Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English
» নাসিরপুরের আস্তানায় ৭-৮ জঙ্গির ছিন্নভিন্ন মরদেহ **** ইমার্জিং কাপে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ       

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৭-০৪-২০১৬

চিরচেনা বাড়ি থেকে চিরবিদায় অবিন্তার

চিরচেনা বাড়ি থেকে চিরবিদায় অবিন্তার

ঢাকা, ০৪ জুলাই- বাড়ি থেকে মেয়ে একেবারে চলে যাচ্ছে। তাই হয়তো আকাশ কালো হয়ে ঝুম বৃষ্টি শুরু হলো। বিকেল চারটা ১০ মিনিটে লাশবাহী ফ্রিজিং গাড়ি ঢুকল বাড়ির গাড়ি বারান্দায়। কাচ দিয়ে ঘেরা বাড়ির মূল ফটকে দোলনচাঁপা ও রজনীগন্ধা ফুল দিয়ে সাজানো। গাড়ি বারান্দায় বড় বড় রজনীগন্ধা। গাড়ি বারান্দায় একটি বড় ফ্রেমে ছবিতে মেয়ের চশমা চোখে, চুল খোলা, হাসিমাখা মুখ। চারপাশে রজনীগন্ধা, দোলনচাঁপা ও আগরবাতির গন্ধ।

মেয়ের হাসিমাখা মুখের ছবিটিকে পেছনে ফেলে লাশবাহী গাড়ি যখন চলতে শুরু করেছে তখন ঘড়ির কাটায় চারটা ৩০ মিনিট। তখনো আকাশের কান্না থামেনি। 

আজ সোমবার অবিন্তা কবীর তাঁর চিরচেনা বাড়ি থেকে চিরবিদায় নিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টার ইমোরি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অবিন্তা কবীর। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক ল্যাভেন্ডার গ্রুপের মালিক মনজুর মোরশেদের নাতনি তিনি। পরিবারের সদস্য ও বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে দেখা করতে সম্প্রতি বাংলাদেশে এসেছিলেন। বাড়িতে আনন্দের বন্যা শুরু হয়। আর আজ তিনি চলে গেলেন চিরতরে সবাইকে কাঁদিয়ে। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় অবিন্তা কবীর গিয়েছিলেন রাজধানীর গুলশানের রেস্তোরাঁ হলি আর্টিজান বেকারিতে। সেখানে জঙ্গি হামলায় প্রাণ হারান তিনি। আজ বাদ আসর গুলশানের আজাদ মসজিদে তাঁর জানাজা হয়। তারপর বনানী কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।

গত শনিবার রেস্তোরাঁটিতে রক্তাক্ত অভিযান শেষ করার পর জানা যায়, নিহত ২০ জন জিম্মির মধ্যে ৩ জন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী। এঁদের একজন অবিন্তা। 

এলিগ্যান্ট গ্রুপের কর্মকর্তা লিয়াকত হোসেন এর আগে জানিয়েছিলেন, গুলশানে জঙ্গি হামলার পর এলিগ্যান্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান রুবা আহমেদ নিজেই একমাত্র মেয়ে অবিন্তা কবীরের লাশ শনাক্ত করেন। অবিন্তার বাবা ইহসানুল কবির রোববার রাতে দেশে ফিরেছেন। 

আজ সকাল ১০টা ২ মিনিটে নিহতদের প্রতি আর্মি স্টেডিয়ামে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সর্বস্তরের মানুষ ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান । শ্রদ্ধা নিবেদনের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অবিন্তা কবীরের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেন। এ সময় অবিন্তার স্বজনেরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। প্রধানমন্ত্রী তাঁদের সান্ত্বনা দেন। তাঁদের সঙ্গে কথা বলেন। তারপরই স্বজনেরা লাশ নিয়ে গুলশান ৫০ নম্বর সড়কের দুই নম্বর বাড়িতে ফেরেন। 

তারপর থেকেই বাড়িতে আসতে থাকেন আত্মীয়স্বজন। অধ্যাপক আনিসুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন। তবে সারা দিনই গণমাধ্যমের কর্মীদের বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। শুধু একবার গাড়ি বারান্দা পর্যন্ত গিয়ে অবিন্তা কবীরের ছবি তোলার সুযোগ পান গণমাধ্যমকর্মীরা।

১০ তলা ভবনের বাড়িটি ঘিরে ছিল সুনসান নীরবতা। বাড়িতে দায়িত্ব পালন করছেন আটজন গানম্যান। সিসিটিভি লাগানো। অবিন্তা কবীরের লাশ দেখে যাঁরা ফিরে যাচ্ছিলেন তাঁরা চোখ মুছতে মুছতে বের হন। বাড়ির ভেতর থেকে বের হয়ে আসা এক ব্যক্তি জানালেন, অবিন্তাকে জবাই করা হয়েছিল। গলা শরীরের সঙ্গে একটু লেগে ছিল। বাড়িতে লাশ নেওয়ার পর থেকে গাড়িতে করে বড় বড় বরফ এনে জমা করছিলেন স্বজনেরা। বাড়ির নয় তালায় লাশ গোসল করান আত্মীয়েরা।

আর/১০:৪৪/০৪ জুলাই

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে