Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 2.9/5 (14 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৭-১৮-২০১৬

কে প্রথম: সিদ্দিক, শাহানা, নাকি ডন!

দেবব্রত মুখোপাধ্যায়


কে প্রথম: সিদ্দিক, শাহানা, নাকি ডন!

যতদূর মনে পড়ে, বছর সাত-আটেক আগে কাজী শাহানা পারভীনকে নিয়ে একটা ফিচার করেছিলাম। বিষয়টাই ছিলো, ‘বাংলাদেশের প্রথম অলিম্পিয়ান।’

অলিম্পিকে তো বাংলাদেশের এর আগে অনেকেই অংশ নিয়েছেন। ১৯৮৪ সালে ডন, ১৯৮৮ সালে শাহ আলম, শাহান উদ্দীন অলিম্পিকে অংশ নেন। কিন্তু শাহানাকে ‘প্রথম’ বলার কারণ ছিলো, তিনি শুট্যিংয়ে কোয়ালিফাইং স্কোর করে অংশ নিয়েছিলেন ১৯৯২ সালের অলিম্পিকে। সে সূত্রে বলা যায়, বাংলাদেশ থেকে নিজ যোগ্যতায় অলিম্পিকে অংশ নেওয়া ‘প্রথম’ ক্রীড়াবিদ কাজী শাহানা পারভিন। 

সমস্যাটা হলো সিদ্দিকুর রহমান গতকাল রাতে রিও অলিম্পিকের জন্য কোয়ালিফাই করে ফেলার পর। আমরা লিখলাম, সিদ্দিক হলেন বাংলাদেশ থেকে সরাসরি অলিম্পিকে অংশ নেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করা প্রথম ক্রীড়াবিদ। 

তাহলে কোনটা সত্যি?
মীমাংসাটা জানার জন্য কৌতুহল থেকেই ফেসবুকে আমার গুরুস্থানীয় ক্রীড়া সাংবাদিকদের জিজ্ঞাসা করলাম ব্যাপারটা। সিনিয়ররা প্রায় সবাই একই ধরণের মত দিলেন। বললেন, বিশেষ অর্থে শাহানাই প্রথম। কিছু বিতর্কও হলো এবং হচ্ছে। 

এরই মধ্যে বাংলাদেশের ক্রীড়া সাংবাদিকতার প্রবাদ পুরুষ দিলু খন্দকার ফোন দিয়ে তার চিরায়ত ভঙ্গিতে বললেন, ‘দেবু শোনো, প্রথম বললে সাইদুর রহমান ডনকে বলবে।’

আরেকটা নতুন ক্লাইমেক্স। তাহলে দেশের প্রথম অলিম্পিকে অংশ নেওয়া ক্রীড়াবিদ সাইদুর রহমান ডনই ছিলেন ‘প্রথম সরাসরি যোগ্যতা অর্জন করা ক্রীড়াবিদ’!

অন্তত দিলু ভাই তেমন দাবি করছেন।

এরপর আজ প্রায় সারাটা দিন খোজ খবর করে আমি একটা চিত্র দাড় করানোর চেষ্টা করেছি। এটাও হয়তো পূর্নাঙ্গ চিত্র নয়। তারপরও এই ব্যাপারগুলো মাথায় রেখে নিশ্চয়ই আরেকটু শক্ত করা যাবে আমাদের অলিম্পিক ইতিহাস। 

চলুন, আমরা একটু পয়েন্ট করে করে ডন, শাহানা ও সিদ্দিকের বিশেষত্বটা দেখে নেই:

সাইদুর রহমান ডন
দক্ষিণ এশিয়ায় তখনকার দ্রুততম মানব ডন এমনিতেই প্রাতঃস্মরনীয় দেশের প্রথম অলিম্পিয়ান হিসেবে। ১৯৮৪ সালে লস এঞ্জেলস অলিম্পিকে ১০০ মিটার স্প্রিন্টে অংশ নেন তিনি। প্রথম পর্বে আট নম্বর হিটে ১১.২৫ সেকেন্ড সময় নিয়ে অষ্টম তথা, হিটের শেষ জন হিসেবে দৌড় শেষ করেছিলেন। 

তারপরও ডন বিরাট গর্বের ব্যাপার আমাদের জন্য। তার কল্যানেই প্রথম অলিম্পিকের মতো মহাক্রীড়াজজ্ঞে বাংলাদেশের লাল সবুজ পতাকা বহন করেছিলেন তিনি। 

তবে দিলু খন্দকার বললেন, কৌশলগত কারণে ডনকে নিয়ে আমরা আরেকটু গর্ব করতে পারি, ‘তখন তো ওয়াইল্ড কার্ড ব্যাপারটাই ছিলো না। ডন তখন দক্ষিণ এশিয়ার সেরা দৌড়বিদ হিসেবে সুযোগ পেয়েছিলো। সাতারু মোশাররফ ভাইও সুযোগ পেয়েছিলেন। কী এক জটিলতায় তিনি অংশ নিতে পারেননি।’

ফলে কৌশলগতভাবে ডন একাধারে দেশের প্রথম অলিম্পিয়ান এবং সরাসরি খেলার যোগ্যতা অর্জন করাও প্রথম অলিম্পিয়ান!

কাজী শাহানা পারভীন
ডনের ব্যাপারটার মধ্যে একটু কৌশলগত ব্যাখ্যা ছিলো। তার সময়ে বাছাইপর্ব না থাকাতে তাকে ওয়াইল্ড কার্ডের মুখোমুখিই হতে হয়নি। এরপর থেকে যারা অংশ নিলেন, তাদেরকে ওই ওয়াইল্ড কার্ড নামের বিশেষ বিবেচনাপত্র নিয়েই অলিম্পিকে যেতে হলো। 

কিন্তু ১৯৯০ সালে, বার্সেলোনা অলিম্পিকের দু বছর আগে একটা নতুন ঘটনা ঘটালেন শাহানা। তিনি অলিম্পিক শ্যুটারদের জন্য ঘোষিত ন্যুনত স্কোর (৩৭৫) পার করে ফেললেন জুরিখ বিশ্বকাপে। ফলে শাহানা অলিম্পিকে খেলার যোগ্যতা অর্জণ করে ফেললেন। ব্যাপারটা এখানেই সীমিত থাকলে আজ তো সিদ্দিকুর রহমানের প্রসঙ্গই আসতো না। 

সমস্যা হলো, শ্যুটারদের এই সর্বনিম্ন স্কোর তাদের অলিম্পিকে খেলার নিশ্চয়তা দেয় না। এটা বলে, এর ফলে তুমি ওয়াইল্ড কার্ড চাইতে পারবে। ফলে অলিম্পিকে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেও ওয়াইল্ড কার্ড নিয়েই যেতে হলো শাহানাকে। 

সিদ্দিকুর রহমান; অবশেষে
সিদ্দিকের বিশেষত্ব কী?
কোনো কৌশলগত হিসাব ছাড়াই অলিম্পিকে সরাসরি খেলার সুযোগ পাওয়া প্রথম বাংলাদেশী ক্রীড়াবিদ সিদ্দিকুর রহমান। শর্ত ছিলো যে, র‌্যাংকিংয়ের সেরা ষাটে থাকলেই সেই গলফার এবার রিও অলিম্পিকে যাবেন। সিদ্দিক কাট লাইন শেষ করেছেন ৫৬ নম্বরে। 

ব্যাস, আসলেই ইতিহাস গড়ে ফেলেছেন সিদ্দিক। 

আলোচনা শেষ। এবার একটা দুঃখের কথা বলি। 

আমাদের সাংবাদিকদের কেনো এই ‘প্রথম’ খুজতে এরকম স্মৃতি হাতড়াতে হবে, পরষ্পরকে ফোন করতে হবে? এই সার্বজনীন খবরটা রাখার কাজ কী আমাদের!

এটা একটা রেকর্ড আকারে সংরক্ষিত রাখার কথা অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের। তাদের খোজ আছে? সাংবাদিকরা স্মৃতির ওপর ভর করে চেষ্টা করছেন সঠিক তথ্যটা বের করার। সাংবাদিকের দায় রেকর্ড সংরক্ষন করা নয়। তিনি তার মতো করে তথ্য রাখবেন, সেটা সার্বজনীন হবে না। সার্বজনীন রেকর্ড রাখতে উপযুক্ত কতৃপক্ষ। 

বাংলাদেশের খেলাধুলায় কতৃপক্ষের অভাব নেই। শত শত ফেডারেশন, হাজার হাজার কর্মকর্তা। কিন্তু কিছু একটা জানতে চান, আকাশ থেকে পড়েন তারা। আমি নিশ্চিত টেবিল টেনিস ফেডারেশনের লোকেরা বলতে পারবে না, জোবেরা রহমান লিনুর রেকর্ডটা আসলে কী! তেমনই আপনি বডি বিল্ডিং ফেডারেশনে গিয়ে জানতে পারবেন না, সবচেয়ে বেশীবার মিস্টার বাংলাদেশ কে হয়েছেন। 

এদের কথা বাদ দিন। ফুটবল ফেডারেশন আজও জানাতে পারেনি, জাতীয় দলের হয়ে সবচেয়ে বেশী গোল কার? কেউ বলেন আলফাজ, কেউ বলেন এমিলি! আজব ব্যাপার। 

আমাদের সবচেয়ে ‘স্মার্ট’ ক্রিকেট বোর্ডের অবস্থা কেমন? সবচেয়ে খারাপ। 

বাংলাদেশে এক মৌসুমে সবচেয়ে বেশী রান কার? লিমিটেড ওভার ক্রিকেটে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ রান কার? সেরা বোলিং ফিগার কার? কারো জানা নেই। অনেক অনুমান ও স্মৃতি আছে। সব আমাদের প্রবীন সাংবাদিকদের টুকে রাখা কিছু তথ্য আছে। 

এভাবেই চলছি আমরা। এভাবেই চলছে খেলাধুলা।

আর/১০:৩৪/১৭ জুলাই

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে