Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৭-০৫-২০১৬

নিখোঁজ দেড়-দুইশ যুবক মধ্যপ্রাচ্যে!

নিখোঁজ দেড়-দুইশ যুবক মধ্যপ্রাচ্যে!

ঢাকা, ০৫ জুলাই- নিরাপত্তা বিশ্লেষক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, দেড় থেকে দুইশ নিখোঁজ বাংলাদেশি যুবক জঙ্গি সংঠন আল-কায়েদা বা ইসলামিক স্টেটের (আইএস) ‘শিকার’ হয়ে এখন মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থান করছে।

গতকাল গুলশানে একটি শোক অনুষ্ঠানে সাবেক এ নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘আমরা জানি না আমাদের গ্রাম ও শহর থেকে কত সংখ্যক যুবক নিখোঁজ হয়েছে। তবে আমার ব্যক্তিগত ধারণা, এ সংখ্যাটা দেড় থেকে দুইশ। তাদের একটি বড় অংশই মধ্য প্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে রয়েছে। এটা আমাদের জন্য খুবই উদ্বেগজনক।’

ধর্মের নামে বর্বরতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক দিয়ে সোমবার গুলশান সোসাইটি হলি আর্টিজান বেকারিতে সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের স্মরণে এ শোক সভার আয়োজন করে। সোসাইটির সভাপতি এ টি এম শামসুল হুদার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার ওমর সাদাত।

গত শুক্রবার রাতে রাজধানীর গুলশান-২ নম্বর সেকশনের স্প্যানিশ রেস্তোরাঁ হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। সেখানে তারা দেশি-বিদেশিদের জিম্মি করে রাখে। সন্ত্রাসীদের প্রতিরোধ করতে গিয়ে রাতেই নিহত হন বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাহউদ্দিন খান এবং গোয়েন্দা বিভাগের সহকারী কমিশনার রবিউল করিম। এ ছাড়া এ সময় আহত হন অর্ধশতাধিক পুলিশের সদস্য।

পরদিন শনিবার সকালে জিম্মিদের উদ্ধারে অভিযান চালায় যৌথ বাহিনী। অভিযান শেষে ঢাকা সেনানিবাসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গুলশানের হলি আর্টিজান থেকে ২০ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের সবাইকে গত শুক্রবার রাতেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করা হয়। অভিযানে সাত সন্ত্রাসীর মধ্যে ছয়জন নিহত হয়।

নিহতদের মধ্যে নয়জন ইতালির, সাতজন জাপানি ও একজন ভারতের নাগরিক। বাকি তিনজন বাংলাদেশি, যাদের মধ্যে একজনের যুক্তরাষ্ট্রেরও নাগরিকত্ব ছিল।

এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে সামাজিক ও পারিবারিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেন নিরাপত্তা বিশ্লেষক সাখাওয়াত হোসাইন। তিনি বলেন, ‘আগে নিজের পরিবারের দিকে তাকাতে হবে, তারপর প্রতিবেশীর দিকে।’

বৈশ্বিক ঘটনাবলী ও তাঁর পরিপ্রেক্ষিতে এসব ঘটনার গুরুত্ব উপলব্ধির কথা উল্লেখ করে সাবেক এ সেনা কর্মকর্তা বলেন, ‘এখন যে বিশ্ব পরিস্থিতি, তাতে এখানে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর সংশ্লিষ্টতা অস্বীকারের কোনো উপায় নেই। আপনি যতই এগুলো অস্বীকার করবেন, তাতে তাদের ততই সুযোগ করে দেবেন।’

আইএস বা আল-কায়েদা আছে কি নেই তা নিয়ে চিন্তিত নন জানিয়ে এ নিরাপত্তা বিশ্লেষক বলেন, ‘আমি দেখতে পাচ্ছি, এখানে আমার সন্তানের ওপর তাদের মতাদর্শ কাজ করছে। তাদের কেউ কিন্তু সিরিয়া বা ইরাক থেকে আসেনি।’

সাবেক এ নিরাপত্তা বিশ্লেষক জিম্মিদের উদ্ধারে যৌথ অভিযানের সময় নিয়েও প্রশ্ন তুলেন। তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাসীরা জানত, তারা কেউ জীবিত ফিরে যাবে না। ফলে তাদের সঙ্গে আলোচনা বা সমঝোতার ব্যাপার নেই। তারা সমঝোতা করতে আসেনি। তারা হত্যা করতে এসেছে এবং সারা দুনিয়ায় এটার প্রচার চেয়েছে।’  

মধ্যবিত্ত বা উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তানরা কেন এ পথে ধাবিত হচ্ছে সেটাও খতিয়ে দেখা উচিত বলে মনে করেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) সাখাওয়াত হোসেন।

অনুষ্ঠানে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ঐক্যবদ্ধ পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন সভাপতি এ টি এম শামসুল হুদা। সভায় নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

এফ/০৯:৫৯/০৫জুলাই

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে