Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৭-২১-২০১৬

কে এই অপরিচিতা?

রাকিবুল ইসলাম রাকিব


কে এই অপরিচিতা?

ময়মনসিংহ, ২১ জুলাই- দুই হাতে প্লাস্টিকের ফাইল। বুকে জড়িয়ে ধরে নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে। কোনো কথা নেই। কারো দিকে ফিরে তাকাবার অবসর নেই। চোখে মুখে কোনো কৌতুহল নেই। কেউ কাছে গিয়ে প্রশ্ন করলে কোনো উত্তরও নেই। কখনো মুখে ভেংচি কেটে সরে পড়েন। এমন একটি মেয়েকে চোখে পড়ছে গৌরীপুর পৌর শহরের হারুন পার্ক এলাকায়। বেশ কদিন ধরে নামহীন সেই মেয়েটি সেখানে অবস্থান করছে।

মেয়েটিকে ঘিরে শহরের মানুষের মনে নানা কৌতুহল ঘুরপাক খাচ্ছে। তারা জানতে চায় কে এই অপরিচিতা মেয়ে? কী তার পরিচয়? কেনোই বা সে এখানে এসেছে?

স্থানীয় এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত ১০ থেকে ১২ দিন ধরে এই মেয়েটিকে পৌর শহরের বিভিন্ন স্থানে ঘোরাঘুরি করতে দেখা যাচ্ছে। মেয়েটির বয়স ২০ থেকে ২২ বছরের মতো হবে। গায়ের রং উজ্জল শ্যামলা, উচ্চতা ৫ ফুটের উপরে, পরনে সালোয়ার-কামিজ। দু হাতে দুটি ফাইল বুকে জড়িয়ে রেখে মেয়েটি চলাফেরা করে। রাতের বেলায় মেয়েটি শহরের বিভিন্ন দোকান-পাটের বারান্দায় ঘুমায়। প্রায় রাতেই উঠতি কিছু যুবক হায়েনাদের মতো তাড়া করে মেয়েটিকে। তখন এদিক-সেদিক ছোটাছোটি করে নিজেকে রক্ষা করে সে। কিন্তু মেয়েটির বিষয় নিয়ে প্রশাসনেরও কোনো উদ্যোগ নেই।

মঙ্গলবার (১৯ জুলাই) মধ্যরাত। শহরের বেশিরভাগ দোকান-পাট বন্ধ হয়ে গেছে। মেয়েটি পৌর শহরের পাটবাজারে একটি দোকানে বারান্দায় ঘুমের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। আর একটু দূরেই উঠতি বয়সের ৩ থেকে ৪টি যুবক মেয়েটির দিকে তাকিয়ে কী যেন ফিসফিস করছিল। পরে পাহারাদারের তাড়া খেয়ে ওরা পালিয়ে যায়।

পাহারাদার নুরুল ইসলাম বলেন, ‘মেয়েটিকে নিয়ে আমরা খুব বিপদে আছি। মেয়েটি নীরব জায়গায় গেলেই উঠতি বয়সের যুবকরা তার পিছু নেয়। তাই এখান থেকে তাড়াতেও পারচ্ছি না।’

মেয়েটির সাথে কথা বলে জানা যায়, তার নাম প্রিয়া। বাবার নাম মোয়াজ্জেম হোসেন। বাড়ি ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার গয়েসকিলা মধ্যপাড়ায়। কখনও বলে সাভার ইপিজেডে। আবার কখনও বলে জিরাবন এলাকায়। নিজেকে গার্মেন্ট কর্মী বলে জানায় সে।

এখানে কেনো এসেছেন জানতে চাইলে এই প্রশ্নের কোনো উত্তর দেয় না সে। বাড়ি যাওয়ার জন্য বললে সেখানেও যেতে রাজি হয়নি। ৩ ভাই, ৩ বোন তারাও নাকি গার্মেন্ট কর্মী। দুটি ফাইল বুকে জড়িয়ে রাখলেও কাউকে তা দেখায়নি। একটি খাতায় সাংকেতিক চিহ্ণের কিছু লেখা রয়েছে। এগুলোর মানে কী তা জানতে চাইলেও এর কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

খুব ক্ষুধার্ত বলায়, স্থানীয় সাংবাদিক রইছ উদ্দিন তার রাতের খাবারের ব্যবস্থা করেন। এরপর কিছুটা স্বাভাবিক আচরণ করেন মেয়েটি। তবে কোনো প্রশ্নের উত্তর দেননি।

স্থানীয়রা জানান, মেয়েটিকে নিয়ে শহরে নানা প্রশ্ন জন্ম নিচ্ছে। গুলশান ও শোলাকিয়া ঘটনার পর এই মেয়েটির উপস্থিতি কারও ধারণা সে ‘গোয়েন্দা’। কারো মতে, জঙ্গি কানেকশন আড়াল করতেও এই ছদ্মবেশ নিতে পারে।

অধিকাংশ প্রত্যক্ষদর্শীর মতে, সে মানসিক ভারসাম্যহীন। রাতের বেলায় একা একা ঘোরাঘুরি করায় যেকোনো মুহূর্তে পাশবিক নির্যাতনের মতো অপ্রীতিকর ঘটনার শিকার হওয়ার শঙ্কা রয়েছে!

গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আবু মো. ফজলুল করিম বলেন, ‘মেয়েটির বিষয়ে আমাদের জানা নেই।’ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মর্জিনা আক্তার জানান, মেয়েটিকে নিরাপদ হেফাজতে নেয়ার জন্য সমাজসেবা কর্মকর্তার মাধ্যমে উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

এফ/১৭:০২/২১জুলাই

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে