Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 2.0/5 (2 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৭-২৫-২০১৬

শুধু পিস টিভি নয়, বিবস্ত্র চ্যানেলও বন্ধ করতে হবে

শুধু পিস টিভি নয়, বিবস্ত্র চ্যানেলও বন্ধ করতে হবে

ঢাকা, ২৫ জুলাই- মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড আয়োজিত ‘জঙ্গি প্রতিরোধে মাদরাসা শিক্ষকদের করণীয়’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় বক্তরা বলেছেন, ‘শুধু পিস টিভি বন্ধ নয়, জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে বিবস্ত্র চ্যানেলও বন্ধ করতে হবে।’ 

নৈতিক এবং ধর্মীয় শিক্ষা বৃদ্ধির পাশপাশি টিভিতে বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান কমিয়ে শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান বাড়ানোর দাবিও জানিয়েছেন তারা। এসময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।

রোববার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে মাদরসা শিক্ষাবোর্ডের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অধ্যাপক একেএম ছায়েফ উল্লাহর সভাপতিত্বে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় সারা দেশের প্রায় ১ হাজার ২০০ প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্য থেকে ৮ জন আঞ্চলিক প্রতিনিধি হিসেবে বক্তব্য দেন।

সিলেট অঞ্চলের প্রতিনিধি কমলনাথ কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ একেএম মনোয়ার আলী বলেন, ‘নৈতিক এবং ধর্মীয় শিক্ষা বাড়াতে হবে। এর জন্য এবতেদায়ী (প্রাথমিক) মাদরাসার সংখ্যা বৃদ্ধি করা জরুরি। 

শিক্ষামন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমাদের শিক্ষা দেয়া হোক; তলোয়ার নিয়ে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়বো। জঙ্গিবাদ নির্মূল করবো।’ তিনি বলেন, ‘অপসংস্কৃতির মাধ্যমে সন্ত্রাস বৃদ্ধি পাচ্ছে। সন্ত্রাস জঙ্গিবাদ ঠেকাতে শুধু পিস টিভি, বিদেশি চ্যানেল নয়, বিবস্ত্র চ্যানেলও বন্ধ করতে হবে।’

স্বাগত বক্তব্যে মাদরাসা বোর্ডের চেয়ারম্যান শিক্ষকদের উদ্দেশে বলেন, ‘নেতৃত্বের পাশপাশি শিক্ষার্থীদের নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে। শিক্ষার্থীরা যেন সঠিক জ্ঞান অর্জন করার মধ্য দিয়ে, ভুল বিষয়গুলো বুঝতে পারে এবং ধ্বংসযজ্ঞ থেকে বিরত থাকে।’ 

শিক্ষকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সবার ঐক্যবদ্ধ শক্তি দিয়ে এদেশেই জঙ্গিবাদের নৃশংসতাকে দাফন করতে পারবো, ইনশাল্লাহ।’

ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রতিনিধি মোমেনশাহী ডিএস কমিল মাদরাসার অধ্যক্ষ ড. ইদ্রিস খান বলেন, ‘মাদরসার ছাত্ররা কুরআন-হাদিস বুঝে, সে কারণে তারা বিপথগামী হয়নি।’ এ পর্যন্ত কোনো নৃশংসতায় আলাদাভাবে মাদরাসার কোনো ছাত্র-শিক্ষককে পাওয়া যায়নি বলেও দাবি করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘যারা যে সময় দেশ নিয়ে বাড়াবাড়ি করেছে এদেশের মানুষ তাদের রুখে দিয়েছে। এবারও বাংলার মাটিতে জঙ্গিদের দাফন করা হবে।’

রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের প্রতিনিধি ভবানীপুর কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ হাসান মাসুদ বলেন, ‘অল্প শিক্ষিতরাই অপকর্মে লিপ্ত হচ্ছে। এসব ঠেকাতে সবার মাঝে ধর্মীয় পরিপূর্ণ জ্ঞান ছড়িয়ে দিতে হবে।’ সবাইকে কুরআন হাদিসের আলোকে সবকিছু বুঝার জন্য আহ্বান জানান।

ঢাকা অঞ্চলের নেছারিয়া কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ কফিল উদ্দিন বলেন, ‘জঙ্গিবাদ নিয়ে বই প্রণয়ন করা দরকার। যেখানে জিহাদের পরিপূর্ণ আলোচনা থাকবে।’ যে সব শিক্ষক জঙ্গিবাদের মতো জঘণ্য কাজে জড়িয়ে পড়বে তাদের বহিষ্কারের দাবি জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘নৈতিক শিক্ষার প্রচারণা বাড়াতে হবে। এর জন্য টিভিতে বিনোদনের অনুষ্ঠান কমিয়ে শিক্ষামূলক প্রোগ্রাম বাড়ানো জরুরি।’

শিক্ষক প্রতিনিধিদের মধ্যে আরো বক্তব্য দেন- রাজশাহী অঞ্চলের মদীনাতুল উলুম কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মোকাদ্দাসুল ইসলাম, খুলনা অঞ্চলের খুলনা আরিয়া কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ আবুল খায়ের মুহাম্মদ জাকারিয়া, বরিশাল অঞ্চলের বায়তুল হুদা কামিল মাদরাসার সুপার ফারুক আহমেদ হাওলাদার, ফেনী অঞ্চলের ছাগলনাইয়া ফাযিল মাদরাসা অধ্যক্ষ হোসেন আহমেদ। 

এসময় তারা নিজেদের প্রতিষ্ঠানে নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। এদিকে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদের উদ্দেশে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের প্রতিষ্ঠানের নেতা আপনারা। জঙ্গিবাদ নির্মূলে আপনাদের দায়িত্ব নিতে হবে। সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি করবেন। শিক্ষাকে আনন্দময় করতে হবে। শিক্ষার সুন্দর পরিবশে এবং শিক্ষাগ্রহণ আনন্দময় হলে শিক্ষার্থীরা ভিন্ন পথে যাবে না।’ তিনি বলেন, ‘নৈতিক শিক্ষার মূল ভিত্তিই হলো ধর্ম। ধর্মেও প্রকৃত শিক্ষা নিশ্চিত করার দায়িত্ব আপনাদের।’
 
তিনি বলেন, ‘মুসলমানদের জ্ঞানের প্রচার করে আজকে ইহুদিরা নোবেল পাচ্ছে। যেখানে মুসলমানদের বাস সেখানেই আক্রমণ করা হচ্ছে। যা ইসলাম এবং মুসলমানদের জন্য সুখকর নয়। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে জঙ্গিবাদ নির্মূলে কাজ করার আহ্বান জানান মন্ত্রী।

জঙ্গিবাদ বিরোধী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ২৭ জুলাই মাদরসা (ফাজিল-কামিল পর্যায়) কর্তৃপক্ষ এবং ৩০ জুলাই টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে ১৭ জুলাই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং কয়েকটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের প্রতিনিধি, ২১ জুলাই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধীভুক্ত কলেজের প্রতিনিধি, ২৩ জুলাই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সারা দেশে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এবং সারা দেশে জঙ্গিবাদ বিরোধী বার্তা পৌঁছে দেয়া সম্ভব হবে বলে মনে করেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।

এছাড়াও বক্তব্য দেন, শিক্ষাসচিব মো. সোহরাব হোসাইন, অতিরিক্ত শিক্ষাসচিব (উন্নয়ন) এএস মাহমুদ, অতিরিক্ত শিক্ষাসচিব (মাদরাসা) এসএম এহসান কবীর, জমিয়াতুল মুদারেচ্ছিন বাংলাদেশের মহাসচিব সাব্বির আহমেদ মুনতাযী, মাদরাসা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক দেলোয়ার হোসেন। উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী দেওয়ান মোহাম্মদ হানাজাল, জাতীয় পাঠ্যপুস্তক ও শিক্ষাক্রম বোর্ডেও চেয়ারম্যান অধ্যাপক নারায়ন চন্দ্র সাহা। 

এফ/০৮:৫৫/২৫জুলাই

শিক্ষা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে