Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 1.5/5 (2 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৭-২১-২০১৬

জঙ্গি হামলার ঝুঁকিমুক্ত নয় মসজিদ-মাদ্রাসা-দরগা

জঙ্গি হামলার ঝুঁকিমুক্ত নয় মসজিদ-মাদ্রাসা-দরগা

ঢাকা, ২১ জুলাই- রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারি ও কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ঈদগাহে হামলার মতো বড় দুটি ঘটনার পর দেশে এ ধরনের আরও জঙ্গি হামলার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। রাষ্ট্রীয় একটি গোয়েন্দা সংস্থার আশঙ্কা, দেশের বড় বড় ও ঐতিহ্যবাহী কওমি মাদ্রাসা, বড় ধরনের মসজিদ, দরগা ও মাজারগুলোও জঙ্গি হামলার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। পাশাপাশি কওমি মাদ্রাসার আলেমরাও আশঙ্কা করছেন, সালাফি মতবাদের তীব্র বিরোধিতার কারণে বাংলাদেশের বড় কওমি প্রতিষ্ঠানগুলো জঙ্গিদের আক্রমণের শিকার হতে পারে।

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, আদর্শিকভাবে জঙ্গিরা উগ্রপন্থী হওয়ায় সাধারণ আলেমদের অপছন্দ করে। এরইমধ্যে সারা দেশে কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক ধর্মভিত্তিক দলগুলো জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাস ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে কর্মসূচি দেওয়ায় তাদের ক্ষোভ বেড়েছে। এক্ষেত্রে প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে প্রসিদ্ধ আলেমদের পরিচালিত কওমি মাদ্রাসায় বোমা হামলা ও গ্রেনেড হামলা চালানোর পরিকল্পনা নিতে পারে জঙ্গিরা।

সূত্রের দাবি, মুসল্লির বেশে ও কওমি মাদ্রাসার ছাত্রদের লেবাস ধরে মাদ্রাসায় অবস্থানের চেষ্টা করতে পারে জঙ্গিরা। এক্ষেত্রে সবচেয়ে সহজ হিসেবে তাবলিগ জামাতকে ব্যবহার করার পথটি বেছে নেবে তারা।

তাবলিগে যাওয়ার কোনও নিয়ম নীতি নেই বলেই এ পথ ধরবে উগ্রপন্থীরা। পাশাপাশি দরগা-মাজারে হামলার শঙ্কাও প্রকাশ করেছেন সরকারের প্রভাবশালী একটি গোয়েন্দা সূত্র।

একই সূত্রের দাবি, ইতোমধ্যে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে কর্মসূচি পালন করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, তরিকত ফেডারেশনসহ কয়েকটি ধর্মভিত্তিক দল। ‘ইসলামে উগ্রবাদের স্থান নেই এবং ইসলাম জঙ্গিবাদে বিশ্বাসী না’ জানিয়ে কর্মসূচিও দিয়েছে এই দলগুলো। জঙ্গি হামলা ও সালাফি মতবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে ইসলামী ঐক্যজোটসহ কওমিধারার দলগুলো। এসব কারণে রাজধানীর মোহাম্মদপুর, লালমাটিয়া, বড় কাটারা, লালবাগ, মালিবাগ, বারিধারা, বসুন্ধরা এলাকায় স্থাপিত বড় ইসলামি প্রতিষ্ঠানগুলোয় হামলা চলতে পারে। এছাড়া ঢাকার বাইরে চট্টগ্রামের হাটহাজারী, পটিয়া, দারুন নদওয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দুটি খ্যাতনামা মাদ্রাসা, কিশোরগঞ্জ, সিলেট, ফরিদপুর, খুলনা, রাজশাহী এলাকার বড় মাদ্রাসাগুলোর ওপরও হামলার হুমকি রয়েছে।

হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলাবাদী বলেন, ‘আমরা তো আশঙ্কার মধ্যে আছি। সারাদেশে উগ্রপন্থীরা হামলার হুমকি দিচ্ছে, মাদ্রাসাও তো এর বাইরে নয়। তবে নিরাপত্তার দায়িত্ব পুলিশের। আমরা সহযোগিতা করব। আমি মনে করি, মাদ্রাসার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আরও সক্রিয় হওয়া উচিত।’


মাজারে হামলার বিষয়ে বারবার সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন সরকারদলীয় জোটের শরিক তরিকত ফেডারেশনের মহাসচিব এম এ আউয়াল এমপি। তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি আমরা সংবাদ সম্মেলন করে এবং জাতীয় সংসদে বক্তব্যের মাধ্যমে মাজার ও দরগাগুলোর নিরাপত্তার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। অতীতেও মাজারে হামলা হয়েছে।’

কওমি মাদ্রাসার কয়েকজন আলেম বলছেন, ‘জঙ্গিবাদীদের রাজনৈতিক দর্শন সালাফি মতবাদের হওয়ায় হানাফি মাজহাবের অনুসারী কওমি মাদ্রাসা ও সাধারণ মসজিদের ওপর হামলা হতে পারে। হলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। সালাফি মতবাদের অন্তত আটটি গ্রুপ রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম একটি হচ্ছে উগ্রবাদ; যারা সিরিয়াকেন্দ্রিক কার্যক্রম শুরু করে কয়েক বছর আগে। আইএসও উগ্র সালাফি মতবাদের অনুসারী বলে মনে করেন বাংলাদেশের কওমি আলেমরা।’  

ঈদের দিন শোলাকিয়া ঈদগাহে মুসল্লিদের ওপর হামলার চেষ্টায় আলেমদের চিন্তা বাড়িয়ে তুলেছে। সরকারপন্থী আলেম হিসেবে পরিচিত মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদের সঙ্গে মতবিরোধ থাকলেও সহিংস কোনও ঘটনাকে গ্রহণ করেন না মাদ্রাসার আলেমরা। সেক্ষেত্রে শোলাকিয়ার হামলাকে নিজেদের ওপর হামলার প্রাক-ঘটনা হিসেবে দেখছেন তারা। এছাড়া রমজান মাসে মহানবী হযরত মুহাম্মদ সা. এর পবিত্র রওজা শরিফের পাশে বোমা হামলাও মানসিকভাবে আক্রান্ত করছে আলেমদের।

ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব ও লালবাগ জামিয়া কোরআনিয়া আরাবিয়ার সিনিয়র শিক্ষক মুফতি ফয়জুল্লাহ বলেন, ‘আমি জানি, তারা (জঙ্গিরা) সালাফি মতবাদের অনুসারী। তারা সালাফি মতবাদ প্রচার করেন।’

ফয়জুল্লাহ জানান, ড. জাকির নায়েক ও তার অনুসারীরা চার ইমামের মাজহাব যেমন মানেন না, তেমনি জেএমবি, জসিম উদ্দীন রাহমানী, ফাঁসিতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শায়খ আবদুর রহমান, বাংলা ভাই- তারাও সালাফি মতবাদের অনুসারী ছিলেন।

উগ্রপন্থীরা মানবজাতির শত্রু, ফলে তারা মাদ্রাসা-মসজিদ কেন, পুরো মানবজাতিকেই আক্রমণ করতে পারে-এমন শঙ্কার কথা জানালেন মসজিদ মিশনের সেক্রেটারি ড. খলিলুর রহমান মাদানী। মাদানী বলেন, ‘ইসলাম উগ্রপন্থাকে সহ্য করে না। ফলে আমরা এর বিরোধিতা করি। এ কারণে মাদ্রাসা বা মসজিদ, যেখানেই আলেমরা থাকবে সেখানেই হামলার চিন্তা তাদের থাকতে পারে।’

হামলার শঙ্কার কথা জানান শোলাকিয়া ঈদগাহের খতিব মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদও। তিনি বলেন, ‘ঈদগাহে হামলা করেছে। এই বিপথগামীরা তো মাদ্রাসা ও মসজিদে হামলা করবেই।’

প্রভাবশালী গোয়েন্দা সূত্র জানান, ইতোমধ্যে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষকারী বাহিনীর মাধ্যমে ধর্মীয় ও আক্রমণের শিকার হতে পারে এমন প্রতিষ্ঠানগুলোয় সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

সূত্রটি আরও জানায়, ঢাকার বড় কয়েকটি মসজিদ, চট্টগ্রামের জাতীয় মসজিদ, বাগেরহাটের ষাট গম্বুজ মসজিদসহ প্রসিদ্ধ মসজিদগুলোয় জঙ্গি আক্রমণের আশঙ্কায় আগেই সতর্ক অবস্থান নেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে উগ্রপন্থীরা তাবলিগ জামাতকে ব্যবহারের চেষ্টা করতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, কওমি মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, ২০০২-০৩ সালের দিকে হরকাতুল জিহাদ রাজধানীর একটি মাদ্রাসায় কার্যক্রম শুরু করলে ওই মাদ্রাসার একজন শিক্ষক, যিনি প্রয়াত শায়খুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হকের আত্মীয় ছিলেন, ওই শিক্ষক তাদের কর্মকাণ্ডে বাধা দেন। এরপর হরকতের কয়েকজন কর্মী লালমাটিয়ায় ওই আলেমের মসজিদে ঢুকে তাকে মারধর করে। প্রয়াত মুফতি ফজলুল হক আমিনীও হরকতের বিরোধিতা করতেন বলে তার বিরুদ্ধে বিষোদগার করতো হরকতকর্মীরা।


ছাত্রবেশে তাবলিগ জামাতকে ব্যবহারের চেষ্টার আশঙ্কা গোয়েন্দা সূত্র জানায়, তাবলিগ জামাতে প্রবেশ করে মুসল্লি বেশে শোলাকিয়া ঈদগাহের মতো হামলা হতে পারে। ধর্মীয় প্রচারাভিযানে সংযুক্ত তাবলিগ জামাতের রিক্রুটিং সিস্টেমের সুযোগ নিয়ে জঙ্গিরা তাবলিগে যুক্ত হয়ে সাধারণ মুসল্লিদের সঙ্গে মিশে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ইতোমধ্যে এক চিল্লা, দুই চিল্লার নামে একাধিক জঙ্গি তাদের বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার খবরও প্রকাশিত হয়েছে।

সূত্রের দাবি, অপরাধ করে তাবলিগে পালিয়ে থাকা সবচেয়ে সহজ। ইতোমধ্যে সরকারি জোটের শরিক তরিকত দাবি করেছে, তাবলিগ জামাতের মাধ্যমে আমাদের দেশে অনেক বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকরা প্রবেশ করেন। তাদের জবাবদিহিতার মধ্যে আনা হয় কিনা বা রাষ্ট্রের কাছে তাদের পূর্ণ তথ্য আছে কি না, এসব বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছে দলটি।

তবে বাংলাদেশ তাবলিগের মজলিসে শূরার সদস্য অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘আমরা ইসলামের দাওয়াত দিই। শান্তির বাণী শোনাই। আমরা আক্রমণের কথা ভাবি না। এ ধরনের হুমকি আছে বলেও মনে করি না।’

তবে তাবলিগের একটি সূত্র জানায়, তাবলিগের আরেক আমির ওয়াসিফুল ইসলামের ছেলে উসামার বিরুদ্ধে জঙ্গিবাদ ছড়ানোর অভিযোগ রয়েছে। উসামা বিভিন্ন সময় পার্বত্য অঞ্চলে ট্রেনিং নিয়েছেন বলেও দাবি করে সরকারি একটি গোয়েন্দা সংস্থা। গত বছরের শুরুর দিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উসামার ট্রেনিং সংক্রান্ত ছবিও প্রকাশ পায়।

সূত্রের দাবি, তাবলিগ প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ইসলামের দাওয়াত দিলেও এর রিক্রুটমেন্ট পদ্ধতি সহজ হওয়ায় জঙ্গি ও উগ্রবাদীরা লাভবান হতে পারে। ফলে তাবলিগের মুরুব্বীদের সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।

আর/১১:১৪/২০ জুলাই

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে