Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.0/5 (15 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৭-১৩-২০১৬

ভাগ-বাঁটোয়ারা নিয়ে ভিক্ষুর কোপে ভিক্ষু আহত

ভাগ-বাঁটোয়ারা নিয়ে ভিক্ষুর কোপে ভিক্ষু আহত

কক্সবাজার, ১৩ জুলাই- মন্দিরের জমি বিক্রির টাকার ভাগ-বাঁটোয়ারা নিয়ে জেলা শহরে এক  বৌদ্ধভিক্ষুকে কুপিয়ে জখম করেছে অপর এক বৌদ্ধভিক্ষু।

বুধবার ভোরে জেলা শহরের প্রাচীন অগগমেধা বৌদ্ধবিহারে এ ঘটনা ঘটে।

আহত বৌদ্ধভিক্ষুর নাম উপেনদিতা (৭৭)। তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, মন্দিরের জমি বিক্রির টাকার ভাগ-বাঁটোয়ারা এবং অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে তারা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছে।

পুলিশ সুপার শ্যামল কুমার নাথ জানান, অপর একজন বৌদ্ধভিক্ষু এই হত্যাচেষ্টা করেছেন বলে জানা গেছে। হামলাকারী পলাতক রয়েছে। তাকে ধরার চেষ্টা চলছে।পুলিশ সুপারসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা হামলার পরপরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে পুলিশ সুপার জানান, কক্সবাজার শহরের ক্যাং পাড়ার আলামং রাখাইনের ছেলে মংয়াইন বুধবার সকালে উইমাহ্লাটারা ক্যাংয়ে প্রবেশ করে অধ্যক্ষ উঃপাণ্ডিতা মহাথেরও পর হামলা চালায় এবং তাকে পিটিয়ে আহত করে।

হামলাকারী চলে যাওয়ার পর মন্দিরে অবস্থানরত এক শিক্ষার্থী ফোন বিষয়টি জানালে ক্যাং কমিটির লোকজন রক্তাক্ত অবস্থায় অধ্যক্ষকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়।

পুলিশ সুপার শ্যামল বলেন, “জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এই হামলা হয়েছে বলে স্থানীয় রাখাইন সম্প্রদায়ের লোকজন পুলিশকে জানিয়েছে। এ ব্যাপারে তদন্ত শুরু হয়েছে, হামলাকারীকে গ্রেপ্তারে অভিযানও চলছে।”

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক রফিকুল ইসলাম বলেন, আহত বৌদ্ধ ভিক্ষুর মাথার তিনটি স্থানে কেটে গেছে। হাত ও পায়ে লোহার রড বা লাঠির আঘাতের মত জখম পাওয়া গেছে।

উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানান এই চিকিৎসক।

উইমাহ্লাটারা ক্যাং এ অবস্থানকারি শিশু সেবায়েত চাচে মার্মা জানায়, সকালে ক্যাং এর গেইটে লাঠি দিয়ে আঘাত করে এক ভিক্ষু খুলে দিতে বলে। গেইট খুলে দিলে হাতে টাকা দিয়ে তাকে নাস্তা আনতে দোকানে পাঠায় সেই ভিক্ষু।

“আমি নাস্তা নিয়ে মন্দিরে এসে দেখি পুরোহিত মেঝেতে পড়ে আছেন।”

ওই ক্যাংয়ে অবস্থানকারী কক্সবাজার পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী অংচেন মার্মা বলেন, “হামলার সময় আমি ক্যাং এর নিচ তলায় ছিলাম। হঠাৎ অধ্যক্ষের চিৎকার শুনে সিঁড়িতে গেলে হামলাকারী ওই ভিক্ষু আমাকে হুমকি দেয়।”

আদিবাসী ফোরাম কক্সবাজার জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মংথেনহ্লা রাখাইন বলেন, তিনটি গেইট পার হয়ে উইমাহ্লাটারা ক্যাংয়ে প্রবেশ করতে হয়। উঃপাণ্ডিতা মহাথেরর উপর হামলার ঘটনার আগে স্থানীয় লোকজন মংয়াইন রাখাইনকে (৪৫) লাঠি হাতে ওই ক্যাংয়ের দিকে যেতে দেখেছেন।

“ক্যাং এর জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মংয়াইনের পরিবারের লোকজনের সঙ্গে ক্যাং কমিটির বিরোধ চলছে। এই বিরোধের জের ধরে হামলা হয়ে থাকতে পারে, বলেন তিনি।

আর/১৫:৪৪/১৩ জুলাই

কক্সবাজার

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে