Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৭-২২-২০১৬

আইএসে সপরিবারে সাইফুল্লাহ ওজাকি

আইএসে সপরিবারে সাইফুল্লাহ ওজাকি

টোকিও, ২১ জুলাই- বাংলাদেশে নিখোঁজের তালিকায় থাকা জাপান প্রবাসী সাইফুল্লাহ ওজাকি স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে আইএসে যোগ দিয়ে সিরিয়ায় পাড়ি জমিয়েছেন বলে ধারণা করছেন জাপানি গোয়েন্দারা।

গত ১ জুলাই গুলশান হামলায় ঘরছাড়া যুবকদের জড়িত থাকার তথ্য প্রকাশের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থেকে দেওয়া নিখোঁজদের প্রথম তালিকায় সাইফুল্লাহ ওজাকির নাম আসে। পরে অনুসন্ধানে দেখা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার জিনদপুর ইউনিয়নের কড়ইবাড়ি গ্রামের জনার্দন দেবনাথের ছেলে সজিত চন্দ্র দেবনাথই এই সাইফুল্লাহ ওজাকি।

সিলেট ক্যাডেট কলেজ থেকে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় মেধা তালিকায় স্থান নিয়ে উত্তীর্ণ হয়ে ২০০১ সালে বৃত্তি নিয়ে জাপান গিয়ে ধর্মান্তরিত হন সজিত। সেখানে এক জাপানি নারীকে বিয়ে করে জাপানের নাগরিকত্ব নেন তিনি; সেখানে তাদের চার ছেলে ও এক মেয়েরও জন্ম হয়।

ধর্মান্তরের পর বাংলাদেশে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা সাইফুল্লাহ ২০১১ সালে পিএইচডি ডিগ্রি নেওয়ার পর রিসুমেকান ইউনিভার্সিটির ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে শিক্ষকতায় যোগ দিয়েছিলেন। ২০১৫ সালে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন একই বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে। তবে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অনুপস্থিত থাকায় গত মার্চে তাকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বরখাস্ত করে বলে জাপান টাইমস জানিয়েছে।

গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে কিয়োদো নিউজ জানিয়েছে, স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে ইউরোপ হয়ে সিরিয়া পাড়ি দিয়েছেন। সংবাদ সংস্থাটির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাইফুল্লাহ ওজাকি ২০১৫ সালের ১৫ মে তুরস্কের ইস্তাম্বুল হয়ে সিরিয়া যাওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। তখন জাপান ফিরে আসার পর পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল। তবে তখন উগ্রবাদী গোষ্ঠীর সঙ্গে সাইফুল্লাহ ওজাকির কোনো রকম যোগসাজশ না পাওয়ার কথা জানিয়েছিল জাপান পুলিশ।

তার দুই মাস পর সিরিয়ার ‘শরণার্থীদের সহায়তা করার’ কথা বলে ইউরোপ যান সাইফুল্লাহ। সেখান থেকে পরে স্ত্রী-সন্তানসহ তিনি সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেট অধ্যুষিত এলাকায় চলে যান বলে কিয়োদো নিউজের খবর। শিগা প্রদেশের কুসাতু সিটির রিসুমেকান ইউনিভার্সিটিতে পড়ানোর সময় সাইফুল্লাহ +81-75-466-3149 ফোন ব্যবহার করতেন বলে বিশ্ববিদ্যালয় দপ্তর জানিয়েছে। ওই টেলিফোন নম্বরে কল করলে তা এখন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের সজিতকে মেধাবী ও শান্ত স্বভাবের বলেই চিনতেন স্থানীয়রা। তার জঙ্গি সম্পৃক্ততার খবরটি পরিবারসহ এলাকাবাসীর পুরোটাই অজানা। ১৪ মাস আগে বাংলাদেশে এসে গ্রামে গিয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের বাড়িতে বাবা-মার সঙ্গে দেখা করে গেলেও তখনও তাকে নিয়ে কোনো সন্দেহ হয়নি কারও। কিন্তু তালিকায় নাম আসার পর ব্যবসায়ী জনার্দন দেবনাথ জানতে পারেন, তার ছেলে নিখোঁজ।  ছেলের জন্য তার মা প্রতিদিনই কাঁদেন বলে জানান জনার্দন।

জাপানের আর্কাইভ ডট ওরাজি ওয়েবসাইটে সজিতের নামে একটি গবেষণাপত্র পাওয়া গেছে। যোগাযোগ সাময়িকী ‘প্রোসিডা’র ২০১৫ সালের জুলাই মাসে তার একটি প্রবন্ধও প্রকাশিত হয়। এরপরই তিনি উগ্রবাদী গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের সংস্পর্শে আসেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আর/১১:১৪/২১ জুলাই

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে