Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৭-২১-২০১৬

ব্রিটেনে দণ্ডিত জঙ্গির ভাই নিখোঁজের তালিকায়

গোলাম মুজতবা ধ্রুব


ব্রিটেনে দণ্ডিত জঙ্গির ভাই নিখোঁজের তালিকায়

ঢাকা, ২১ জুলাই- সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ থেকে নিখোঁজদের যে তালিকা র‌্যাব দিয়েছে তার মধ্যে একজনের ভাই ব্রিটেনে আত্মঘাতী হামলা পরিকল্পনায় দণ্ডিত হয়েছিলেন পাঁচ বছর আগে।

তেহজীব করিম (৩৩) নামের এই যুবক গত ১৭ জুলাই শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে নিখোঁজ হন বলে তার পরিবারের ভাষ্য। তার মেঝ ভাই রাজিব করিম বর্তমানে যুক্তরাজ্যের কারাগারে। ব্রিটিশ এয়ারওয়াজের এই কর্মীকে ২০১১ সালে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দেয় দেশটির একটি আদালত।

ইয়েমেনের উগ্রপন্থি মুসলিম নেতা আনওয়ার আল আওলাকির ‘ভক্ত’ রাজীব যুক্তরাষ্ট্রগামী একটি উড়োজাহাজ বোমা ফাটিয়ে উড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন বলে তার বিরুদ্ধে মামলায় বলা হয়েছিল।

২০১০ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাজিব যখন গ্রেপ্তার হন, সে সময় ইয়েমেনে ছিলেন তার ছোট ভাই তেহজীব। রাজিব-তেহজীবের বাবা জয়নুল করিমের পৈত্রিক বাড়ি ঢাকার গ্রিনরোডে। এক সময় গার্মেন্টসহ কয়েকটি ব্যবসা চালালেও এখন কিছু করছেন না তিনি।

জয়নুল বুধবার বিকালে বলেন, থাইল্যান্ডের ইন্টারন্যাশনাল হাউস নামের একটি প্রতিষ্ঠানের অধীনে ডেল্টা টিচিং (ইংরেজি শিক্ষা বিষয়ক) কোর্সের জন্য তেহজীব গত ১৩ মার্চ ব্যাংকক যান। ইংরেজি ছাড়াও হিন্দি ও আরবি ভাষা জানতেন তেহজীব।

১৭ জুলাই বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দরে নামেন তিনি। এরপর মোবাইলে গাড়িচালকের সঙ্গে কথা হলেও পরে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় একটি জিডি করা হয়েছে বলে জানান তেহজীবের বাবা। র‌্যাব মঙ্গলবার নিখোঁজ ২৬১ জনের যে তালিকা দিয়েছে তাতে ২৪ নম্বরে তেহজীবের নাম রয়েছে।

ওই তালিকায় ছেলের নাম দেখে জয়নুল করিম বলেন, “তারা যে তালিকা দিয়েছে সে অনুযায়ী নিখোঁজ সবার পূর্ণ তথ্য প্রকাশ করা হোক। অবিলম্বে তাদের খুঁজে বের করা হোক।” তেহজীব বাংলাদেশের কোনো কর্তৃপক্ষের কাছে আছে বলে ধারণা করছেন তিনি।

জয়নুল করিম বলেন, তার মেঝ ছেলে রাজিব যুক্তরাজ্যে গ্রেপ্তার হওয়ার পর তার সঙ্গে একবার ঢাকায় ব্রিটিশ দূতাবাসে গিয়েছিলেন তেহজীব। “বড় ভাইয়ের বিষয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছিল তাকে।”

তিনি জানান, ঢাকার স্কলাসটিকা থেকে ‘এ লেভেল’ শেষ করে তেহজীব একই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও তার বাল্যবন্ধু সীরাহ রশীদকে বিয়ে করেন। “এরপর আমাকে না জানিয়ে কয়েক মাসের জন্য একবার পাকিস্তান যায়। পরে পরিবার নিয়ে ইয়েমেন ঘুরে আসে।”

এরপর সেখানে শিক্ষকতার জন্য ২০০৯ সালের ডিসেম্বরে ইয়েমেনে গিয়ে পরের বছর ডিসেম্বরে দেশে ফেরে। এরমধ্যে তেহজীব সেখানে আট মাস কারাগারে ছিলেন বলে জানান তার বাবা।

তিনি বলছেন, “ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়া এবং সেখানকার বৈরী রাজনৈতিক পরিবেশের মুখোমুখি হয়ে ওই দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হয় তেহজীব। সে সময় দেশটিতে আরও অনেক বিদেশি নাগরিক আটক হন।”

জয়নুল করিম জানান, এক সময় ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকলেও কোনো পদে ছিলেন না তিনি। ১৯৯০ সালে বিএনপিতে যোগ দিয়ে দলীয় মনোনয়ন চেয়েও পাননি। পরে সুনামগঞ্জ থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে হেরে যান।

“আমি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিলেও কোনো সনদ নিইনি। ছাত্র ইউনিয়নের মতিয়া চৌধুরীপন্থি অংশের সমর্থক ছিলাম। পরে ওই পক্ষের লোকেরা আওয়ামী লীগে যোগ দিলেও আমি দিইনি।” গ্রীনরোডের ১৪৯ নম্বরের ‘স্বপ্নীল’ নামের বাড়িটিতে তেহজীবের দাদা ফজলুল করিম থাকতেন, যিনি করিম ইন্ডাস্ট্রিজের মালিক ছিলেন।

তেহজীবরা তিন ভাই, বড় ভাই আতিক করিম ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর লন্ডনের একটি বহুতল ভবনের ছাদ থেকে পড়ে ‘দুর্ঘটনায়’ মারা যান। তার সঙ্গে ব্যবসায়ী সালমান এফ রহমানের একমাত্র মেয়ে শামায়লা রহমানেরও মৃত্যু হয়।

এফ/০৯:২৯/২১জুলাই

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে