Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 2.4/5 (7 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৭-২২-২০১৬

দুঃখের সংসারে আলোর প্রদীপ নিভে গেল

দুঃখের সংসারে আলোর প্রদীপ নিভে গেল

কেরানীগঞ্জ, ২২ জুলাই- দুঃসহ অভাব-টানাপড়েনের মধ্যেও একমাত্র মেয়ে পারুল আক্তারকে স্কুলে ভর্তি করান মা লাবণী বেগম। সংসার চালাতে তিনি ভাত রেঁধে ফেরি করে বিক্রি করেন। পারুলের বাবা হোসেন আলী একজন চা বিক্রেতা। বাবা-মায়ের কষ্টের উপার্জনেই চলছিল পারুলের পড়াশোনা। তাদের স্বপ্নও ছিল একমাত্র সন্তান পারুলকে ঘিরে। মেয়ে পড়াশোনা শিখে একদিন বড় হবে, দুঃখের সংসারে আলোর প্রদীপ জ্বলবে- এমন আশায় দিন গুনছিলেন তারা। কিন্তু সেই স্বপ্নপূরণ হলো না।

পরীক্ষায় ভালো ফলের লক্ষ্যে আল-মামুন নামে এক গৃহশিক্ষকের কাছে পড়ত তামান্না। এক পর্যায়ে তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে মামুন। সম্পর্ক নিয়ে সন্দেহ থেকে গত বুধবার মামুন লঞ্চের কেবিনে ডেকে নিয়ে পারুলকে গলা কেটে হত্যা করে। নৃশংস এ ঘটনায় এলাকায় শোকের মাতম বইছে। ঘাতক মামুনের ফাঁসির দাবিতে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে কেরানীগঞ্জের আগানগর ছোট মসজিদপাড় এলাকায় স্থানীয়রা বিক্ষোভ করেন। গতকাল বিকেলে পারুলের লাশ বাসায় নিয়ে এলে স্বজন ও প্রতিবেশীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। পারুল জিনজিরা পিএম পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী ছিল।

নিহত পারুল পিতা মোঃ হোসেন আলী বলেন, 'আমি একজন দিন মুজুর। আমি আগানগর ছোট মসজিদ রোড এলাকায় চায়ের দোকান করি। পারুল আমার একমাত্র মেয়ে। সে জিনজিরা পীর মোঃ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের নবম শ্রেনীর ছাত্রী। কি কারনে আমার মেয়ে সদরঘাট গিয়েছিল আমি জানি না। ওর স্কুলে পরীক্ষা চলছে। আজও আমার মেয়ে পরীক্ষা দিয়ে এসেছে। আমি আমার মেয়ে হত্যার বিচার চাই। খুনি আল মামুনের ফাঁসি চাই।'

মেয়ের সাথে আল মামুনের কোন প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'ভাই পারুল আমার একমাত্র মেয়ে। আমি দিন মুজুর হয়েও মেয়েকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখতাম । মেয়ে আমার বড় হবে, সুশিক্ষায় শিক্ষিত হবে। তাই এলাকার অনেক মেয়ে বাড়ির পাশে কোচিং করে সেখানে কোচিং করতে দেই। এটাই আমারা অপরাধ হয়েছে।'

পারুলের মা লাবণী বেগম বলেন, 'আমি ইসলামপুরে ব্যবসায়ীদের ভাত বিক্রি করে অনেক কষ্টে সংসার ও মেয়ের পড়াশোনার খরচ চালাই। তার পরও মেয়ের ভালো রেজাল্টের আশায় আল-মামুনকে গৃহশিক্ষক হিসেবে রাখা হয়। তিন বছর ধরে পারুলকে পড়াত সে। এই সুযোগে মেয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক করে মামুন। সে বিয়ের প্রস্তাব দিলেও এসএসসি পাসের আগে তাতে রাজি হয়নি পারুল। এ নিয়ে তাদের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হয়।' তিনি জানান, কুয়াকাটায় বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে বুধবার সকালে পারুলকে সদরঘাটে ডেকে নেয় মামুন।

এফ/১১:০০/২২জুলাই

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে