Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 1.5/5 (2 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৭-২৬-২০১৬

মাছের তেলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে না, বরং বাড়ে

মাছের তেলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে না, বরং বাড়ে

মাছ খেলে সতেজ থাকে হৃদযন্ত্র, হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা কমে। প্রচলিত এই ধারণা আসলে ভুলে ভরা বলে জানান চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা।

মাছের তেলে রয়েছে দুই ধরনের ওমেগা-থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড এপিএ এবং ডিএইচএ। যা অ্যাস্পিরিনের মতো রক্ত তরল করতে সাহায্য করে এবং ধমনীতে জমাট বাঁধার সম্ভাবনা কমায়। গবেষণাগারের পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ওমেগা-থ্রি অ্যাসিড প্রদাহ হ্রাস করে, রক্তের প্রবাহমানতা বাড়ায়, রক্তচাপ কমায় এবং স্নায়ুতন্ত্রের কাঠামো শক্তিশালী করে।

যুক্তরাষ্ট্রের মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের জার্নালের সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে ৭০ হাজার মানুষের ওপর করা পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে, নিয়মিত মাছের তেল খেলেও হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক বা অল্পবয়েসে মৃত্যুর মতো ঘটনা ঠেকানো যাচ্ছে না। চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেন, নিয়মিত অ্যাস্পিরিন বা রক্ত তরলীকরণের কোনো ওষুধের সঙ্গে মাছের তেল খেলে রক্তবাহী শিরায় ফাটল দেখা দিতে পারে এবং নাক-মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণের মতো ঘটনাও ঘটতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, অক্সিজেনের সংস্পর্শে এসে মারাত্মক হয়ে উঠছে মাছের তেল বা তার থেকে তৈরি সাপ্লিমেন্ট। তৈলাক্ত মাছ থেকে তেল বের করতে সেগুলো পেষাই করা হয়। এরপর মাছের গুঁড়ো সূর্যের আলোতে শুকাতে হয়। এই সময় বাতাসের স্পর্শে মাছের তেল অক্সিডাইজড হয়। মাছের তেলে থাকে অক্সিডাইজড লিপিডস, যা মানুষের দেহকোষের ভিতর দ্রুত হারে পরিবর্তন ঘটায় যার জেরে ফুসফুস ও হার্ট সংক্রান্ত বিভিন্ন অসুখ দেখা দিতে পারে।

প্রশ্ন উঠছে, তাহলে মাছের তেলে হার্ট সুস্থ রাখার গল্প কী ভাবে চাউর হল? সত্তরের দশকে ডেনমার্কের দুই গবেষক ডক্টর হ্যান্স ওলাফ ব্যাং এবং ডক্টর জর্ন ডায়ারবার্গ সিদ্ধান্তে পৌঁছান, গ্রিনল্যান্ডের ইন্যুইট প্রজাতির মধ্যে হৃদরোগের সমস্যা বিরল। ওই প্রজাতির মানুষের খাদ্য তালিকায় মাছ, সিলমাছ ও তিমির দেহাংশের উপস্থিতি হৃদরোগের সম্ভাবনা দূর করেছে। মাছের তেল ও দেহাংশে উপস্থিত ওমেগা-থ্রি অ্যাসিডই এই অসাধ্য সাধন করেছে।

পরবর্তীকালে তাদের সিদ্ধান্ত ভুল প্রমাণ করেন ওটাওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডক্টর জর্জ ফোডর। তিনি প্রমাণ করেন, ইন্যুইটদের মধ্যেও হৃদরোগের সমস্যা রয়েছে। কিন্তু ততদিনে ডেনমার্কের বিজ্ঞানীদের মতবাদ হাতিয়ার করে ফুলেফেঁপে উঠেছে দুনিয়ার মাছের ব্যবসা।

এরপর নব্বইয়ের দশকে ইতালির বিজ্ঞানীরা জানান, ভিটামিন ই-র চেয়ে অনেক বেশি উপকারি মাছের তেল। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের হার্ট অ্যাসোসিয়েশন হৃদরোগীদের ঢালাওভাবে মাছের তেল খাওয়ার পরামর্শ দেয়।

আর/১৭:১৪/২৬ জুলাই

সচেতনতা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে