Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 2.6/5 (7 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৭-০৬-২০১৬

ঈদের আনন্দের আগে দুই ফোঁটা অশ্রু

সৈয়দ আবুল মকসুদ


ঈদের আনন্দের আগে দুই ফোঁটা অশ্রু
যারা স্বজন হারিয়েছেন তাদের জন্য আমাদের চোখও শুকনো থাকেনি

রবীন্দ্রনাথ লিখে গেছেন, ‘উৎসর্গের দিন সৌন্দর্যের দিন।...মিলনের দ্বারা, প্রাচুর্যের দ্বারা, সৌন্দর্যের দ্বারা আমরা উৎসবের দিনকে বৎসরের সাধারণ দিনগুলির মুকুটমণিস্বরূপ করিয়া তুলি।’ [ধর্ম, ‘উৎসব’] পৃথিবীর সব সমাজেই উৎসব অনেক রকম। তবে ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসবের বৈশিষ্ট্য একই—মিলন।

মুসলমানের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর এক–দুদিন বাদেই। দোকানপাট, শপিংমলে চলছে কেনাকাটার ধুম। ফুটপাতের দোকানেও সীমাহীন ভিড়। এবং তারাই সমাজে সংখ্যায় বেশি। সুন্দর সুন্দর নতুন জামাকাপড়, জুতা-স্যান্ডেল চাই। উৎসবের দিনে সুন্দর কাপড়চোপড় ছাড়া আনন্দ হয় না। এবং সে পোশাকও একা পরে ঘরে বসে থাকার জন্য নয়। প্রিয়জন ও ঘনিষ্ঠদের সে পোশাক পরে দেখানো চাই। তার কারণ, রবীন্দ্রনাথ বলেছেন, ‘উৎসব একার নহে। মিলনের মধ্যেই সত্যের প্রকাশ—সেই মিলনের মধ্যেই সত্যকে অনুভব করা উৎসবের সম্পূর্ণতা।’

সেই মিলনের জন্যই সব সমাজে উৎসব উদ্যাপনের জন্য মানুষ ছুটে যায় প্রিয়জনদের কাছে। শত কষ্ট স্বীকার করে হলেও যাওয়া চাই। এবারের ঈদযাত্রায় মানুষের ভোগান্তি আগের বছরগুলোর তুলনায় কম। কারণ, মহাসড়কগুলোর অবস্থা গতবারের চেয়ে অনেক ভালো। দেশে বিক্ষিপ্ত বেদনাদায়ক ঘটনা ঘটছে। তার মধ্যেও একধরনের স্বস্তিতে ঈদ উৎসব উদ্যাপিত হবে বলে ধারণা করা গেছে। এমন অবস্থায় এমন এক অভাবিত ঘটনা ঘটল, যা প্রত্যক্ষ করে গোটা জাতি কিছু সময়ের জন্য হলেও স্তব্ধ হয়ে যায়। রোববার রাস্তাঘাট, দোকানপাটের সব মানুষের চোখেমুখেই ছিল বেদনার ছায়া। কেমন একধরনের উৎকণ্ঠা, যেন সব মানুষ আততায়ীর ছুরি ও বন্দুকের নলের মুখে দাঁড়িয়ে।

বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে একটি সশস্ত্র রক্তাক্ত মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে। স্বাধীনতাসংগ্রামের একটি প্রতিপক্ষ ছিল। শুধু পাকিস্তান সেনাবাহিনী নয়, দেশের ভেতরের পাকিস্তানবাদী কলাবরেটর। স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো পুঁজিবাদী পরাশক্তি। কমিউনিস্ট চীনের মতো আঞ্চলিক শক্তিও আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে এবং ভারতের সহযোগিতায় স্বাধীনতাসংগ্রামের বিরোধিতা করেছে। স্বাধীনতার পরে সেই সব শক্তি বাংলাদেশকে মুখে মেনে নিলেও মনে মেনে নিতে পারেনি। তা যে পারেনি, তা বোঝা গেল পঁচাত্তরের পনেরোই আগস্ট, যেদিন রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতিকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করা হলো।

পঁচাত্তরের পরে আন্তর্জাতিক আনুকূল্যে বাংলাদেশে ইসলামি মৌলবাদী শক্তির উত্থান ঘটে। মূলধারার দলগুলোর সঙ্গে পাকিস্তানবাদী জামায়াতে ইসলামীও সংসদে যায় এবং ক্ষমতারও ভাগ পায়। কিন্তু গত বছর কুড়ি যাবৎ অনেকগুলো উগ্রপন্থী ইসলামি গোষ্ঠী মাথাচাড়া দিয়েছে। তারা ইসলামি শরিয়াহ আইন প্রবর্তন করতে চায়। তারা বিভিন্ন সময় নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ঘটিয়ে সমাজে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। সরকার তাদের অনেককে আইনের আওতায় এনে শাস্তি দিতে পেরেছে। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির পর প্রেক্ষাপট পাল্টে গেছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি, অস্ত্র ও মাদক ব্যবসার বিস্তৃতি, মধ্যপ্রাচ্যে ইসলামি জিহাদি গোষ্ঠীর সৃষ্টি, বিশেষ করে সাম্প্রতিক আইএস নামের বিশ্ব-আতঙ্ক-সৃষ্টিকারী সংগঠনটির আত্মপ্রকাশ সব মুসলিম-অমুসলিম দেশের জন্যই একটি অভিশাপ। বাংলাদেশের আর্থসামাজিক অবস্থা অনেক দেশের চেয়েই স্বাভাবিক ছিল। সাড়ে সাত বছর যাবৎ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায়। এটি একটি মধ্যপন্থী অসাম্প্রদায়িক প্রগতিশীল দল। অল্পস্বল্প দেশীয় জঙ্গি তৎপরতা এই দলের সরকার প্রতিহত করতে পারবে, কিন্তু আন্তর্জাতিক চক্রান্তের জালে জড়িয়ে পড়লে তা সামাল দেওয়া অত্যন্ত কঠিন।

গুলশান ঘটনার পর সরকারি দলের নেতারা প্রথাগতভাবে বলছেন, তাঁরা সন্ত্রাসবিরোধী কমিটি গঠন করবেন সারা দেশে। কমিটি গঠন করেই আত্মঘাতী হামলা ঠেকানোর পর্যায়ে কি পরিস্থিতি আছে? তাঁরা ঐক্যের কথাও বলছেন। অন্য দলের সঙ্গে ঐক্য তো দূরের কথা, আওয়ামী লীগের মধ্যেই যে ঐক্য নেই, তা গত ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনেই প্রমাণ করেছেন তাঁরাই। এবং সর্বনিম্ন পর্যায়ে দলে সন্ত্রাসী রয়েছে তাও প্রমাণিত হয়েছে শ দেড়েক নিহত ও হাজার দশেক আহত হওয়ার মধ্য দিয়ে। সন্ত্রাসী স্বভাবের মানুষ দিয়ে সন্ত্রাস প্রতিরোধ সম্ভব কি না? ‘সবার’ সহযোগিতা চাইছেন। সবাই বলতে কারা? শুধু আওয়ামী লীগের লোক তো দেশের ‘সবাই’ নয়। তার বাইরের সহযোগিতা চাইলে বিনীতভাবে চাইতে হবে, চোখ রাঙিয়ে কারও থেকে সহযোগিতা পাওয়া সম্ভব নয়।

যে প্রক্রিয়াতেই সাংসদ হওয়ার বিরল গৌরব অর্জন করুন না কেন, নির্বাচন কমিশন একবার গেজেটে নাম তোলার পর দায়িত্ব ঘাড়ে এসে পড়ে। বর্তমান সংসদের মাননীয় সাংসদেরা রাজউকের প্লট ও ফ্ল্যাট দুটোই পাবেন, তাতে জনগণ খুশি। তবে কাগজপত্রে জনপ্রতিনিধি খেতাব পাওয়ার পরে এলাকার জনগণের পাশে একটু দাঁড়াতে হয়। সেবায়েত, পুরোহিত, ধর্মযাজক প্রমুখ খুন হচ্ছেন। তাঁদের পরিবারকে মৌখিক সান্ত্বনাটা দিতে পর্যন্ত সাংসদদের দেখা যায় না। 

রামকৃষ্ণ মিশনের প্রধানকে হত্যার হুমকি দেওয়া হলো। তৃতীয় দিন আমি গিয়ে শুনলাম, সেখানে এলাকার সাংসদ যাননি। পরে অবশ্য তিনি সেখানে গেছেন সেই সময়, যখন ভারতীয় হাইকমিশনার গেছেন। এ অবস্থায় মানুষের ভরসা কোথায়? কার ওপর ভরসা? বিভিন্ন দেশের নেতারা বাংলাদেশের ‘পাশে’ থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। তাতে সান্ত্বনা আছে, বিপদ-মুক্তির নিশ্চয়তা নেই।

কোনো দেশের কোনো সরকারের গৃহীত কোনো নীতিই ঐশী বাণী নয় যে তা অপরিবর্তনীয়। জাতির বৃহত্তর স্বার্থে ও জনগণের স্বার্থে তার পরিবর্তন সম্ভব এবং পরিবর্তন করাই কাম্য। সরকারের নীতিনির্ধারক ও ক্ষমতাসীন দলকে ভেবে দেখতে হবে তাদের কোনো অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক নীতি জঙ্গিদের নাশকতা চালাতে উৎসাহিত করে কি না। যদি তা করে, তাহলে সেই নীতির বিচার-বিশ্লেষণ করে তাতে পরিবর্তন আনাই দেশাত্মবোধের কাজ। কারণ, সম্মুখযুদ্ধে লড়াই করার শক্তি রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনীগুলো রাখে, আকস্মিকভাবে পরিচালিত আত্মঘাতী জঙ্গি নাশকতা প্রতিরোধ একেবারেই অসম্ভব।

বাংলাদেশের সরকারের অনুমোদিত বিজ্ঞ টক শোজীবীরাও প্রায়ই বলেন, নাশকতা বা জঙ্গি তৎপরতার জন্য গোয়েন্দা ব্যর্থতা দায়ী। অথবা গোয়েন্দাদের দুর্বলতা ছিল। এত সোজা মন্তব্য শুনতে ভালো লাগতে পারে শ্রোতাদের, কিন্তু বিষয়টি অত সোজা নয়। গোয়েন্দারা মানুষ। তাঁরা কোনো অলৌকিক শক্তির অধিকারী নন। চোখ-কান প্রভৃতি ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে তাঁদের কাজ করতে হয়। তাঁরা অন্তর্যামী নন। কোন জঙ্গলের গাছতলায় বসে দু-তিন বন্ধু কী পরিকল্পনা আঁটল, গোয়েন্দারা তা জানবেন কী করে? বড় বড় সংগঠনের নেতারা যদি কোনো ষড়যন্ত্রমূলক পরিকল্পনা করেন, সে সম্পর্কে তাঁদের ধারণা না থাকাটা বরং দুর্বলতা।

সব রাষ্ট্রেই নিরাপত্তা বিশ্লেষকের পদ রয়েছে। তাঁরা রাষ্ট্র কর্তৃক নিয়োজিত এবং দল-মত ও গোষ্ঠীস্বার্থের ঊর্ধ্বে থেকে কাজ করেন। তাঁরা নীরবে দায়িত্ব পালন করেন এবং সভা-সমাবেশ, বেতার-টেলিভিশনে আলোচনায় অংশগ্রহণের প্রয়োজন বোধ করেন না। তবে রাষ্ট্র আয়োজিত জাতীয় বা আন্তর্জাতিক সেমিনারে কখনো তাঁরা বক্তব্য দেন। এবং সেটুকু বক্তব্যই দেন, যেটুকু রাখা প্রয়োজন। তার বেশি রাজনীতিমিশ্রিত বক্তব্য প্রদান থেকে নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা বিরত থাকেন।

রাষ্ট্রের নিরাপত্তার বিষয় বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া এক জিনিস, আর বিশেষ পলিটিক্যাল এজেন্ডার পক্ষে জনমত গঠন আরেক জিনিস। নিরাপত্তা বিশ্লেষণের বেসরকারি সংস্থা বা থিঙ্কট্যাঙ্ক অনেক দেশেই আছে। বাংলাদেশে দু-তিন বছর যাবৎ সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় দু-চারজন নিরাপত্তা বিশ্লেষকের আবির্ভাব ঘটেছে। মিডিয়া সকাল-বিকেল তাঁদের কাছে ছুটছে। জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ে তাঁদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার অভাব নেই। সেই অভিজ্ঞতা ও জ্ঞানের প্রয়োগ রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থে হলে খুবই ভালো। তাঁদের বিশ্লেষণ যদি সরকারি দলের রাজনৈতিক এজেন্ডা-নিরপেক্ষ না হয়, তাহলে এবং তা যদি জনগণের ঐক্য ও রাষ্ট্রীয় সংহতিকে নষ্ট করে, তাহলে সেই নিরাপত্তা বিশ্লেষণের কোনো মূল্যই নেই।

গুলশান রেস্তোরাঁর ঘটনার সময় এবং ট্র্যাজেডিটি ঘটে যাওয়ার পরপর দু-তিনটি চ্যানেলে কয়েকজন বিশ্লেষকের কথাবার্তা গভীর বেদনার মধ্যে ভীষণ বিরক্তির সৃষ্টি করেছে। জাতীয় জীবনের কোনো কোনো সংকটময় মুহূর্তে দলীয় রাজনীতির প্রচার মানুষকে ক্ষুব্ধ করে। তার চেয়েও বড় কথা, তাতে সরকারের কোনো উপকার হয় না। তাঁদের কথা সরকারের নেতারা বড়জোর উপভোগ করতে পারেন। যখন-তখন অপছন্দের রাজনৈতিক দলের নেতাদের দিকে আঙুল তাক করলে মানুষের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।

প্রতিটি ঘটনার পর দায়িত্ববান ব্যক্তিরা একেকজন একেক রকম কথা বলেন। তাতে মানুষ আরও বিপন্ন বোধ করে। পুলিশপ্রধান বললেন, নিহত জঙ্গিরা তাঁদের তালিকায় ছিল এবং খুঁজছিলেন। তাহলে তাদের নাম-ঠিকানা ও ছবি পত্রিকায় প্রকাশ করা উচিত ছিল। তাতে তাঁরা হয়তো ওই দিন রেস্তোরাঁয় ওই নারকীয় ঘটনা ঘটাতে সাহস পেত না। হয় স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসত, নয়তো পালিয়ে বেড়াত। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, আন্তর্জাতিক জঙ্গিদের সঙ্গে নিহত জঙ্গিদের কোনো সম্পর্ক নেই। দেশীয় কারও পরামর্শে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। এই তথ্যে মানুষের আশ্বস্ত হওয়ার কারণ কোথায়?

পৃথিবীতে যে মহামারি শুরু হয়েছে তার জন্য আমরা দায়ী নই, দায়ী শক্তিধর দেশগুলো, আমরা ভুক্তভোগী। এখন বিভেদের সময় নয়, ঐক্য ছাড়া বাঁচা যাবে না। যিনি যে অবস্থাতেই থাকুন, সমাজটাকে সুস্থ রাখা সবার কর্তব্য। শুধু পুলিশি অভিযানে সামাজিক রোগ দূর হয় না। আমরা কলেরা, গুটিবসন্ত দূর করেছি কড়া ওষুধ খাইয়ে নয়—প্রতিষেধক ইনজেকশন ও টিকা দিয়ে। শারীরিক রোগ হোক বা সামাজিক রোগ হোক, প্রয়োজন প্রতিষেধক। তখন রোগই হবে না, চিকিৎসারও প্রয়োজন হবে না। যেসব পরিবারের ছেলেরা আত্মঘাতী পথে গেছে, তাদের অভিভাবকেরা এই বর্বরতার দায় এড়াতে পারেন না। অবশ্যই তাঁরা জানতেন তাঁদের ছেলেরা কী করে।

কর্তব্য পালন করতে গিয়ে ওই নিয়তিনির্দিষ্ট রাতে যে দুই পুলিশ কর্মকর্তা রবিউল করিম ও সালাউদ্দিন জীবন দিয়েছেন, তাঁরা ছিলেন আমার খুবই পরিচিত। দেখা হলে আমাকে খাতির-যত্ন করেছেন। ফারাজ, অবিন্তা, তারুশিসহ যাঁরা নিহত হয়েছেন, তাঁদের পরিবার-পরিজনকে সান্ত্বনা দেওয়া সম্ভব নয়। তাঁদের শুধু বলতে চাই, একেবারে নির্দোষ তাঁদের প্রিয়তমদের এই করুণ পরিণতিতে আমাদের চোখও শুকনো থাকেনি, তা থেকে পড়েছে দুই ফোঁটা পানি।

সৈয়দ আবুল মকসুদ: লেখক ও গবেষক।

এফ/১৫:৫৭/০৬জুলাই

মুক্তমঞ্চ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে