Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৭-২৩-২০১৬

যা কিছু করেছি, সবকিছুই আমার ব্যক্তিগত পছন্দের বাস্তব রূপ: কেলভিন ক্লেইন

Sumaiya Maria Bintay Shahid


যা কিছু করেছি, সবকিছুই আমার ব্যক্তিগত পছন্দের বাস্তব রূপ: কেলভিন ক্লেইন

নিউইয়র্ক, ২৩ জুলাই- ১৯৪২ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জন্মগ্রহন করেন বিশ্ববিখ্যাত ফ্যাশন ডিজাইনার কেলভিন ক্লেইন। ১৯৬৮ সালে নিজ নামে ফ্যাশন হাউজ চালু করেন তিনি। পোশাকের পাশাপাশি পারফিউম, ঘড়ি ও জুয়েলারির জন্যও বিখ্যাত ব্র্যান্ডের নাম হচ্ছে কেলভিন ক্লেইন। ৪৮ বছর ধরে নিজের ব্র্যান্ডের জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছেন ব্যক্তি কেলভিন ক্লেইন।

‘দ্য টকস’ ওয়েবসাইটে এবছরের মে মাসে প্রকাশিত হয় আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ফ্যাশন ডিজাইনারের সাক্ষাৎকার।পাঠকের জন্য সম্পূর্ণ সাক্ষাৎকারটি অনুবাদ করে দেয়া হল।


আপনি কি মনে করেন ফ্যাশনের মধ্যে এখনও উদ্ভাবন সম্ভব?
কেলভিন ক্লেইন:
আমি মনে করি ফ্যাশন সবসময় অগ্রগতির দিকে যাচ্ছে। এটা ধারাবাহিকতা বজায় রাখছে এবং সবসময় এটা নতুন। এটা পরিবর্তন হয়, কিন্তু এর মধ্যে উদ্ভাবনের কিছু নেই। সবকিছুই এখানে কোন না কোনভাবে সম্ভব। এবং অনেক ডিজাইনার আছেন যারা অনেক আগের দিনের ফ্যাশন থেকে অনুপ্রাণিত। তবে আমি মনে করি শেষ কয়েক দশকে ফ্যাশনে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে।

সেটা কীভাবে?
কেলভিন ক্লেইন:
আমাদের কাছে এখন জারা, এইচ এন্ড এম এবং ইউনিকলোর পোশাকগুলো আছে যেটা ১৫ বছর আগে ছিল না। এই স্টোরগুলোতে এখন অনেক সুন্দর ডিজাইনের অসাধারণ আইটেম পাওয়া যায়। এগুলো বেশ ম্যূল্যবান।

এটা কি কোন ইতিবাচক উন্নয়ন?
কেলভিন ক্লেইন:
আমি এটাকে ইতিবাচক উন্নয়নই মনে করি! আমি মনে করি এটা মানুষের পছন্দের মূল্য দিয়েছে। এটা হয়তো তাদের মূল ডিজাইন হবে না, কিন্তু এতে তারা অনেক তাৎপর্য এবং স্টাইল যোগ করতে পারে! এবং প্রতিনিয়ত তারা মার্কেটে নতুন নতুন আইটেম নিয়ে আসছে। এজন্য যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ইউরোপ এগিয়ে আছে, কারণ আমরা এখন রিটেইলারদের কাছে ঝুঁকছি। ডিজাইনারদের এসব কেনার সামর্থ্য যদি আপনার থাকে তাহলে খুবই ভাল। তবে একটি মজার ব্যাপার হচ্ছে যে, আপনি এখন যে কোন ডিজাইনের জিনিস বিভিন্ন মূল্যে কিনতে পারেন। আমি মনে করি এটা একটি ভাল পরিবর্তন এবং এটা পুরোটাই ইতিবাচক।

অনেকের কাছে আমরা অনেক অভিযোগ শুনেছি যে এইচ এন্ড এম এবং জারা অনেক দ্রুত নিজেদের ব্র্যান্ডে পরিবর্তন এনেছে। রানওয়ের জনপ্রিয় আইটেমগুলো তারা খুব দ্রুত অনুকরণ করে ফেলছে। আপনিও আপনার ক্যারিয়ারে অনেক কিছু অনুকরণ করেছেন। আপনি কি এগুলো কখনও ভেবেছেন?

কেলভিন ক্লেইন: আমি মনে করি এটা একটি কৃতিত্বের প্রতীক এবং প্রশংসাসূচক। আমি ফটোগ্রাফারদের সাথে বিজ্ঞাপন এবং প্রচারণার জন্য কাজ করেছি। একজন ফটোগ্রাফার আরেকজনকে দেখে অণুপ্রাণিত হয়, আবার তাকে অনুকরণ করে। এটা হয়। এবং এটা চাটুতা! এবং এটা জীবনের প্রত্যেক পদে পদেই হয়ে থাকে। আমি মনে করি এখানে ব্যাপারটা হচ্ছে এমন- অনেক পোশাক আছে যেগুলো অল্প মূল্যেই বাজারে পাওয়া যায় এবং রানওয়েতে সেই পোশাকগুলো এনেই সেগুলো অনেক বেশি দামেই বিক্রি করা হচ্ছে যেটা জীবনে ঘটে যাচ্ছে। আমরা এমনই এক জগতে বাস করছি; অনেকে এটাকে আবার ঠিক করতে চায়। কিন্তু তারা সবার মতো না। তারা আসলেই সবার মতো না।


আমরা জানতাম যে কেলভিন ক্লেইনের সবগুলো উপকরণই আপনি নিয়ন্ত্রণ করতেন। আপনি যখন ২০০৩ সালে আপনার কোম্পানি বিক্রি করে দিলেন তখন এটা কি আপনার জন্য কঠিন ছিল?

কেলভিন ক্লেইন: আমার প্রথম সুগন্ধি ব্যবসার নাম দিয়েছিলাম ‘অবসেশন’ কারণ এতে কাজ করার সময় এই জিনিসটা আমার মধ্যে ছিল, আমার আইডিয়া এবং এর পরিপূর্ণতার মধ্যেও। আমি প্রত্যেকটা ক্ষুদ্র অংশের উপর কাজ করেছি এবং ব্যবসায়িক দিক চিন্তা করেছি যে আমার ক্রেতা কেমনটা চাচ্ছে এবং সে অনুযায়ী আমরা কতটা করতে পারব। আমি অনেকদিন ধরে মনে করতাম ব্যবসার শুরুটা এভাবে, ‘এটাই কি এমন কিছু যা দিয়ে আমি বাকি জীবনটা পার করব?’ এবং আমি জানতাম যে এটা তা নয়। নতুন কোন পণ্য তৈরির সময় আমি আমার সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করতাম। তবে পুনরাবৃত্তিতে আনন্দ কম ছিল।

আপনি কি কখনও এর থেকে একটু দূরে থাকতে চেয়েছিলেন যাতে এর থেকে আপনার আকর্ষণ কিছুটা কমে? আপনি এটা অনেক বছর ধরেই চালিয়েছেন...
কেলভিন ক্লেইন:
এটা পুরোটাই একটা পরিবর্তন ছিল! আমি এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কয়েক বছর ধরে চিন্তা করেছিলাম। আমি মনে করি না এরকম একটি আকস্মিক পরিবর্তনের জন্য আপনারা কখনও প্রস্তুত ছিলেন, এটা আমার জন্য অনেক কষ্টকর এবং হাস্যরসহীন হয়ে উঠছিল। আমি যদি একটি ডিজাইন রুম পেতাম এবং এতে শুধুই নতুন নতুন কালেকশন তৈরি করা আমার কাজ হত, তাহলে এই কাজ আমি সারা জীবন করতে পারতাম। কিন্তু শুধু ডিজাইন স্টুডিওতে বসে কালার ও কাপড় নিয়ে কাজ করার চেয়ে বর্তমান ফ্যাশন বিশ্বে একটি সফল ব্যবসা পরিচালনা করা এবং একটি ব্র্যান্ডকে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে পরিচিত করে তোলার মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে। সুতরাং আমি অনুভব করলাম এটাকে ছেড়ে দেওয়ার সময় হয়েছে। তাই আমি এটি বিক্রি করে দিয়েছি এবং এরপর থেকে এটা আর আমার নিয়ন্ত্রনে নেই এবং আমি জানতাম তারা সেভাবে কাজ করতে পারবে না যেভাবে আমি করতাম- কারণ কেউ পারবে না!

আপনি কি এখনও এই কোম্পানিকে অনুসরণ করেন? কারণ এটা এখনও আপনার নামটাই বহাল রেখেছে...
কেলভিন ক্লেইন:
আমি এতে ভালভাবে মনযোগ দেই না। আমি স্টোরে যাই না এবং দেখি না যে তারা কি তৈরি করছে। আমি স্টোরে যেতাম না এবং দেখতামও না কে কি বানাচ্ছে। এবং এটাকে তাদের মতো যেতে দেওয়াটা খুব কঠিন কিছু ছিল না। এটা ছিল শুধু একটি সমন্বয় এবং এর কিছু অংশ ছিল অনেক সুন্দর এবং মাঝে মাঝে আমি কিছু সুন্দর মানুষকে মিস করি যাদের সাথে আমার কাজ করার সুযোগ হয়েছিল।


ফ্যাশন হাউসের একজন ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর কি একই সাথে একজন ডিজাইনার হওয়া জরুরি নাকি এখনকার দিনে শুধু দিক নির্দেশনা দেওয়া এবং ব্র্যান্ডকে উপস্থাপন করতে পারলেই চলে?
কেলভিন ক্লেইন:
ডিজাইনার হিসেবে কাজ করেনি এরকম কোন ফ্যাশন হাউসের ডিরেক্টর আমি চিন্তাও করতে পারি না। ডিজাইন স্টুডিওকে সাথে নিয়ে প্রোডাক্টটি তৈরির প্রতিটি ক্ষেত্রে আপনাকে সম্পৃক্ত থাকতে হবে। আমার মনে হয় এটা কারো জন্য অনেক কঠিন হবে যে নিজে ডিজাইনার না, কিন্তু বৃহৎ কোন কোম্পানির তত্বাবধানে কাজ করছে। ডিজাইনার হওয়া ভাল, কিন্তু আধুনিকভাবে কেউ যদি চিন্তা করে তাহলে ডিজাইন ছাড়াও সে কোন প্রোডাক্টের তত্বাবধানের দায়িত্ব নিতেই পারে।

কিন্তু সামাজিক মাধ্যমে কারো যদি আট অঙ্কের ফলোয়ার থাকে তাহলে এটা অন্যান্য ব্র্যান্ডগুলোর কাছে প্রলুব্ধকর মনে হতে পারে...
কেলভিন ক্লেইন:
আমি মনে করি না সবাই এটা জানে যে, সামাজিক মাধ্যমে এর প্রভাব কীভাবে বিস্তার করছে। যখন আমি সুগন্ধি ব্যবসা শুরু করেছিলাম তখন একজন ডিজাইনার খুব ভাগ্যবান হলে তার কাছে হয়তো একটি সুগন্ধি থাকত, কিন্তু সেই সময়েও সুগন্ধি ব্যবসা করে এটার মূল্য বিলিয়ন ডলারে নিয়ে গিয়েছিলাম। সেই সময়ে সেলিব্রেটি, মুভি স্টার এবং মিউজিসিয়ানরা ছিলেন যাদের কাছে সুগন্ধি থাকত, কিন্তু দিন শেষে তারা অন্য কোথাও যেতেন না। তারা হয়তো ভাল দু’টি বছর পেতে পারে, কিন্তু এর কোন স্থায়িত্ব নেই। এবং শুধু অনেকজন ফলোয়ার আছে বলে এটাকে আমি খুব বড় কিছু মনে করি না, কারণ তারা ভুল মানুষও হতে পারে। অনেকে আছেন যারা ৩,০০০ মার্কিন ডলার দিয়ে হ্যান্ডব্যাগ কিনে থাকে, যাতে তাদের কিম কার্দাশিয়ানের মতো দেখতে লাগে। আপনার শুধুই অর্থ আছে এবং আপনি ব্যয়বহুল জিনিস কেনার সামর্থ্য রাখেন- এর মানেই এই না যে আপনার পছন্দ ভাল।

আপনার কাস্টমারদের ভাল পছন্দ থাকা কি গুরুত্বপূর্ণ?
কেলভিন ক্লেইন:
না, আমি সবসময় মজা করেই বলি যে, আমার বানানো যে কোন জিনিস যে কেউ কিনতে পারে। এখানে কোন নিশ্চয়তা নেই! আমরা প্রায়ই ঝুঁকি নেই এবং যখনই আপনি পোশাকগুলো সেখানে রেখে দেবেন, যে কেউ হোক সেটা কিনবে। সবাই দেখতে রানওয়ে মডেলদের মতো নয়। আমি আসল নারীদের জন্য পোশাক বানাই। ফ্যাশন ম্যাগাজিন সম্পর্কে আমি বেশি কিছু চিন্তা করি না এবং ফ্যাশন ম্যাগাজিন সম্পাদকীয়তার মাধ্যমে ব্র্যান্ড তৈরি করাতেও না। আমি সরাসরি এটা তৈরিতে বিশ্বাসী। এজন্য আমি অনেক বিজ্ঞাপন দেই। আমি ঠিক করেছিলাম আমি যেটা বলতে চাই সেটা সবাইকে জানানো যা ফ্যাশন ম্যাগাজিনের চেয়ে ভাল।


এখনকার সময়ে অনেক ব্র্যান্ড শুধু বিজ্ঞাপন দেয় তাদের নাম ছড়ানোর জন্য। আপনি নিশ্চয় অন্য কোন কারণে বিজ্ঞাপন দিতেন...
কেলভিন ক্লেইন:
আমি এটা চিন্তাও করতাম না! আমাকে প্রায়ই বলা হত যে, আমরা যে ছবিগুলো তৈরি করতাম সেগুলো ম্যাগাজিনের চেয়েও বেশি মনোযোগ আকর্ষণ করত। অনেকগুলো ম্যাগাজিন এবং খবরের কাগজ- এগুলো নিজেরাই তাদের সীমাবদ্ধতা মেনে চলে। জনগনও বিরক্ত। জনগন জিনিসগুলো তাড়াতাড়ি দেখতে চায়, তারা এগুলো অনলাইনে দেখতে চায় এবং সামাজিক মাধ্যমেও যা গুরুত্বপূর্ণ।

আপনি আজও যদি সেই পদে থাকতেন, তাহলে কি এখনও প্রিন্টের বিজ্ঞাপনই করে যেতেন নাকি অনলাইনের দিকে মনোযোগ দিতেন?
কেলভিন ক্লেইন:
আমি পদক্ষেপ নিতে এবং পরীক্ষা করতে পছন্দ করি এবং হয়তো সবসময় সবকিছু কাজ করে না- কিন্তু দেখি কোনটা উপযুক্ত। আমি মনে করি আমি যদি আজও এই সেই পদে থাকতাম, তাহলে আমি ঐ একই ভাবে কাজ করতাম। আমার অনুভূতির উপর ভিত্তি করে মডেলদের নির্ধারণ করে দিতাম যেন আমি যা তৈরি করছি তারা তা উপস্থাপন করতে পারে। আমি চমকে দিতে পছন্দ করি। আমি নতুন পথ খুঁজে নিতে পছন্দ করি। এখন আমাদের অনলাইনও আছে এবং এখানে ব্যাপারগুলো হয়তো অন্য রকম। আপনাকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে আপনি নিজেকে কোথায় দেখতে চান, আপনার দর্শক কারা। তাই টেলিভিশন কিংবা প্রিন্টের চেয়ে অনলাইনে খুব বেশি পার্থক্য নেই। এবং পরিস্কারভাবে, কোন মেসেজ থেকে থাকলে অনলাইন গুরুত্বপূর্ণ।

কেলভিন ক্লেইন মেসেজটি আপনার কাছে সবসময় অনেক পরিষ্কার মনে হয়...
কেলভিন ক্লেইন:
আমি মিডিয়াকে নিজে থেকেই ব্যবহার করতাম কারণ আমি জানতাম যে, আমি কার জন্য কাজ করছি। আমি অনুভব করতাম যে, টেলিভিশনে কোন ধরণের অনুষ্ঠানগুলো মানুষ দেখে এবং কোন ম্যাগাজিনগুলো পড়ে। আমি বলছি না আমি একাই সব করতাম, তবে আমি এর সবগুলোতেই অংশগ্রহন করেছিলাম। প্রচারণার জন্য আমি ফটোগ্রাফার ও স্টাইলিস্টদের সাথে কাজ করেছি, আমি নিজেদের জন্য একটি সৃজনশীল এজেন্সি তৈরি করেছিলাম যা পরে একটি মাঝারি রকমের বিজ্ঞাপন এজেন্সিতে পরিণত হয়েছিল। আমি জানতাম যে, আমি যা অনুভব করতাম তা স্বভাবতই আমার জন্য সঠিক ছিল এবং আমি আমার পুরো ক্যারিয়ারে এটি অনুসরণ করেছি। এভাবে আমি বাস করি; এভাবেই আমি কাজ করি। আমি যা কিছু করেছি এবং আমার যা কিছু আছে তার সবকিছুই আমার ব্যক্তিগত পছন্দের একটি বাস্তব রূপ।

এফ/২২:৩০/২৩জুলাই

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে