Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৭-১০-২০১৬

পুলিশের কাছে নেই হাসনাত!

লিটন হায়দার ও গোলাম মুজতবা ধ্রুব


পুলিশের কাছে নেই হাসনাত!

ঢাকা, ১০ জুলাই- গুলশানের হলি আর্টিজানে কমান্ডো অভিযানের পর যাদের উদ্ধার করা হয়েছিল তাদের মধ্যে পুলিশের সন্দেহে থাকা দুজনের খোঁজ মিলছে না। এরা হলেন- নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক আবুল হাসনাত রেজাউল করিম ও তাহমিদ হাসিব খান (২২)।

হামলার আট দিন পরেও তারা বাসায় ফেরেনি বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। এ ঘটনায় যে মামলা হয়েছে তাতে উদ্ধারদের তালিকায় নাম থাকলেও আসামিদের মধ্যে ওই দুজনের নাম নেই।


হাসনাত রেজা করিম।

হাসনাত ও তাহমিদ কোথায় জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান শনিবার রাতে বলেন, “যাদের উদ্ধার করা হয়েছিল তাদের প্রত্যেককে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। কেউ এখন পুলিশের কাছে নেই।”

গুলশানের ওই ক্যাফেতে ১ জুলাইয়ের জিম্মি দশার একটি ভিডিওচিত্র প্রকাশের পর নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক হাসনাতের বিরুদ্ধে হামলায় সম্পৃক্ততার সন্দেহের কথা উঠে আসে ফেইসবুকে।

নিষিদ্ধ সংগঠন হিজবুত তাহরিরের সঙ্গে যোগাযোগের কারণে হাসনাতকে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় অব্যাহতি দিয়েছিল বলে গণমাধ্যমের খবর। ক্যাফেতে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে যে পাঁচ হামলাকারী নিহত হন, তাদের মধ্যে নিবরাজ ইসলামও ঢাকার এই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র।

অন্যদিকে ব্যবসায়ী শাহরিয়ার খানের ছেলে তাহমিদ কানাডার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েন। একদিন আগে দেশে ফিরে হামলার দিন ইফতারের পর বন্ধুদের সঙ্গে তিনি ওই ক্যাফেতে গিয়েছিলেন বলে পরিবারের ভাষ্য।

এই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় জীবিত অবস্থায় যে ৩২ জনকে উদ্ধারের কথা বলা হয়েছে, সে তালিকায় হাসনাত ও তাহমিদের নাম রয়েছে। ঘটনার কয়েকদিন পর ঢাকার পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া এই দুজনের বিরুদ্ধে হামলায় সম্পৃক্ততার সন্দেহের কথা জানিয়েছিলেন।

গত মঙ্গলবার সাংবাদিকদের তিনি বলেন, সন্দেহের তালিকায় থাকা উদ্ধার হওয়া জিম্মি হাসনাত রেজাউল করিম ও তাহমিদ হাসিব খান তাদের হেফাজতেই আছেন।পুলিশ এখন তাদেরকে নিজেদের জিম্মায় রাখার কথা অস্বীকার করলেও দুজনের বাবা বলছেন, তাদের ছেলেরা গোয়েন্দা পুলিশের কাছেই আছে।

হাসনাতের বাবা এম রেজাউল করিম শনিবার সন্ধ্যায় বলেন, “ডিবি ওকে নিয়ে যাবার সময় বলেছিল বাসায় পৌঁছে দেবে। কিন্তু এখন তো ওর সঙ্গে দেখাও করতে পারছি না।”

তিনি বলেন, হাসনাত অসুস্থ। দুই দফায় তার হার্টের অপারেশন হয়েছে। নিয়মিত তাকে ওষুধ খেতে হয়। “এই কয়দিন হাসনাত হার্টের ওষুধ খেতে পারছে কি না জানি না।”


কানাডার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র তাহমিদ হাসিব খান হামলার আগের দিন দেশে ফেরেন। 

তাকে ওষুধ দেওয়ার সুযোগ দিতে পুলিশের মহাপরিদর্শক এবং ঢাকার পুলিশ কমিশনারের কাছে আবেদন করবেন বলে জানান তিনি। হাসনাতকে ফিরে পেতে আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলেছেন জানিয়ে রেজাউল করিম বলেন, তার বিরুদ্ধে মামলা না হলে করার কিছু নেই বলে তারা জানিয়েছেন।

এদিকে তাহমিদের বাবা আবু লূৎফে ফজলে রহিম খান ওরফে শাহরিয়ার খান দুপুরে বলেন, তাহমিদ ডিবির কাছে আছে বলে তার বিশ্বাস। “দেশের প্রয়োজনে তাকে আরও রাখার প্রয়োজন থাকলে রাখুক, কোনো আপত্তি নেই। তবে তাকে মানসিক চিকিৎসক দেখানো খুবই জরুরি।” জঙ্গি নির্মূলে সবার এগিয়ে আসা উচিত মন্তব্য করে এ বিষয়ে সহযোগিতারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।

এফ/০৭:৪৫/১০জুলাই

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে