Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৭-২৫-২০১৬

ঘুরছে আয়শা মনিকার সাইকেল

ঘুরছে আয়শা মনিকার সাইকেল

ঢাকা, ২৫ জুলাই- ‘নর ও পিওরইট’ এর আয়োজনে গত রমজানে মুক্তি পায় একটি ‘আবেগঘন’ বিজ্ঞাপন। দেশিয় বিজ্ঞাপনের নতুন নজির সৃষ্টি করেছে ‘নর-দ্য স্পিরিট অব রমজান’ থেকে নির্মিত স্বল্পদৈর্ঘ্য ভিডিওটি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে ১ মিনিট ৪৯ সেকেন্ড ব্যাপ্তি এই ভিডিওটি শেয়ার হয়েছে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখের বেশি। রমজানে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের ভালোভাবে ইফতার করার সুযোগ তৈরি করেছে ইউনিলিভারের নর ও পিউরইট। এরই প্রচারের অংশ হিসেবে তৈরি হয়েছে ভিডিওটি। রেদওয়ান রনির পরিচালনায় এতে এক সন্তানের মায়ের ভূমিকায় অভিনয় করে সাধারণ দর্শকের মাঝে হইচই ফেলে দিয়েছেন ছোট পর্দার নির্মাতা ও অভিনয়শিল্পী আয়শা মনিকা।  


এই মেধাবী অভিনেত্রীর মিডিয়াতে আসার গল্পটি শোনাতেই প্রিয়.কমের অফিসে হাজির হয়েছিলেন তিনি। জানালেন, তার যাত্রার শুরুটা ২০০৭ সাল থেকে। মূলত ক্যামেরার পেছনে থেকেই কাজ শুরু করছেন আয়শা। ২০০৮ থেকে সহকারি পরিচালক হিসেবে কাজ শুরু। এরপর ২০১৩ থেকে কাজ করছেন বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশনের সঙ্গে। সেই সঙ্গে কাজ করেছেন টেলিফিল্ম ও খণ্ড নাটকে। কিন্তু দর্শকের কাছে সবচেয়ে বেশি আপন হয়ে ওঠেন বিজ্ঞাপনে অভিনয়ের মাধ্যমে। ইতিমধ্যেই একাধিক বিজ্ঞাপনে কাজ করে প্রিয় মুখ হিসেবে নাম অর্জন করেছেন তিনি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য পিংক সিটি, গ্রামীণফোন, ট্যাং, ডানো, ফ্রেস লবন, বাংলালিংক প্রিয়জন-এর মত বিজ্ঞাপন।


তার শুরুটা গুণী নির্মাতা গিয়াস উদ্দিস সেলিমের সহকারী হিসেবে ক্যামেরার পেছনের কাজের মাধ্যমে। বিভিন্ন নাটক ও চলচ্চিত্র পরিচালনায় সহকারী হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করার পর বিজ্ঞাপন ও নাটকের কাজে দেখা যাচ্ছে তাকে। মনিকা ক্যামেরার সামনে কাজ করছেন ২০০৯ সাল থেকে। রেহানা সামদানি কনার পরিচালনায় চ্যানেল আইয়ে প্রচারিত ‘হারিয়ে খুঁজি’ নাটকের মাধ্যমে ক্যামেরার সামনে যাত্রা শুরু হয় তার। এরপর একই পরিচালকের ‘অভিমান’ এবং দেশ টিভিতে প্রচারিত লুৎফর নাহার মৌসুমীর ‘ভজকট’ নামের ধারাবাহিকে এবং গিয়াসউদ্দিন সেলিমের ‘লোভ’ নাটকে অভিনয় করেন। ২০১২ সালে এসএ টিভিতে প্রচারিত ‘ওয়ারিশনামা’ নাটকের রুনু চরিত্রে অভিনয় করেন। এ নাটকে তার সহশিল্পী ছিলেন শ্যামল মাওলা।


অভিনয় প্রসঙ্গে মনিকা প্রিয়.কমের সঙ্গে আলাপকালে শোনালেন একটি মজার অভিজ্ঞতা। ‘মনপুরা’ চলচ্চিত্র নির্মাণের পর গিয়াসউদ্দিন সেলিম ছোটপর্দার জন্য প্রফুল্ল রায়ের গল্প অবলম্বনে নির্মাণ করেন ‘অতঃপর’ টেলিফিল্মটি। এই টেলিফিল্মের ‘রেবেকা’ চরিত্রটি মনিকাকে এনে দেয় দর্শক জনপ্রিয়তা। ‘অতঃপর’ টেলিছবিটি প্রচারের পর তিনি পেয়েছেন ব্যাপক ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া। তবে একজনের প্রশংসা তিনি মনে রাখবেন আজীবন। ঘটনাটি বলা যাক মনিকার ভাষায়। টেলিফিল্মটি প্রচারের পর পরিচালক সেলিম ভাইকে ফোন করেন অভিনেত্রী শম্পা রেজা। রেবেকা চরিত্রে অভিনয় করা শিল্পীর খোঁজ নিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘কে এই অভিনেত্রী! তার অভিনয় তো আমাকে সুবর্ণা মুস্তাফার কথা মনে করিয়ে দিল। এত সহজাত অভিনয় করা শিল্পী কোথায় পেলে!’ উত্তরে সেলিম ভাই বলেন, ‘এরা হচ্ছে আমার কালেকশনে থাকা সুগন্ধী। এদেরকে আমি বোতলে ভরে রাখি। মাঝে মাঝে ছিপি খুলে সুগন্ধ বের করে সৌরভ ছড়িয়ে দিয়ে আবার ছিপি বন্ধ করে লুকিয়ে রাখি।’


নিয়মিত অভিনয় করবেন কিনা ? এমন প্রসঙ্গে মনিকা জানান, ‘আমি সত্যিকারের একজন চরিত্রাভিনেত্রী হতে চাই। আর ক্যামেরার পেছন থেকেও অনেক কিছু শিখেছি, আরও অনেক কিছু শেখার বাকি আছে। আমি আমার এই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এখন ক্যামেরার সামনে অভিনয় করছি। আমি যখন যে কাজ করি সিরিয়াসলি করি। ভালো স্ক্রিপ্ট পেলে অভিনয় চালিয়ে যেতে চাই। অভিনয়ে একটি আলাদা নিজস্বতা তৈরি করে কাজ করতে চাই। ইন্ডাস্ট্রিতে নতুন কিছু দিতে চাই। আগামী কয়েকটা বছর অভিনয় করে যেতে চাই ভালোভাবে। নায়িকা নয়, চরিত্রাভিনেত্রী হতে চাই। কাজের প্রতি আমি শতভাগ ডেডিকেটেড। আমি আমার যোগ্যতা দেখাতে ভয় পাই না। আমাকে যদি দিনে ১৮ ঘণ্টা কাজ করতে বলা হয়, আমি সেটিও হাসিমুখে করতে রাজি আছি। মোট কথা, কাজের ক্ষেত্রে নিজেকে উজার করে নতুন কিছু তৈরি করতে চাই।’


নর ও পিওরইটের ভিডিওচিত্রটি প্রশংসিত হওয়ার পর বর্তমানে নাটকে অভিনয় ও বিজ্ঞাপনের মডেল হিসেবে বেশ প্রস্তাব পাচ্ছেন তিনি। কিন্তু তা স্বত্বেও তিনি তার লক্ষ্য ঠিক রেখেছেন। একজন পরিচালক হওয়ার লক্ষ্য ও স্বপ্ন নিয়েও আলাপ করলেন মনিকা। আয়শা মনিকা এর আগে নির্মাতা সুমন আনোয়ারের সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালনা করেছেন ‘ভাষা সন্তান’ ও ‘কালাগুল’ নামে দুটি টেলিছবি। নির্মাতা হওয়ার ইচ্ছা থেকেই এবার তিনি প্রস্তুতি নিচ্ছেন একক পরিচালনার। আর প্রথম পরিচালনার জন্য বেছে নিয়েছেন শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ছোটগল্প ‘মেজদিদি’।


এরই মধ্যে তিনি এর জন্য চিত্রনাট্যও তৈরি করে ফেলেছেন। এই চিত্রনাট্য থেকেই মনিকা একটি টেলিছবি বানাবেন। এ প্রসঙ্গে মনিকা বলেন, ‘আমার প্রথম পরিচালনার কাজটি অনেক যত্ন নিয়ে করতে চাই। ‘মেজদিদি’র চিত্রনাট্য তৈরি করার পর থেকে এখন আমি ওই গল্পের মাঝেই ডুবে আছি। আমার দৈনন্দিন সব কাজের মাঝে অষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে আছে ‘মেজদিদি’। এত দিন যা কিছু শিখেছি, তারই বাস্তবায়ন হবে এর পরিচালনায়। তবে সেটি তখনই সম্ভব হবে, যখন এই কাজটির জন্য আমি একজন প্রযোজক পাব। সবকিছু তৈরি করে আমি প্রযোজকের জন্য অপেক্ষা করছি, যিনি আমাকে আমার স্বপ্নটির বাস্তব রূপ দিতে আমাকে সাহায্য করবেন।’


আয়শা মনিকা এক সময় উপস্থাপনা করতেন টিভি ও মঞ্চে। ২০০৯-এ তিনি প্রথম উপস্থাপনা করেন চ্যানেল আইয়ের ‘পাঁচ প্যাঁচে পঁচিশ’ অনুষ্ঠান। তারপর বাংলাভিশন ও আরটিভিতে করেন ‘আমার পণ্য আমার দেশ’ নামে লাইভ মিউজিক্যাল শো। এনটিভিতে ‘ভিউয়ার্স আওয়ার’ অনুষ্ঠানে মনিকার উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানটি জনপ্রিয় হয়েছিল। পাশাপাশি তিনি নন্দন পার্কের অনেক মেগা কনসার্ট উপস্থাপনা করেন। করেছেন আই ক্রিয়েশনের অনেক অনুষ্ঠানের উপস্থাপনা। পাশাপাশি প্রাণ আপের দেশজুড়ে ক্যাম্পেইনগুলোর উপস্থাপনা করেছেন দীর্ঘদিন। এই ক্যাম্পেইন হয়েছে সাতটি বিভাগীয় শহরে। এ প্রসঙ্গে আয়শা মনিকা বলেন, ‘উপস্থাপনা করতে ভালোই লাগে। এখানে লাইভ ইন্টারেকশন হয়। দর্শকদের খুব কাছাকাছি থাকা যায়। এতে অন্যরকম আনন্দ আছে।’


অভিনেত্রী, উপস্থাপিকা, পরিচালকের বাইরেও আরও পরিচয় রয়েছে আয়শা মনিকার। খেলাধুলা ভীষণ পছন্দ করেন এই গুণী তারকা। স্কেটিং করা থেকে শুরু করে কিক বক্সিং শিখেছেন তিনি। স্পোর্টস খুব উপভোগ করেন। ড্রাইভিং ভালোবাসেন মনিকা। তবে শুধু গাড়ি নয়, পাশাপাশি সাইকেল চালান তিনি।  কোথাও যাওয়ার প্রয়োজনে নিজেই গাড়ি ড্রাইভ করেন। এমনকি গাড়ির যত্নও নিজেই নেন। হার্ডওয়ার্ক পছন্দ করেন। এই প্রসঙ্গে মনিকা বলেন, ‘আমি নিজেকে ফিট দেখতে চাই। আর ফিটনেসের জন্য খেলাধুলার চেয়ে অন্য কোন কিছুর তুলনা নেই। কাজ ও খেলাধুলা আমার ফ্রেসনেস বাড়ায়।’


অবসর সময়ে বই পড়তে ভালোবাসেন মনিকা। বেড়াতে পছন্দ করেন, গান শোনা তার জীবনের একটি অংশ। বিশেষ করে বাংলা গানে তার আসক্তি বেশি। জানালেন প্রিয় সঙ্গীত শিল্পীদের নাম। গানের প্রিয় তারকাদের তালিকায় রয়েছেন সামিনা চৌধুরী, ফাহমিদা নবী, অর্ণব, লালন সাঁই, প্রতিমা বড়ুয়া।

তারকাখ্যাতি পেয়ে নিজের দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা ভুলে যান নি আয়শা মনিকা। দেশকে ভালোবাসেন তিনি। সেই সঙ্গে সামাজিক সচেতনতামূলক কাজেও সম্পৃক্ত তিনি। পথশিশুদের নিয়ে কাজ করেন মনিকা। ব্যাপারটি জানা যাক মনিকার ভাষায়।


‘ঢাকার বসুন্ধরা ও উত্তরাতে আমার কয়েকটা বাচ্চা আছে। এদের সঙ্গে সময় কাটাতে আমি ভীষণ পছন্দ করি। তাদের লেখাপড়া, স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিষয় দেখাশোনা করি। আমি আমার বাচ্চাদের হাতে কখনও টাকা দেই না। তাদের যত প্রয়োজনীয় উপকরণ, সব আমিই কিনে দেই। সেই সঙ্গে তাদেরকে খেলাধুলার প্রতি মনোযোগী করার চেষ্টা করছি। স্কেট বোর্ডিংয়ের কথা আগেই বলেছি। আমি নিজে স্কেটিং করি তাদের সঙ্গে। মজার ব্যাপার হচ্ছে, এতে ওরা খুব পারদর্শী। খুব এনজয় করে স্কেটিং। আর স্কেটিংয়ে তাদের সাহায্য করছে এসওএস ফাউন্ডেশন। বাচ্চাদের সঙ্গে কাটানো সময় আমি খুব  উপভোগ করি। অন্যরকম স্বস্তি পাই। আমি চাই ওরা যেন মানুষ হয়, সুস্থ থাকে, সেই সঙ্গে যেন তারা খেলাধুলা প্রেমি হয়। আমি অপ্রয়োজনীয় কাজে ব্যস্ত না থেকে আমার জীবনের একটা দিন বা কিছুটা সময় দিতেই পারি। কারণ মন থেকে আমি তাদের জন্য করতে চাই।’

আর/১২:১৪/২৫ জুলাই

ঢালিউড

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে