Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৭-২৬-২০১৬

খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনই পারে ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে

সাবেরা খাতুন


খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনই পারে ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে

যদিও ক্যান্সার হওয়ার সঠিক কারণ এখনো জানা যায়নি, কিছু গবেষণায় জানানো হয়েছে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর একটি বড় অংশই  জীবনযাপনের পছন্দের সাথে সম্পর্কিত। ধূমপান, মদ্যপান এবং ব্যায়াম না করা সার্বিক স্বাস্থ্যের উপরই প্রভাব ফেলে। সঠিক ধরণের খাদ্য গ্রহণ করা ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তেমনি অস্বাস্থ্যকর খাদ্যগ্রহণ করা ক্যান্সারের বৃদ্ধিকে উৎসাহিত করতে পারে। আপনার খাদ্যাভ্যাস ও আচরণের পরিবর্তনের মাধ্যমে ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে পারেন। ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে খাদ্য নির্দেশিকা সম্পর্কে জেনে নিব আজ।

১। তাজা খাবার খান
বিভিন্ন ধরণের উদ্ভিজ খাদ্য যেমন- ফল, শাকসবজি, বাদাম, শস্য, ডাল ইত্যাদি খাবারগুলো বেশি পরিমাণে খান। আপনার দিনের শুরুতে ফল ও বাদাম খান। গোটা শস্য দিয়ে নির্মিত খাবার দিয়ে সকালের নাশতা করুন। লেটুস, বীট, টমেটো, শশা ইত্যাদি সবজিগুলো দিয়ে সালাদ তৈরি করে খান লাঞ্চ ও ডিনারের পূর্বে। যারা পর্যাপ্ত পরিমাণে ফল ও সবজি খান তাদের তুলনায় যারা কম ফল ও সবজি খান তাদের ক্যান্সারে ভোগার সম্ভাবনা দ্বিগুণ থাকে। খাদ্যনালী, স্বরযন্ত্র ও মুখগহ্বরের ক্যান্সার থেকে সুরক্ষা প্রদান করে ফল। এটি প্রমাণিত যে, বেশি পরিমাণে ফল ও সবজি খেলে পাকস্থলী, অগ্নাশয়, মুত্রাশয়, জরায়ু ও ডিম্বাশয়ের ক্যান্সার থেকে সুরক্ষা পাওয়া যায়।

২। ফাইবার গ্রহণের মাত্রা বাড়ান
ক্যান্সারের ঝুঁকি কমানোর প্রধান উপাদান হচ্ছে ফাইবার। উদ্ভিজ খাবারে ফাইবারের পরিমাণ বেশি থাকে। ফাইবার পরিপাক তন্ত্রকে পরিষ্কার ও সুস্থ থাকতে সাহায্য করে  এবং কোন ক্ষতি করার পূর্বেই ক্যান্সার সৃষ্টিকারী যৌগকে ঠেলে বাহির করে দেয় শরীর থেকে। আপনার খাদ্যতালিকায় সাদা চালের পরিবর্তে বাদামী চাল অন্তর্ভুক্ত  করে, খোসাসহ ফল খেয়ে, আলুর চিপস এর পরিবর্তে পপকর্ণ খেয়ে ফাইবার গ্রহণের পরিমাণ বৃদ্ধি করতে পারেন। কিছু গবেষণায় পরামর্শ দেয়া হয়েছে যে, খাদ্যের মাধ্যমে ফাইবার গ্রহণ করলে ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে।

৩। প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলুন
খাদ্যের আসল রূপে যখন খাদ্য গ্রহণ করা হয় তখন তা শরীরকে অনেক বেশি সুরক্ষা দিতে পারে। যেমন- কমলার জুস পান করার চেয়ে যদি খোসা ছাড়িয়ে কমলার কোয়া খান তাহলে তা শরীরের জন্য বেশি উপকারী হবে।

৪। লাল মাংস ও ননীযুক্ত দুধ বাদ দিন
গবেষণায় দেখা গেছে যে, মাংস ভক্ষণকারীদের চেয়ে নিরামিষভোজীদের ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি ৫০ শতাংশ কম থাকে। এর কারণ দুধ ও মাংসে ফাইবার, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও পুষ্টি উপাদানের পরিমাণ কম থাকে যা ক্যান্সারের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেয়। দুধ ও মাংসে সম্পৃক্তচর্বির পরিমাণ বেশি থাকে যা ক্যান্সারের ঝুঁকি বৃদ্ধির সাথে সম্পর্কিত। কিন্তু এজন্য আপনাকে পুরোপুরি মাংস খাওয়া বাদ দিতে হবেনা। আপনার প্লেটের দুইতৃতীয়াংশ উদ্ভিজ খাবার এবং একতৃতীয়াংশ মাংস বা দুগ্ধজাত পণ্য রাখতে পারেন। মাছ বা মুরগীর মাংসে ফ্যাট কম থাকে।

৫। চর্বি নির্বাচনে সতর্ক হোন
স্যাচুরেটেড ও ট্রান্সফ্যাট স্বাস্থ্যের জন্য খারাপ, তাই সীমিত পরিমাণে গ্রহণ করুন। মাখন, ঘি, ননীযুক্ত দুধ, লাল মাংসে স্যাচুরেটেড বা খারাপ ফ্যাট থাকে। প্রসেসড ও জাঙ্ক ফুড যেমন- বার্গার, পিজা ইত্যাদিতে ট্রান্সফ্যাট থাকে। অন্যদিকে অলিভ অয়েল, রাইসব্রেন অয়েল ইত্যাদিতে আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট বা ভালো ফ্যাট যেমন- MUFA ও PUFA থাকে। আনস্যাচুরেটেড ফ্যাটের অন্য উৎস হচ্ছে- অ্যাভোকাডো, বাদাম যেমন- আখরোট, কাঠবাদাম ইত্যাদি। এছাড়াও ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড গ্রহণ করুন। কারণ এটি ইনফ্লামেশনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এবং মস্তিষ্ক ও হার্টের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। গবেষণায় জানা যায় যে, স্যাচুরেটেড ফ্যাট সমৃদ্ধ খাবারের সাথে কোলোরেক্টাল ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি সম্পর্কিত। দেহের মোট চর্বির পরিমাণ ব্রেস্ট ক্যান্সারের রিস্ক ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করে। তাই ফ্যাট গ্রহণের মাত্রা কমানোই ভালো।

৬। ক্যান্সারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে পারে এমন খাবার খান
ক্যান্সার সৃষ্টিকারী এজেন্টের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে পারার জন্য ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী হওয়া প্রয়োজন। এজন্য অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট (ভিটামিন এ, সি, ই এবং সেলেনিয়াম) এবং ফাইটোকেমিক্যাল সমৃদ্ধ রঙিন খাবার খান। এগুলো ইমিউনিটিকে শক্তিশালী করে এবং রোগের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। এ ধরণের খাবার হচ্ছে- টমাটু, ব্রোকলি, গাঁড় সবুজ শাকসবজি, আঙ্গুর, গাজর, রসুন, পেঁয়াজ ও সয়া পণ্য ইত্যাদি।

৭। পর্যাপ্ত পানি পান করুন
পানি গ্রহণের পরিমাণ বৃদ্ধি করলে শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বাহির হয়ে যায় এবং ক্যান্সার কোষ ধ্বংসে ও বৃদ্ধি প্রতিরোধে সাহায্য করে। চিনিযুক্ত কোমল পানীয় গ্রহণ পরিহার করুন, কারণ এগুলো ইনফ্লামেশন ও ক্যান্সারের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

৮। খাদ্যের পুষ্টি উপাদান সংরক্ষণ করুন
ফল ও সবজি ভালো করে ধুয়ে নিন। সবজি সিদ্ধ করুন কম পানি দিয়ে। তেল খুব বেশি গরম করলে কারসিনোজেনিক উপাদান তৈরি হয় যা ক্যান্সার সৃষ্টির জন্য দায়ী।  ঠান্ডা ও অন্ধকার স্থানে তেল রাখলে দুর্গন্ধ এড়ানো যায়। স্বাস্থ্যকর রান্নার অভ্যাস তৈরি করুন। রান্নার সময় খুব বেশি ভাজার পরিবর্তে সিদ্ধ করে বা ভাপে রান্না করুন। মাইক্রোওয়েভে প্লাস্টিকের পাত্রে খাবার গরম করবেন না।

৯। বিস্বাদ খাবার এড়িয়ে চলুন
যে খাবারের স্বাদ ও গন্ধ নষ্ট হয়ে গেছে বা ছাতা পরা খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকুন, কারণ এগুলোতে শক্তিশালী কারসিনোজেন এফ্লাটক্সিন থাকতে পারে। বাদাম ফ্রিজে রাখলে দীর্ঘদিন ভালো থাকে।      

আর/১১:১৪/২৫ জুলাই

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে