Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 1.5/5 (2 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৭-২২-২০১৬

আবার তৃণমূলে সুমন! কটাক্ষ তসলিমার

আবার তৃণমূলে সুমন! কটাক্ষ তসলিমার

কলকাতা, ২২ জুলাই- তৃণমূলের ২১ জুলাইয়ের শহীদ দিবসের অনুষ্ঠান মঞ্চে ফেরেন জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী কবীর সুমন। গত কয়েক বছর ওই মঞ্চে তাকে দেখা যায়নি। ফিরেই মুখ্যমন্ত্রী মমতার জয়গান। বললেন, ‘আজ থেকে ৩০০ বছর পরে মমতার নামে পুজো হবে।’ 

সুমনের এ বক্তব্যে চটেছেন নারী অধিকার আন্দোলনে অগ্রসৈনিক, বারবার ‘বিতর্কে’ জড়ানো বাংলাদেশ থেকে নির্বাসিত লেখক তসলিমা নাসরিন। একসময়ের ‘সুমন চট্টোপাধ্যায়’ নাম বদলে কবীর সুমন হয়েছিলেন। একুশের মঞ্চে উঠেছিলেন টুপি পরে, তা নজর এড়ায়নি তসলিমার। মিস হয়নি মমতার দিকে ছোড়া তসলিমার তিরও!

শ্লেষ ঝেড়ে তসলিমা বললেন, ‘তৃণমূলের র‌্যালিতে গতকাল মুসলমান কবীর সুমন মাথায় টুপি পরে গীত গেয়েছেন এক মহাচোর আর এক মহারানির পক্ষে। উনি গীত ভালোই গান। তাঁর গীত শুনে বাহবা দেয়ার গাধা যে বঙ্গে কম নেই, তা তাঁর চেয়ে বেশি কেউ জানে না।’ 

এ লেখকের সাফ কথা— ‘চোরের পক্ষে তাঁর চেঁচানোটা শোনার মতো ছিল! সাধে কী আর বলে চোরে চোরে মাসতুতো ভাই!’ 

শুক্রবার (২২ জুলাই) নিজের ভেরিফাইড ফেসবুকে তসলিমা নাসরিন এক স্ট্যাটাসে লেখেন ওই কথাগুলো।

নন্দীগ্রাম-সিঙ্গুর আন্দোলনের পথ ধরে ২০০৯ সালে মমতার টিকিটে ভোটে জিতে সংসদ সদস্য হন সুমন। আর তৃণমূল রাজ্যের ক্ষমতায় আসার বছর দুয়েকের মধ্যেই প্রকাশ্যে দলকে কটু ভাষায় আক্রমণ করে বিতর্কের সূত্রপাত করেন তিনি। এর পর দল ও মমতার সঙ্গে সুমনের দূরত্ব ক্রমেই বাড়তে থাকে। এর স্বাভাবিক পরিণতিতেই ২০১৪ সালের লোকসভা ভোটে সুমনকে টিকিট দেয়নি দল।

ওই সময় তৃণমূলের শহীদ দিবসের মঞ্চে কবীর সুমন যাননি। সেই সুমনই দূরত্ব ঘুচিয়ে এ বার ফের ২১ জুলাইয়ের অনুষ্ঠানমঞ্চে হাজির হওয়াটাই ছিল যথেষ্ট বিস্ময়ের। আরও বিস্ময় ছিল তাঁর মুখে মমতার ভূয়সী প্রশংসা! 

শুধু প্রশংসাই নয়। রীতিমতো সবাইকে ভড়কে যাবার মতো কথা। ‘আজ থেকে ৩০০ বছর পরে মমতার নামে পুজো-আচ্চা হবে। মন্দিরও হতে পারে।’ এর পর বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘মোরা ঝঞ্ঝার মতো উদ্দাম’ গানটি গেয়ে শোনান সুমন। 

‘মহারানির নামে লোকে তিনশ বছর পর মন্দির বানাবে, পুজো দেবে— এই হল সুমনের ভবিষ্যৎবাণী। মহারানির নামে মাজার বানিয়ে তিনশ বছর পর মুসলমানরা শিন্নি দেবে না বলে মন্দিরে পুজো দেবে বলার দরকার কী ছিল! মুসলমানের মনে আঘাত লাগবে না বুঝি?’ সুমনকে প্রশ্ন তসলিমার।

এর পর শঙ্কা প্রকাশ করে এ নির্বাসিত লেখক বলেন, ‘তিনশ বছর পর পশ্চিমবঙ্গে হিন্দুর সংখ্যা কী দাঁড়ায় সেটা ভাবছি। হিন্দুরা সংখ্যালঘু হয়ে যাবে না তো? মন্দির বানাবার সাহস টাহস থাকবে?’

সুমনের ওপর চটেছেন ওই স্ট্যাটাসে মন্তব্যকারী অনেকেই। সুদীপ্ত ভূঁইন লিখেছেন, ‘কবীর সুমন হিন্দু থেকে মুসলিম হয়েছেন। শুধু মুসলিম বললে ভুল বলা হবে, মুসলিম মৌলবাদী। হিন্দুত্ববাদের বিরুদ্ধে একসময় প্রতিবাদও করেছেন। মৌলবাদের জারি করা ফতোয়াকে সমর্থন করেছেন। তিনি হঠাৎ মন্দির তৈরির কথা বললেন কিভাবে? আসলে একজন ভণ্ড উন্মাদ। উনার গানের কথাগুলো উনার নিজের কাছেই মৃত।’

তবে তসলিমাকেও ছাড় দেননি কেউ কেউ। তাহসিন স্যাম লিখেছেন, ‘ভালই তো উসকানি দিতে পারেন!’

যাদবপুরের সাংসদ থাকাকালে শিল্পী কবীর সুমনের ধারাবাহিক বিদ্রোহ দল ও দলনেত্রীর গলার কাঁটা হয়ে উঠেছিল। প্রশংসায় এবার দলনেত্রীর মন কতটা গলে, তা দেখার অপেক্ষায় কলকাতা।

তবে আপাতত অপেক্ষা তসলিমার ‘তিরে’ বিদ্ধ হয়ে কী ‘তির’ ছোড়েন সুমন! 

আর/১৭:১৪/২২ জুলাই

পশ্চিমবঙ্গ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে