Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৭-২৫-২০১৬

উনি সবাইকে চোর বানিয়েছেন, ইনুর উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী

উনি সবাইকে চোর বানিয়েছেন, ইনুর উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা, ২৫ জুলাই- দরিদ্র জনগোষ্ঠীর টিআর ও কাবিখা প্রকল্পে ‘চুরির’ জন্য সাংসদসহ অন্যান্য জনপ্রতিনিধি ও আমলাদের দায়ী করে বক্তব্য দেয়ায় তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এক অনির্ধারিত আলোচনায় ওই সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকসূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

অনির্ধারিত আলোচনার এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘উনি (ইনু) সবাইকে চোর বানিয়েছেন। উনি তো নিজেকেও চোর বানিয়েছেন। সবাই খেলে (টিআর-কাবিখা আত্মসাৎ) উনিও খেয়েছেন।’

গতকাল রোববার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে পিকেএসএফ ভবনে ‘চতুর্থ বাংলাদেশ সামিট-টেকসই উন্নয়ন ২০১৬’ সম্মেলন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘দরিদ্রদের জন্য কর্মসূচি টিআর ও কাবিখা বরাদ্দের ৮০ শতাংশই চুরি হয়। ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ হলে ১৫০ কোটি টাকা (অর্ধেক) যায় এমপিদের পকেটে। বাকি ১৫০ কোটি টাকার সিংহভাগ যায় চেয়ারম্যান-মেম্বারদের পকেটে। আমরা চোখ বন্ধ করে এ দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিয়ে যাচ্ছি।‘

অনলাইন পোর্টালগুলোতে ওই সংবাদ প্রকাশিত হলে এ নিয়ে রাজনীতিকসহ বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

পরে রাতে তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর বক্তব্যে টিআর-কাবিখা প্রসঙ্গে প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে তার দৃষ্টি আকৃষ্ট হলে, এ বিষয়ে মন্ত্রী কোনো বিভ্রান্তি বা ভুল বোঝাবুঝি হলে বা কেউ এতে দুঃখ পেয়ে থাকলে তা অনভিপ্রেত বলে জানান এবং সেক্ষেত্রে নিজেও দুঃখপ্রকাশ করেন।’

বিবৃতিতে ইনু বলেন, ‘আমি নিজে একজন সংসদ সদস্য হিসেবে মাননীয় সংসদ সদস্যবৃন্দসহ সকল জনপ্রতিনিধিদের আন্তরিকভাবে সম্মান করি এবং সেই সম্মান অক্ষুণ্ন রয়েছে। তারপরও কেউ যদি অনভিপ্রেতভাবে দুঃখ পেয়ে থাকেন, সেজন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত।’

সোমবারের বৈঠকে মন্ত্রিপরিষদের এক সদস্য বলেন, ‘আমরা এক ছটাকও টিআর-কাবিখার গম খাই না। এটা উনি বলতে পারেন না।’ 

জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি খালেদা জিয়া ও তারেক সম্পর্কে বলতে গিয়ে ওই কথা বেখেয়ালে বলে ফেলেছি।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মন্তব্য করেন যে, ‘তির ছেড়ে দিলে এবং মুখের কথা বেরিয়ে গেলে ফিরে আসে না।’

এ আলোচনার এক পর্যায়ে তথ্যমন্ত্রী আত্মপক্ষ সমর্থন করে টিআর-কাবিখা নিয়ে তিনি এভাবে কথা বলতে চাননি বলে দাবি করেন। সে সময় কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেন, এভাবে বলিনি—এটা বলার কোনো সুযোগ নেই। যখন রেকর্ড দেখাবে, তখন কী বলবেন?

এছাড়া শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, ‘২০০৯ থেকে সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। এক ছটাক গম খেয়েছি—এ কথা কেউ বললে ও প্রমাণ করলে পদত্যাগ করব। এভাবে সবাইকে চোর বানানো ঠিক হয়নি। এ কথা বলে তিনি (তথ্যমন্ত্রী) সবাইকে ডুবিয়ে দিয়েছেন।

এ সময় সরকারের অর্জনের কথা তুলে ধরতে মন্ত্রীদের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আর/১৭:১৪/২৫ জুলাই

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে