Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 1.5/5 (2 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৭-১২-২০১৬

তাদের লাশ নিতেও যোগাযোগ করেনি পরিবার

তাদের লাশ নিতেও যোগাযোগ করেনি পরিবার
(ঘড়ির কাঁটার ঘূর্ণনের দিক) খায়রুল ইসলাম, শফিকুল ইসলাম, মীর সামেহ মোবাশ্বের ও নিবরাস ইসলাম

ঢাকা, ১২ জুলাই- গুলশানের হলি আর্টিসান বেকারি রেস্টুরেন্টে কমান্ডো অভিযানের ১০ দিন পরেও নিহত হামলাকারীদের মৃতদেহ নিতে বেশিরভাগ পরিবারই যোগযোগ করেনি। এরা হলো- মীর সামেহ মোবাশ্বের, নিবরাস ইসলাম, শফিকুল ইসলাম উজ্জ্বল ও খায়রুল ইসলাম। ওই অভিযানে নিহত ৬ ‘সন্ত্রাসী’র মৃতদেহ রাখা হয়েছে সাম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ)। 

মৃতদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য গত শনিবার (২ জুলাই) বিকেলে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেয়া হয়। তাদের পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য কোনো জিজ্ঞাসা থাকলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রভোস্ট মার্শালের (০১৭৬৯০১২৫২৪) সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য আইএসপিআরের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়।

সোমবার রাতে ওই মামলা তদন্ত সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তার সাথে কথা বলে জানা যায়, মোবাইল নম্বর দেয়ার পরও নিহত সাইফুলের বোন ও রোহানের বাবা ছাড়া আর কারো পরিবারই পুলিশের সাথে যোগাযোগ করেনি। 

এদিকে নিহত ৬ জনের ডিএনএ পরীক্ষার অনুমতি চেয়ে সোমবার আদালতে আবেদন করেছেন পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের পরিদর্শক হুমায়ুন কবির।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে গোয়েন্দা পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘এভাবে আরো সপ্তাহখানেক মৃতদেহগুলো সিএমএইচে রেখেই পরিবারের জন্য অপেক্ষা করা হবে। এসময়ের মধ্যেও পরিবারের কেউ যোগযোগ না করলে মৃতদেহগুলো আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের মাধ্যমে দাফন করা হবে।’

নিহত সামী মোবাশ্বেরের বাবা মীর হায়াৎ কবির ও রোহান ইমতিয়াজের বাবা মহানগর আওয়ামী লীগের নেতা ইমতিয়াজ খান বাবুলের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিয়েও যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি। অবশ্য রোহানের বাবা তার ছেলের এই বিপথগামিতার কারণে সবার কাছে ক্ষমা চেয়ে নিয়েছেন।

মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে ডিবির পশ্চিমের এডিসি সাইফুল ইসলামের সাথে যোগযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘তদন্ত কাজ চলছে। এখনই এ বিষয়ে কিছু বলা ঠিক হবে না।’

র‌্যাবের মাহপরিচালক বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘দুটি অ্যাটাকই সাম্প্রতিক সময়ে ঘটেছে। এটা নিয়ে এখনই মন্তব্য করা যাবে না। একটু সময় লাগবে। এই ধরনের হামলার পেছনে কারা অস্ত্রের জোগান দিলেন বা অর্থের যোগান দিলেন- সে বিষয়গুলো খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।’

এদিকে গুলশানের ওই রেস্টুরেন্টে হামলার ঘটনায় জীবিত উদ্ধার হওয়া ইঞ্জিনিয়ার হাসনাত রেজা করিমকে প্রথমে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গোয়েন্দা কার্যালয়ে নেয়া হলেও পরবর্তিতে আর তার সন্ধান পরিবারকে জানানো হয়নি বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।

১০ দিনেও ছেলের খোঁজ না পেয়ে বাবা রেজাউল করিম পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামানকে চিঠি দিয়েছেন। চিঠিতে তিনি ছেলের সন্ধান চেয়েছেন। গত রোববার সকালে এই চিঠি দেয়া হলেও এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (১১ জুলাই) কারো কাছ থেকে ছেলের ব্যাপারে কোনো তথ্য পাননি বলে জানান রেজাউল করিম।

গত ১ জুলাই রাতে গুলশানের হলি আর্টিসান বেকারি রেস্তোরাঁয় হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। হামলার প্রাথমিক প্রতিরোধেই প্রাণ হারায় পুলিশের দুই কর্মকর্তা। পরদিন সকালে সেনা কমান্ডো অভিযানে ছয় সন্ত্রাসী নিহত হলেও তারা আগেই ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করে ১৭ বিদেশিসহ ২০ জনকে হত্যা করে।

পরদিন শনিবার সকালে কমান্ডো অভিযান চালিয়ে জিম্মি সঙ্কটের অবসানের পর দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়, সন্দেহভাজন ছয় হামলাকারী নিহত হয়েছে এবং একজন ধরা পড়েছে। অবশ্য নিহত ছয়জনের মধ্যে পাঁচজনকে পরে হামলাকারী হিসেবে শনাক্ত করা হয়।

একনজরে গুলশান হামলাকারীদের পরিচয়:
নিবরাস ইসলাম নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র। তিনি অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক মোনাশ ইউনিভার্সিটির মালয়েশিয়া ক্যাম্পাসে ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট সার্ভিসেসের কোষাধ্যক্ষ ছিলেন

ধনী পরিবারের সন্তান নিব্রাস ইসলাম পড়েছেন ঢাকার ইন্টারন্যাশনাল টার্কিশ হোপ স্কুলে। মোনাশে ভালো না লাগায় দেশে ফিরে নিবরাস ভর্তি হন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে। ওয়ারি আর উত্তরায় বাড়ি আছে তার ব্যবসায়ী বাবার।

নিব্রাসের তিন চাচার মধ্যে একজন সরকারের উপ সচিব, একজন পুলিশ কর্মকর্তা, আরেকজন বিজ্ঞানী। মীর সামেহ মুবাশ্বের ও রোহান ইমতিয়াজ দুজনেই স্কলাসটিকা স্কুলের সাবেক ও বর্তমান ছাত্র।

মুবাশ্বেরের বাবা মীর হায়াত কবির অ্যালকাটেল-লুসেন্ট বাংলাদেশের কর্মকর্তা। মা খালেদা পারভীন সরকারি কলেজের শিক্ষক। বড় ভাই পড়ছেন কানাডার টরেন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ে। মুবাশ্বের ‘এ লেভেল’ পরীক্ষার আগে গত মার্চে নিখোঁজ হন।

আর রোহানের বাবা ইমতিয়াজ খান বাবুল ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক, বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল এবং বাংলাদেশ সাইক্লিস্ট ফেডারেশনের জেনারেল সেক্রেটারি। মানব পাচারের অভিযোগে তদন্ত হচ্ছে তার। 

২০ বছর বয়সী রোহান স্কলাসটিকা শেষ করে পড়ছিলেন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে। তার মাও নামি ওই স্কুলের শিক্ষক। শফিকুল ইসলাম ও খায়রুল ইসলাম উভয়ের বাড়ি বগুড়ায়। এর দুজন অবশ্য বাকিদের মতো উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তান নয়।

এফ/০৭:২২/১২জুলাই

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে