডিসিদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ১৯ নির্দেশনা

ঢাকা, ২৬ জুলাই- দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে জেলা প্রশাসকদের আরও ‘সতর্ক ও কঠোরভাবে’ দায়িত্ব পালন করতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মঙ্গলবার নিজের কার্যালয়ে জেলা প্রশাসক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও সাম্প্রদায়িকতা দূর করে সমাজজীবনের সর্বক্ষেত্রে শান্তি-শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে আপনাদের আরও সতর্কতার সঙ্গে এবং কঠোরভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।”

সেইসঙ্গে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও প্রতিবন্ধীদের প্রতি ‘বিশেষ’ দৃষ্টি দেওয়ার বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করেন প্রধানমন্ত্রী।

চার দিনের এ সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী জেলা প্রশাসকদের ১৯ দফা নির্দেশনা দেন।

           * সরকারি সেবা গ্রহণে সাধারণ মানুষ যাতে কোনভাবেই হয়রানি বা বঞ্চনার শিকার না হন, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

           * নারী ও শিশু নির্যাতন এবং পাচার, মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার, যৌতুক, উত্ত্যক্ত করা এবং বাল্যবিবাহের মত সামাজিক ব্যাধি থেকে পরিত্রাণের জন্য দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে হবে।

           * প্রতিবন্ধী, অটিস্টিক ও পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর কল্যাণে বিশেষ পদক্ষেপ নিতে হবে।

           * গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়ন, সম্ভাবনাময় স্থানীয় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনে জেলা প্রশাসকদের ব্রতী হতে হবে।

           * জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছানোর লক্ষ্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির উন্নয়ন ও বিকাশে নেতৃত্ব দিতে হবে।

           * শিক্ষার সকল স্তরে নারীশিক্ষার হার বৃদ্ধি, ছাত্র-ছাত্রীদের বিদ্যালয় ত্যাগের হার কমানো এবং ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের মূলধারায় ফিরিয়ে আনার পদক্ষেপ নিতে হবে।

           * ভূমি প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সরকারি ভূমি রক্ষায় সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।

           * কৃষি-উৎপাদন বৃদ্ধিতে সার, বীজ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি সরবরাহ নির্বিঘ্ন করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিতে হবে। পরিবেশবান্ধব কৃষি ব্যবস্থাপনাকে জনপ্রিয় করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে।

           * ভেজাল খাদ্য বাজারজাতকরণ প্রতিরোধে ব্যাপক গণসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে এবং এ ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড কঠোর হাতে দমন করতে হবে।

           * পরিবেশ রক্ষার জন্য জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং এ সংক্রান্ত আইন ও বিধি বিধানের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

           * প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বিপর্যয় প্রশমনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন এবং এ সংক্রান্ত স্থায়ী নির্দেশনা অনুসারে সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ নিতে হবে।

           * সাধারণ মানুষকে সহজে সুবিচার দিতে এবং আদালতে মামলা জট কমাতে গ্রাম আদালতগুলোকে কার্যকর করতে হবে।

           * শিল্পাঞ্চলে শান্তি রক্ষা, পণ্য পরিবহন ও আমদানি-রপ্তানি নির্বিঘ্ন করা এবং চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, পেশিশক্তি ও সন্ত্রাস নির্মূল করার ব্যবস্থা নিতে হবে।

           * ভোক্তা অধিকারকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে এবং বাজারে কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টির যে কোনো অপচেষ্টা কঠোর হাতে দমন করতে হবে।

           * নারী উন্নয়ন নীতি দৃঢ়ভাবে অনুসরণ ও বাস্তবায়ন করতে হবে। নারীর প্রতি সহিংসতা, নিপীড়ন ও বৈষম্যমূলক আচরণ বন্ধ এবং নারী ও শিশু পাচার রোধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

           * শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের লক্ষ্যে শিক্ষা, ক্রীড়া, বিনোদন ও সৃজনশীল সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। শিশু-কিশোরদের মধ্যে ইতিহাস চেতনা, জ্ঞানস্পৃহা ও বিজ্ঞানমনস্কতা জাগিয়ে তুলতে হবে।

           * মাদক বিক্রি, চোরাচালান এবং এর অপব্যবহার কঠোরভাবে বন্ধ করতে হবে।

          * পার্বত্য জেলাগুলোর উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার পাশাপাশি এ অঞ্চলের ভূ-প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য, বনাঞ্চল, নদী-জলাশয়, প্রাণিসম্পদ এবং গিরিশৃঙ্গগুলোর সৌন্দর্য সংরক্ষণ করতে হবে। পর্যটনশিল্প, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প এবং ঐতিহ্যবাহী কুটিরশিল্পের বিকাশে সর্বাত্মক সহযোগিতা দিতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তৃতায় দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, দারিদ্র্যের হার কমানো, রিজার্ভ বৃদ্ধি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন খাতের অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরেন।
সরকার যেসব প্রকল্প গ্রহণ করছে সেগুলোর বাস্তবায়ন যথাযথ হচ্ছে কি না সে বিষয়ে ডিসিদের তিনি নজর দেওয়ার আহ্বান জানান এবং হাসপাতাল ও কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো সঠিকভাবে চলছে কি না সে বিষয়ে তদারকি করতে বলেন।  

দেশে বর্তমানে দুই লাখ ৮০ হাজার মানুষ গৃহহীন জানিয়ে তাদের তালিকা করতে ডিসিদের নির্দেশ দেন তিনি।

দেশে কোনো গৃহহীন মানুষ থাকবে না- এমন আশার কথা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আপনারা বের করেন, আমরা ঘর করে দেব। প্রতিটি মানুষের ঠিকানা করে দিতে চাই।”

‘অহেতুক, অপ্রয়োজনীয়’ অর্থ ব্যয় না করে কোথায় কতটুকু প্রয়োজন তা বুঝে প্রকল্প নিতে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেন তিনি।

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে