Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 1.3/5 (3 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৭-২৪-২০১৬

চোখের ক্ষেত্রে যে বিষয়গুলো আপনার জানা উচিৎ

সাবেরা খাতুন


চোখের ক্ষেত্রে যে বিষয়গুলো আপনার জানা উচিৎ

আপনি চোখে চশমা ব্যবহার করেন বা আপনার চোখের অন্য কোন সমস্যা আছে ইত্যাদি যাই হোক না কেন আপনার চক্ষুবিশেষজ্ঞের কাছে নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করানো উচিৎ। কারণ চোখের দৃষ্টিশক্তির সমস্যা বা চোখের ইনফেকশনের ক্ষেত্রে আপনার সামান্য অবহেলাই হয়তো আপনার চোখের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে বা দৃষ্টিশক্তিও নষ্ট হয়ে যেতে পারে। চক্ষুবিশেষজ্ঞদের মতে, ১০-৬০ বছর বয়সের সকলের বছরে অন্তত ২ বার চোখ পরীক্ষা করানোর জন্য ডাক্তারের কাছে যাওয়া প্রয়োজন। চোখের যত্নের বিষয়ে আরো যে ব্যাপারে সতর্ক হওয়া উচিৎ যে সম্পর্কেই জেনে নিই চলুন।

১। কখোনোই চশমা বিক্রেতার পরামর্শে চশমা নেবেন না
একটি সাধারণ ভুল বেশিরভাগ মানুষই করে থাকেন আর তা হল, চশমার দোকানের বিক্রেতার সাথে চোখের সমস্যা নিয়ে কথা বলেন। তিনি কম্পিউটারে চোখ পরীক্ষা করেন এবং চশমা নেয়ার পরামর্শ দেন। এতে চোখের ভালো হওয়ার পরিবর্তে ক্ষতি হয় বেশি। কারণ তিনি আপনার চোখের সার্বিক অবস্থা বুঝতে পারবেন না, শুধুমাত্র  লেন্স ও গ্লাসের বিষয়েই পারদর্শী তিনি। অন্যদিকে একজন চক্ষুবিশেষজ্ঞ আপনার চোখের দৃষ্টিশক্তির সমস্যা থেকে শুরু করে আপনার রেটিনা এবং চোখের প্রেশার ও দেখবেন।

২। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চোখের পরীক্ষা করান
প্রতিসারক ত্রুটি আছে এমন শিশুদের বছরে একবার চক্ষু পরীক্ষা করানো উচিৎ। যাদের চোখে কোন সমস্যা নেই তাদের ২০ বছর বয়স হওয়ার আগ পর্যন্ত তিন বছরে একবার চক্ষু পরীক্ষা করানো উচিৎ। ২০-৪০ বছর বয়সের মানুষদের প্রতি দুই বছর অন্তর অন্তর চক্ষু পরীক্ষা করানো উচিৎ। যদি আপনার বয়স ৪০ এর বেশি হয়ে থাকে তাহলে ছয় মাস পর পর চক্ষুবিশেষজ্ঞের কাছে চোখ পরীক্ষা করাতে হবে আপনার। ডায়াবেটিক রোগীদের বছরে একবার চেকআপ করানো উচিৎ কারণ তাদের চোখে ছানি, গ্লুকোমা বা ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি হওয়ার ঝুঁকি বেশি।

৩। চোখের কোন পরীক্ষা বাদ দেয়া উচিৎ নয়
চোখের অনেক সমস্যাই নীরবে হয় এবং আস্তে আস্তে তার লক্ষণ প্রকাশ পায়। যার ফলে অনেক দেরি হয়ে যায়। তাই চোখের কোন সমস্যাকেই হালকা ভাবে নেয়া ঠিক নয় এবং নিয়মিত চেকআপ করানো উচিৎ। আপনার দৃষ্টিশক্তির কোন সমস্যা আছে কিনা তা নির্ণয়ের জন্য একটি সহজ পরীক্ষা আছে আর তা হল – আপনার ডান চোখটি হাতের তালু দিয়ে ঢেকে বাম চোখে পড়ার চেষ্টা করুন। একইভাবে বাম চোখটি ঢেকে ডান চোখে পড়ার চেষ্টা করুন। যদি পড়তে সমস্যা মনে হয় তাহলে অবিলম্বে একজন চোখের ডাক্তারকে দেখান। চক্ষু চিকিৎসক বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে আপনার সমস্যাটি চিহ্নিত করবেন এবং সেই অনুযায়ী ব্যবস্থাপত্র দেবেন অথবা আপনার সমস্যা বেশি হলে বিশেষজ্ঞ চক্ষু চিকিৎসকের কাছে আপনাকে রেফার করবেন।

৪। চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলুন
আপনার চক্ষু চিকিৎসক আপনার চোখের পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরে আপনাকে যে পরামর্শ দেবেন সেই অনুযায়ী তা মেনে চলার চেষ্টা করুন। এগুলো মেনে না চললে আপনিই সমস্যায় পড়বেন। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়, গ্লুকোমা আক্রান্ত ব্যাক্তির প্রতিদিন আই ড্রপ ব্যবহার করতে হয় এবং তা দীর্ঘদিন যাবত করতে হয়। যদি গ্লুকোমা আক্রান্ত ব্যাক্তি চোখের ড্রপ ব্যবহার করতে ভুলে যান তাহলে তার চোখের নার্ভ ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে এবং তিনি দৃষ্টিশক্তি হারাতে পারেন।

৫। কোন লক্ষণকে উপেক্ষা করবেন না
ইনফেকশনের কারণে চোখে ব্যথা হওয়া বা লাল হয়ে যাওয়া কোনটিই উপেক্ষা না করে চক্ষু ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়াই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। যদি টিভি দেখার সময় বা পড়ার সময় আপনার মাথাব্যথা হয় তাহলে তা মারাত্মক কোন স্বাস্থ্য সমস্যার জন্য কিনা তা পরীক্ষা করাতে হবে দ্রুত। তাছাড়া চোখ ফুলে গেলে, চুলকালে, লাল হয়ে গেলে অথবা চোখের ভেতরে খোঁচা অনুভব করলে অবহেলা না করে ডাক্তার দেখানো জরুরী। এছাড়াও ডাবল ভিসন বা দ্বৈত দৃষ্টির সমস্যা দেখা দিলে বিশেষ করে রাতের বেলায়, তাহলে তা ছানির সমস্যার কারণে হতে পারে। তাই  চোখের যেকোন ধরণের উপসর্গই অবহেলা করা উচিৎ নয়।

৬। ল্যাসিক সার্জারি করার পূর্বে ভালো করে জেনে নিন  
১৮ বছরের বেশি বয়সের মানুষদেরই ল্যাসিক সার্জারি করা যায়। এছাড়া এক বছর দৃষ্টিশক্তির  সমস্যায় ভুগছেন এমন ব্যাক্তির ল্যাসিক সার্জারি করা যায়। চোখের বিস্তারিত পরীক্ষার পরই  আপনার চোখ ল্যাসিক সার্জারির জন্য উপযুক্ত কিনা তা নির্ধারণ করবেন অভিজ্ঞ চক্ষু সার্জন।  চশমা ব্যবহার করেন এমন যেকোন ব্যাক্তিই ল্যাসিক সার্জারি করিয়ে দৃষ্টিশক্তি ঠিক করাতে   পারেননা।

৭। নিজে নিজে চোখের ড্রপ ব্যবহার করা বা ঘরোয়া প্রতিকারের সাহায্য নেয়া ঠিক নয়
চোখের সমস্যার ক্ষেত্রে ঘরোয়া প্রতিকারের উপর নির্ভর করা ঠিক নয়। অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়ায় বা মেয়াদোত্তীর্ণ মেকআপের পণ্য চোখে ব্যবহারের ফলে চোখ লাল হতে পারে। গরুর দুধ বা মধু চোখে ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। চোখ লাল বা খচ খচ অনুভব করলে অনেকে আই ড্রপ ব্যবহার করেন। এর ফলে ভালোর চেয়ে খারাপ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

লিখেছেন- সাবেরা খাতুন

এফ/০৮:৪৫/২৪জুলাই

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে