Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.2/5 (9 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৭-১৫-২০১৬

হত্যা করে সমাজে ভীতি তৈরির নাম জিহাদ নয়: শফী

হত্যা করে সমাজে ভীতি তৈরির নাম জিহাদ নয়: শফী

চট্টগ্রাম, ১৫ জুলাই- সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য করে কাউকে বিনা কারণে হত্যা ও সমাজে ভীতি তৈরীর নাম কখনোই জিহাদ নয় বলে মন্তব্য করেছেন হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী। 

বৃহস্পতিবার বিকেলে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে শাহ আহমদ শফী এসব কথা বলেন।

আল্লামা শাহ আহমদ শফী বলেন, ‘বিদেশি, অমুসলিম ও ধর্মীয় ব্যক্তিদের টার্গেট করে দেশে ইসলামের নাম ব্যবহার করে গুলশান ও শোলাকিয়াসহ বিভিন্ন স্থানে একের পর এক সন্ত্রাসী হামলা দেশে ও জাতির জন্য অশনি সংকেত। আর কোনো মদ পানকারী আল্লাহু আকবার বলে মদ পান করলে যেমন কেউ সেটাকে ইসলামী মদ বলবে না,  তেমনি কোন সন্ত্রাসী আল্লাহু আকবার বা ইসলামের নাম নিয়ে মানুষ হত্যাকে জিহাদ বলবে না।’

তিনি বলেন, ‘শক্তিশালী কোন পক্ষের ইন্ধন ছাড়া বিচ্ছিন্ন গুটিকয়েক অপরাধীর পক্ষে এমন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা অসম্ভব। এই দেশ থেকে ইসলামকে উচ্ছেদ করে আধিপত্য ও শোষণের রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করতেই এই হামলা। সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য করে কাউকে বিনা কারণে হত্যা ও সমাজে ভীতি তৈরীর নাম কখনোই জিহাদ নয় বরং ইসলামের জিহাদ হচ্ছে অন্যায় আগ্রাসন ও সন্ত্রাস দমনের।’

আহমদ শফী বিবৃতিতে বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন ও জাতীয় ঐক্যকে ধ্বংস করার জন্য বিভিন্ন অপশক্তি গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। তারা দেশ থেকে ইসলামকে উচ্ছেদ করে আধিপত্য ও শোষণের রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চায়। এ কাজে তারা উচ্চশিক্ষিত সরলমনা কিছু মুসলিম যুবককে ইসলামের ভুল ব্যাখ্যায় প্রভাবিত করে ব্যবহার করতে সক্ষম হচ্ছে বলে ধারণা করা যাচ্ছে। 

ইসলামী নেতৃবৃন্দ ও মসজিদের ইমাম-খতিবদেরকে উদ্দেশ্য করে হেফাজত আমীর বলেন,  ‘দেশকে সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের হাত থেকে বাঁচানোর জন্যে আরো বেশী ভূমিকা পালন করতে হবে। মানুষের দ্বারে দ্বারে শান্তির ধর্ম ইসলামের সঠিক শিক্ষা পৌঁছে দিতে হবে। বিশেষ করে স্কুল, কলেজ ও ইউনিভর্সিটি ক্যাম্পাসসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় সভা-সেমিনার করা যেতে পারে। এসব সভা-সেমিনারে ইসলামের সার্বিক বিধি-বিধান তুলে ধরতে হবে। সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য করে কাউকে বিনা কারণে হত্যা ও সমাজে ভীতি তৈরীর নাম কখনোই জিহাদ নয় বরং ইসলামের জিহাদ হচ্ছে অন্যায় আগ্রাসন ও সন্ত্রাস-নৈরাজ্য দমনের।’

মসজিদের ইমাম ও মাহফিলে পুলিশের নজরদারির সমালোচনা করে আল্লামা শফী বলেন ,‘দেশ থেকে সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যকে নির্মূল করতে যদি প্রকৃত অর্থে আন্তরিক হউন, তবে মসজিদের ইমাম-খতিব ও মাহফিল নজরদারী করার কথা বলে ভীতি তৈরী ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ড সংকোচিত করিয়েন না। বরং নজরদারীর পরিবর্তে আলেমদেরকে স্বাচ্ছন্দে কাজ করতে সহযোগিতা করুন। কারণ সমাজের মানুষের মধ্যে সৎ ভাবে জীবন যাপনের যে মানসিকতা ভেতর থেকে কাজ করে সেটা এই ইমাম ও খতিবরাই  করে থাকে।

যেকোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের তদন্তের আগে ‘দোষারোপের’ রাজনীতি বন্ধ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধী ও মদদদাতাদের বিচারের আওতায় আনতে সাহায্য করতে আহমদ শফী সবার প্রতি আহ্বান জানান। তিনি প্রশ্ন তোলেন, রাজনৈতিক বিবাদ ও অসন্তোষ জিইয়ে রেখে দেশে স্থিতিশীলতা কীভাবে প্রতিষ্ঠা হবে? রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য ক্ষমতাসীন দলেরই উদ্যোগ নেওয়ার দায়দায়িত্ব বেশি। 

শফী বলেন, ‘এই যে সম্প্রতি ঢাকার গুলশানের একটি হোটেলে বেশ কিছু বিদেশি অমুসলিম ব্যক্তিদের হত্যার মতো ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটানো হলো, ইসলামে এর বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারী এসেছে। যেমন, অমুসলিমদের অধিকার ও নিরাপত্তা সম্পর্কে আমরা মাদ্রাসার ছাত্রদেরকে পড়িয়ে থাকি, রাসূলুল্লাহ্ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘মনে রেখ, যদি কোনো মুসলমান কোনো অমুসলিম নাগরিকের ওপর নিপীড়ন চালায়, তার অধিকার খর্ব করে, তার কোনো বস্তু জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয়, তাহলে কিয়ামতের দিন আমি আল্লাহর আদালতে তার বিরুদ্ধে অমুসলিম নাগরিকের পক্ষে মামলা দায়ের করব- (আবু দাউদ শরিফ, হাদিস নং- ৩০৫২)।’

আর/১০:৪৪/১৫ জুলাই

চট্টগ্রাম

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে