Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English
» নাসিরপুরের আস্তানায় ৭-৮ জঙ্গির ছিন্নভিন্ন মরদেহ **** ইমার্জিং কাপে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ       

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৭-০৯-২০১৬

নিখোঁজ ১০ যুবকের একজন জুনুন

জাকিয়া আহমেদ


নিখোঁজ ১০ যুবকের একজন জুনুন

ঢাকা, ০৯ জুলাই- রাজধানীর গুলশান হামলার পর অন্তত ১০ যুবকের সন্ধান চেয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আবেদন করেছে তাদের পরিবার। এই ১০ যুবকের একজন হলেন জুনুন শিকদার, যিনি ব্লগার রাজীব হায়দার শোভন হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন ছিলেন বলে সূত্র জানায়।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি সূত্র জানায়, ব্লগার রাজীব হায়দার হত্যাকাণ্ডে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি রেদওয়ানুল আজাদ রানার সঙ্গে জুনুনের ঘনিষ্ঠতা ছিল। রাজীবকে হত্যার দিনও তার সঙ্গে জুনুনের যোগাযোগ হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রায় একযুগ আগে জুনুন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের হাত ধরে জঙ্গি দল জেএমবিতে যোগ দেয়। এরপর তার পরিচয় হয় জসিম উদ্দিন রাহমানীর সঙ্গে। ২০০০ সালে জুনুন ভর্তি হন নর্থ-সাউথ ইউনির্ভাসিটির কম্পিউটার সায়েন্স ডিপার্টমেন্টে।

সেখানেই তার সঙ্গে পরিচয় হয়, রেজোয়ান শরীফের। তার মাধ্যমে জুনুনের পরিচয় হয় জামায়াতুল মুসিলিমিন সংগঠনের বাংলাদেশের আমির ইজাজ হোসেনের।

জামায়াতুল মুসিলিমিন সংগঠনের আন্তর্জাতিক আমির জর্ডান বংশোদ্ভুত ব্রিটিশ নাগরিক শেখ আবু ইসরা আলী আররিফাই আল হাশেমী আল কোরাইশি ওরফে আবু মুসা বাংলাদেশে এসেছিলেন ২০০২ সালে।

সূত্র জানায়, তখন তিনি নর্থ-সাউথ ইউনির্ভাসিটির কাছাকাছি এলাকায় বাসা ভাড়া নেন এবং কার্যক্রম শুরু করেন। বাংলাদেশি এক মেয়েকে বিয়ে করে কয়েক বছর ছিলেন বাংলাদেশে। পরে লন্ডন পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন ইংল্যান্ডে ফেরার পথে। আর তখন বাংলাদেশে জামায়াতুল মুসলিমিনের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। আর জুনুন নর্থ-সাউথ বাদ দিয়ে ভর্তি হন দারুল ইহছান বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগে। 

ব্লগার রাজীব হায়দার হত্যা মামলাতেও তিনি জড়িত ছিলেন বলে সূত্রটি নিশ্চিত করেছে। এদিকে, র‌্যাবের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, নিখোঁজ এই ১০ যুবক কোথায় আছে, সেটার অনুসন্ধান শুরু করেছেন তারা। 

জুনুন শিকদারের পাসপোর্ট নম্বর-বি ই ০৯৪৯১৭২। তার পরিচিতজনরা জানান,ত্রিশের কোঠায় অত্যন্ত আকর্ষণীয় চেহারার এই জুনুন প্রচুর পড়াশোনা করতেন এবং ব্যবহারে ছিলেন অত্যন্ত মার্জিত। তার নিজের গড়া লাইব্রেরিতেই বই ছিল প্রায় পাঁচ হাজারের মতো। দুই ভাইবোনের মধ্যে তিনি বড়। বাবা ব্যবসায়ী।

২০১৩ সালে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ডিবি পুলিশ এক অভিযানে জুনুনসহ নয়জনকে গ্রেফতার করে। জানা যায়, সেখানে জুনুন বলেন, সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, তিনি শরিয়াভত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আল-কায়েদার অনুরূপ নীতি ও আদর্শে বিশ্বাস করেন এবং সশস্ত্র জিহাদেও তিনি অংশ নিতে চান। তবে সেটি দেশে নয়, বিদেশে। বিদেশে জিহাদ করার কারণ হিসেবে তিনি দেশে জিহাদ করার মতো অবস্থান তৈরি হয়নি বলেও জানিয়েছিলেন।

আমি দাওয়াত নিয়ে কাজ করি এবং দাওয়াতি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইসলাম সর্ম্পকে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে আকৃষ্ট করি বলেছিলেন, জুনুন। আর এ নিয়ে কাজ করতে গিয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হওয়া এবং তা নিয়ে অনুশোচনা না করার কথাও বলেন তিনি।

জুনুন বলেছিলেন, এসব নিয়ে অনুশোচনা করিনা। কারণ, অনেক কিছু ভাবার সময় এসেছে। কারণ, মিয়ানমারে মুসলমানদের ওপর অত্যাচার হচ্ছে। আর  এ জন্য তিনি কয়েকজনকে নিয়ে মিয়ানমারে যাওয়ার চেষ্টাও করেন। ইচ্ছা ছিল পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও সিরিয়া যাবার। জেল থেকে মুক্তি পেলে তার ইচ্ছা তিনি পূরণ করবেন বলেও জানিয়েছিলেন।  

জুনুন ছাড়াও নিখোঁজ নয় যুবকের সন্ধান চেয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা চাওয়া হয়েছে। তারা হচ্ছেন, ঢাকার তেজগাঁওয়ের মোহাম্মদ বাসারুজ্জামান, বাড্ডার জুনায়েদ খান (পাসপোর্ট নম্বর- এ এফ ৭৪৯৩৩৭৮), চাপাইনবাবগঞ্জের নজিবুল্লাহ আনসারী, ঢাকার আশরাফ মোহাম্মদ ইসলাম (পাসপোর্ট নম্বর-৫২৫৮৪১৬২৫), সিলেটের তামিম আহমেদ চৌধুরী (পাসপোর্ট নম্বর-এল ০৬৩৩৪৭৮), ঢাকার ইব্রাহীম হাসান খান (পাসপোর্ট নম্বর-এ এফ ৭৪৯৩৩৭৮),লক্ষ্মীপুরের এটিএম তাজউদ্দিন (পাসপোর্ট নম্বর- এফ ০৫৮৫৫৬৮), ঢাকার ধানমণ্ডির জুবায়েদুর রহিম (পাসপোর্ট নম্বর-ই ১০৪৭৭১৯), সিলেটের মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ ওজাকি (পাসপোর্ট নম্বর-টি কে ৮০৯৯৮৬০)।

উল্লেখ্য, ১ জুলাই (শুক্রবার) রাতে রাজধানীর গুলশান ২ নম্বর সেকশনের ৭৯ নম্বর সড়কের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা চালায় জঙ্গিরা। এতে দুই পুলিশ সদস্য, ১৭ বিদেশি নাগরিক ও তিন বাংলাদেশি নিহত হন। পরে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে ছয় জঙ্গি নিহত হয় বলে শনিবার সেনাসদরে এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

অভিযানে জীবিত উদ্ধার করা হয় তিন বিদেশি নাগরিকসহ ১৩ জিম্মিকে।

নিহতদের মধ্যে নয়জন ইতালির,সাতজন জাপানি ও একজন ভারতের নাগরিক। বাকি তিনজন বাংলাদেশি,যাদের মধ্যে একজনের যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বও ছিল। নিহত সাত জাপানির মধ্যে ছয়জনই মেট্রোরেল প্রকল্পের কাজে নিয়োজিত ছিলেন।

আর/১২:২৪/০৯ জুলাই

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে