Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 2.7/5 (3 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৭-১০-২০১৬

ইসলামের দৃষ্টিতে যে সব খাবার হারাম-নিষিদ্ধ

ইসলামের দৃষ্টিতে যে সব খাবার হারাম-নিষিদ্ধ

আল্লাহ তাআলা ভাল খাদ্য গ্রহণ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন আর খারাপ ও নাপাক খাদ্য খেতে নিষেধ করেছেন। আধুনিক বিজ্ঞান, ইসলামিক চিন্তাবিদ ও ফোকাহায়ে কেরাম নিজ নিজ গবেষণা, বই ও নিবন্ধে এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। প্রয়োজনে এগুলো পড়ে দেখার পরামর্শ দেওয়া হলো।

মানুষের জন্য উপকারী ও পবিত্র সবধরনের খাদ্যের ব্যাপারে ইসলামের বিধান হচ্ছে হালাল ও বৈধতার। প্রমাণ্য ও গ্রহণযোগ্য দলিল ব্যতীত কোন প্রকার খাদ্য হারাম বলা যাবে না। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘বল, ‘আমার নিকট যে ওহী পাঠানো হয়, তাতে আমি আহারকারীর উপর কোন হারাম পাই না, যা সে আহার করে। তবে যদি মৃত কিংবা প্রবাহিত রক্ত অথবা শূকরের গোশ্ত হয়- কারণ, নিশ্চয় তা অপবিত্র।’ (আন-আম : ১৪৫)

এ আয়াত দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, যেসব খাদ্যের ব্যাপারে হারামের কোন দলিল নেই, তা হালাল ও বৈধ। আমরা যেসব খাদ্য গ্রহণ করি, তা দু’প্রকার। প্রথম প্রকার : পশু ও পাখপাখালি। দ্বিতীয় প্রকার : উদ্ভিদ ও শাকসবজি।

প্রথম প্রকার : পশু ও পাখপাখালি : পশু ও পাখপাখালির ব্যাপারে ওলামায়ে কেরাম অনেক লেখালেখি করেছেন এবং এর মধ্যে যা যা হারাম তার জন্য কিছু নিদর্শন ও বিধিবিধান প্রণয়ন করে দিয়েছেন, যে প্রাণীর মধ্যে হারামের কোন আলামত পাওয়া যাবে, তা খাওয়া হারাম। নিম্নে আমরা সেসব বিধিবিধান নিয়ে আলোচনা করছি :

(১) দাঁতবিশিষ্ট হিংস্র জন্তু ভক্ষণ করা হারাম। যেমন, বাঘ, চিতা বাঘ, সিংহ ও কুকুর ইত্যাদি।

(২) থাবা বা পাঞ্জাবিশিষ্ট হিংস্র পাখি ভক্ষণ করা হারাম। যেমন, ঈগল, বাজ, শ্যেন, পেঁচা ও শাহীন পাখি ইত্যাদি।

দলিল : ইবনে আব্বাস রা. বলেন, ‘রাসূল সা. দাঁতবিশিষ্ট প্রত্যেক হিংস্র জন্তু ও থাবাবিশিষ্ট প্রত্যেক হিংস্র পাখি খেতে নিষেধ করেছেন।’ (মুসলিম : ১৯৩৪)

(৩) নির্দিষ্টভাবে যেসব পশু খেতে নিষেধ করা হয়েছে, তা খাওয়া হারাম। যেমন, গৃহপালিত গাধা।

দলিল : জাবের রা. বলেন, রাসূল সা. খায়বরের দিন গৃহপালিত গাধা খেতে নিষেধ করেছেন এবং ঘোরার গোশত খেতে অনুমতি দিয়েছেন।’ (বুখারি:৪২১৯, মুসলিম:১৯৪১)

আরেকটি উদাহরণ, শূকর। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে মৃতপ্রাণী, রক্ত ও শূকরের গোশত ...’ (মায়েদা : ৩)

(৪) আরবরা যেসব প্রাণীকে খবিস ও নাপাক বলত, তা খাওয়াও হারাম।

দলিল : আল্লাহ তাআলা বলেন, (রাসূল সা.) ‘তাদের জন্য পবিত্র বস্তু হালাল করে আর অপবিত্র (খবিস) বস্তু হারাম করে।’ (আরাফ : ১৫৭) অপবিত্র বস্তু যেমন, পোকা-মাকড়, কীট-পতঙ্গ ও শকুন। যেহেতু এগুলোর খানাখাদ্য অধিকাংশই নাপাক ও আবর্জনা, তাই এগুলোকে খবিস বা নাপাক বলা হয়।

(৫) শরিয়ত যেসব প্রাণী হত্যা করতে নিদের্শ দিয়েছে বা যেসব প্রাণী হত্যা করতে নিষেধ করেছে, তা খাওয়া হারাম। যেমন, হাদিসে নিষিদ্ধ পাঁচটি প্রাণী। যথা : ইদুর, বিচ্ছু, পাগলা কুকুর, কাক ও চিল ইত্যাদি।

উল্লেখিত বিধান ও নিয়মের ভিত্তিতে প্রমাণিত হয় যে, এ ছাড়া যেসব পশু ও পাখপাখালি রয়েছে, তা হালাল ও বৈধ। যেমন, ঘোরা, চতুষ্পদ জন্তু, মুরগি, উটপাখি, খরগোস ও জঙ্গলী গাধা এবং এ জাতীয় অন্যান্য প্রাণী। কারণ, কুরআন হাদিসের দলিল এর বৈধতা ও হালালকেই প্রমাণ করে।

দ্বিতয় প্রকার : উদ্ভিদজাতীয় খাদ্য : উদ্ভিদজাতীয় খাদ্য যেমন, বিভিন্ন উদ্ভিদ, ফল, শষ্য ইত্যাদি খাদ্যদ্রব্য ও তা থেকে তৈরিকৃত পানীয় হালাল। কারণ, খাদ্য ও পানীয়ের মূল প্রকৃতি হচ্ছে বৈধ ও হালাল হওয়া। হ্যাঁ, যেসব খাদ্য নেশার সৃষ্টি করে, তা ব্যতীত। যেমন, গাঁজা, আফিম এবং এ জাতীয় অন্যান্য নেশাদ্রব। অথবা যা শরীরের জন্য খুবই ক্ষতিকর, তা ব্যতীত। যেমন, বিষ, সিগারেট ও এ জাতীয় অন্যান্য খাদ্য, যার ক্ষতি ও অপকারিতা সবার নিকট স্বীকৃত। এসব কিছুই হারাম। কারণ এগুলো হয়তো নেশার সৃষ্টি করে অথবা শরীরের জন্য খুব ক্ষতিকর।

সন্দেহ নেই যে, আমাদের কোন না কোন স্বার্থ ও কল্যাণের জন্যই আল্লাহ তাআলা এসব কিছু হারাম করেছেন। কারণ, তিনি হেকমত ছাড়া কোন জিনিসের নির্দেশও দেন না, আবার হেকমত ছাড়া কোন জিনিস নিষেধও করেন না। এসব হেকমত মানুষ কখনো বুঝতে সক্ষম হয় কখনো হয় না। মানুষ কোন জিনিসের হেকমত বুঝতে সক্ষম না হওয়ার অর্থ এ নয় যে, তাতে কোন হেকমত নেই।

মানুষের শরীর যেসব খাদ্য গ্রহণ করে, সেসব জিনিসের প্রভাবই তার ওপর পড়ে। যে ভাল খাদ্য গ্রহণ করবে, তার ওপর ভাল প্রভাব পড়বে, আর যে খারাপ খাদ্য গ্রহণ করবে, তার ওপর খারাপ প্রভাব পড়বে, এটাই স্বাভাবিক।

এ জন্যই আল্লাহ তাআলা ভাল খাদ্য গ্রহণ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন আর খারাপ ও নাপাক খাদ্য খেতে নিষেধ করেছেন। আধুনিক বিজ্ঞান, ইসলামিক চিন্তাবিদ ও ফোকাহায়ে কেরাম নিজ নিজ গবেষণা, বই ও নিবন্ধে এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। প্রয়োজনে এগুলো পড়ে দেখার পরামর্শ দিচ্ছি। আল্লাহ আমাদের সহায় হোন।

মূল : আহমদ বিন আব্দুর রহমান আর-রশীদ
অনুবাদ : সানাউল্লাহ নজরি আহমদ
গ্রন্থনা ও সম্পাদনা : মাওলানা মিরাজ রহমান
সৌজন্যে : ইসলামহাউজ 

এফ/২২:৫৫/১০জুলাই

ইসলাম

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে