Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৭-০৪-২০১৬

এত নিরাপত্তা কীভাবে পেরোল জঙ্গিরা

আশিক আহমেদ


এত নিরাপত্তা কীভাবে পেরোল জঙ্গিরা

ঢাকা, ০৪ জুলাই- কূটনৈতিক এলাকা বলে  সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া আছে রাজধানীর গুলশানে। বিভিন্ন সড়কের প্রবেশপথ থেকে শুরু করে নানা পয়েণ্টে তল্লাশি চৌকি, কোথাও কোথাও গতিরোধক স্থাপনসহ মোতায়েন থাকে পুলিশ।  আছে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে স্থাপিত সিসি ক্যামেরা।  অনেকে নিজের বাড়ির সামনে সিসি ক্যামেরা বসিয়েছেন নিরাপত্তার জন্য।

কিন্তু কোনো কিছুই পরোয়া করেনি জঙ্গিরা। তাদের লক্ষ্যবস্তু স্প্যানিশ রেস্তোরাঁ হলি আর্টিজান বেকারিতে তারা পৌঁছে গেছে নির্বিঘ্নে।

এত সিসি ক্যামেরা ও নিরাপত্তাবলয় পার হয়ে বিপুল অস্ত্র-গোলাবারুদ নিয়ে সাত জঙ্গি কীভাবে পৌঁছাল লক্ষ্যবস্তুতে- এই প্রশ্ন এখন সবার মনে।

বিভিন্ন দূতাবাসে কর্মরত নিরাপত্তারক্ষী ও পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইফতারের পর থেকে ঘণ্টা খানেক গুলশান এলাকায় নিরাপত্তা কিছুটা শিথিল থাকে বলেই তারা দেখে আসছেন।  জঙ্গিরা সেই সুযোগটিই নিয়েছে।

কাতার দূতাবাসে কর্মরত এক পুলিশ সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দুটি মাইক্রোবাস আর্টিজানের সামনে জঙ্গিদের নামিয়ে দিয়ে চলে যায়। আর নেমেই গুলি-বোমা ছোড়ে জঙ্গিরা।  দুই থেকে তিন ভাগে বিভক্ত আর্টিজানে প্রবেশ করে। তাদের কাঁধে ছিল কালো রঙের ব্যাগ। ওই ব্যাগে করে নিশ্চয়ই তারা অস্ত্র ও গোলাবারুদ এনেছে। তারও প্রশ্ন, এটা কী করে সম্ভব?

গুলশানের  মতো কূটনৈতিক এলাকায় আধা ডজনের বেশি জঙ্গি এত অস্ত্র-গোলাবারুদ নিয়ে কীভাবে ঢুকতে পারে বলে মনে করেন, জানতে চাইলে এক পুলিশ সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে  বলেন, ইফতার শেষ ও তারাবির মাঝখানের সময় গুলশান এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থাগুলো কিছুটা শিথিল থাকে।  এ কারণেই এমন ঘটনা ঘটা সম্ভব হয়েছে।

কেন এ সময় নিরাপত্তা শিথিল থাকে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “তা তো বলতে পারব না। কিন্তু এমনটাই দেখে আসছি।”

৭৯ রোডের একটি বাড়িতে ভাড়া থাকেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মাসুদ।  তিনিও মনে করেন সন্ধ্যার পর ওই সময়টায় তল্লাশি কিছুটা কম হয়। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “যাতায়াতের সময় প্রায়ই তল্লাশিতে পড়ি আমরা। তবে সন্ধ্যার পর ওই সময়টায় বিশেষ করে রমজান মাসে তেমন একটা তল্লাশিতে পড়তে হয়নি।”

গুলশানের ৭৯ নম্বর রোডে অবস্থিত ইতালিয়ান দূতাবাসে কর্মরত এক সিকিউরিটি গার্ড বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, চারপাশে এত এত ব্যবস্থা দেখা যায়, তার মধ্যে এমন ঘটনা কীভাবে ঘটে!  ‘দেশের বারটা বাজানো’র জন্য এমন ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

ভারতের দূতাবাসে কর্মরত আরেক পুলিশ সদস্য অবশ্য দাবি করেন, টহল পুলিশের চোখে পড়েছিল প্রথমেই। তারাই বনানী থানায় খবর দেয়।

জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম শাখার অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মোহাম্মদ ইউসুফ আলী বলেন, “আপনি ডিপ্লোমেটিক জোনের ডিসির সঙ্গে কথা বলেন। উনিই এ বিষয়ে ভালো বলতে পারবেন।”

এ ব্যাপারে ডিপ্লোমেটিক সিকিউরিটি বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়। তিনি সাংবাদিক পরিচয় শুনে ‘পরে ফোন করেন’ বলে ফোন কেটে দেন।

গত শুক্রবার রাত সাড়ে আটটার দিকে গুলশান-২ এর ৭৯ নম্বর রোডের স্প্যানিশ রেস্তোরাঁ হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা চালিয়ে সেখানকার লোকজনকে জিম্মি করে জঙ্গিরা। রাত সাড়ে ১০টার দিকে জিম্মি উদ্ধারে গিয়ে নিহত হন  ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের সহকারী কমিশনার মো. রবিউল ইসলাম ও বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন।

পরদিন সকালে সেনাবাহিনী  সকমান্ডো অভিযান চালিয়ে জিম্মিদের মুক্ত করেন। এ সময় ছয় জঙ্গি নিহত হয়। জীবিত উদ্ধার করা হয় ১৯ জিম্মি। এর আগে রাতেই দেশি-বিদেশি ২০ জিম্মিকে হত্যা করে জঙ্গিরা।

আর/১২:০৪/০৪ জুলাই

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে