Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 2.9/5 (41 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৭-১৫-২০১৬

তিস্তার ভাঙ্গন: নীলফামারীতে নদী গর্ভে বিলীন ৮ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সহ বিভিন্ন স্থাপনা

আব্দুর রাজ্জাক


তিস্তার ভাঙ্গন: নীলফামারীতে নদী গর্ভে বিলীন ৮ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সহ বিভিন্ন স্থাপনা

নীলফামারী, ১৫ জুলাই- তিস্তা নদীর বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথে তীব্র ভাঙ্গন শুরু হয়েছে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নে। গত কয়েকদিনে ওই ইউনিয়নের ৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১টি উচ্চ বিদ্যালয়, ১টি কিন্টার গার্ডেন, ২টি কমিউনিটি ক্লিনিক, ১টি বিজিবি ক্যাম্প, ১টি বাজার, ১০টি গ্রামের প্রায় ৫শ পরিবারের বসত ভিটা, রাস্তাঘাট, পুল-কালভার্ট সহ বহু আবাদী জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, জেলার ডিমলা উপজেলার টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের চরখড়িবাড়ী গ্রামের চরখড়িবাড়ী মধ্য সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, টাপুর চরের ১নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ৬ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জিঞ্জির পাড়ার টেপাখড়িবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয় ও ওই গ্রামের ৩৯ ফিট একটি ব্রীজ উদ্বোধনের আগেই বন্যা ও ভাঙ্গনের কবলে পরে পুরোটাই বিধ্বস্থ হয়ে গেছে।

এছাড়া বিএডিসির নির্মিত ১৭ফিট ১টি ব্রীজ, জিঞ্জির পাড়ায় এলজিইডি’র নির্মিত ৭০ফিট ১টি ব্রীজ ও পূর্বখড়িবাড়ী এলাকায় এডিপির অর্থায়ানে নির্মিত ১০ ফিট একটি ব্রীজসহ ওই ইউনিয়নের ১০টি গ্রামের ৫শ পরিবারের বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

উপজেলা প্রশাসন ও এলাকার মানুষজন স্বেচ্ছাশ্রমে বালির বস্তা, বাঁশ ও গাছের পাইলিং করেও ভাঙ্গনের কবলে পড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ক্লিনিক, বাজার, বিজিবি ক্যাম্প রক্ষা করতে পারেনি। ভাঙ্গনের কবলে পড়ে দিনে দিনে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানগুলোর শেষ চিহ্ন টুকুও।

গত সোমবার বিকেলে টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের টেপাখড়িবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়টি ভাঙ্গনে পড়ে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফাতেমা খাতুন জানান, সোমবার বিদ্যালয়টি ৪০ফিট নদীগর্ভে বিলীন হলেও শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত বিদ্যালয়টিকে শত চেষ্টা করেও আর আটকানো গেলনা। সর্বনাশী তিস্তার গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে পুরো বিদ্যালয়টি। শুধু দাড়িয়ে আছে বিদ্যালয়ের কয়েকটি পাকা খুঁটি। এছাড়া দেবে যাওয়া ২ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিল্ডিং দুমরে মুচরে নদীগর্ভে বিলীন হতে চলছে। ক্লিনিক দু’টির ইট ধসে ধসে নদীতে পতিত হচ্ছে।

টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের জিঞ্জির পাড়ার মকছেদ আলী (৭৫) জানান, ১৯৬২ সালে তিস্তা গতিপথ পরিবর্তন করে যে পথ দিয়ে চলছিলো। এবারের বন্যায় তিস্তার গতিপথ পরিবর্তন করে চলছে উল্টো দিকে। যার কারণে আমাদের সবকিছুই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে আমরা নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছি। যদি সরকারের পক্ষ হতে জরুরি ভিত্তিতে একটি বন্যা প্রতিরক্ষা বাঁধ দেয়া হতো তাহলে হয়তো আমরা বাঁচতে পারতাম।

টেপাখড়িবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহীন জানান, এই ইউনিয়নের জনগণ ত্রান চায়না। চায় জরুরি ভিত্তিতে শক্ত একটি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ। তিনি বলেন, এবারের বন্যা ও বন্যা পরবর্তী ভাঙ্গনে টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নটি পুরো নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ক্লিনিক, বাজার, বিজিবি ক্যাম্প, রাস্তাঘাট, পুল কালভার্ট তিস্তার গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। আর নিঃস্ব হয়েছে অত্র ইউনিয়নের ১০টি গ্রামের ৫শ পরিবার। তিস্তার ভাঙ্গনের কারণে তাদের মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকু পর্যন্ত নেই।

এ ব্যাপারে ডিমলা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নায়েমা তাবাচ্ছুম শাহ জানান, বন্যা ও ভাঙ্গনে উপজেলার টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ক্লিনিক, রাস্তাঘাট, ব্রীজ, বসত ভিটা, ফসলি জমি সহ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম জানান ,ভাঙ্গনে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা করার জন্য প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তালিকা পেলেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসক নীলফামারী বরাবরে প্রেরণ করা হবে।  

আর/১০:৪৪/১৫ জুলাই

নীলফামারী

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে