Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 2.0/5 (1 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৭-০৩-২০১৬

শবে কদর : আল্লাহর সান্নিধ্য অর্জনের অপূর্ব সুযোগ

ফয়জুল আল আমীন


শবে কদর : আল্লাহর সান্নিধ্য অর্জনের অপূর্ব সুযোগ

বিশেষত রমজানের শেষ দশকে ইবাদতের প্রতি বেশি যত্নবান হওয়া উচিত এবং অধিক পরিমাণে রাত জাগরণ করা উচিত। যাতে শবেকদরের ফজিলত অর্জন হয়।

লাইলাতুল কদর রমজানের বিশেষ এক নেয়ামত। মহান আল্লাহতায়ালা এ নেয়ামত অন্য কোনো নবীর উম্মতকে দান করেননি। পূর্ববর্তী উম্মতের আয়ু ছিল দীর্ঘ। উম্মতে মুহাম্মদীর আয়ু সে তুলনায় খুবই কম। তাই আল্লাহপাক অনুগ্রহপূর্বক মহানবীর (সা.) উম্মতকে শবেকদর দান করেছেন এবং এক রাতের ইবাদতের মর্যাদা এক হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও অধিক বলে ঘোষণা দিয়েছেন। ২১ থেকে ৩০ রমজানের মধ্যে যে কোনো বেজোড় রাতে শবেকদর হতে পারে। তবে অধিকাংশের মতে, ২৬ তারিখ দিবাগত রাতে অর্থাৎ ২৭তম রাতে হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

লাইলাতুল কদর অত্যন্ত মাহাত্ম্যপূর্ণ রাত। এ রাতের মর্যাদার কারণেই মূলত তাকে ‘লাইলাতুল কদর’ বলা হয়। আমাদের অনেকেই যাকে ‘শবেকদর’ বলে থাকি। শবেকদরের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো- এ রাতের মানবতার মুক্তির সনদ মহাগ্রন্থ আল কোরআন লওহে মাহফুজ থেকে দুনিয়ার আসমানে নাজিল করা হয়েছে। এরপর দীর্ঘ ২৩ বছর বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন সময়ের তা মহানবীর (সা.) ওপর অবতীর্ণ করা হয়েছে। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) রমজান মাসের শেষ ১০ দিন ইতেকাফ করতেন এবং বলতেন, ‘তোমরা রমজানের শেষ ১০ রাতে শবেকদর সন্ধান করো।’ (সহিহ বোখারি ও মুসলিম) হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, ‘যে ব্যক্তি ইমানের সঙ্গে ও সওয়াব হাসিলের উদ্দেশ্যে কদরের রাতে দ-ায়মান হয়, তার অতীতের সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে। (সহিহ বোখারি ও মুসলিম)

এ রাতে ইবাদত-বন্দেগি করার গুরুত্ব অপরিসীম। এ রাতে অধিক পরিমাণে নামাজ পড়া, কোরআন তেলাওয়াত ও জিকির-আজকারে মশগুল থাকা আমাদের সবার কর্তব্য। একাধিক হাদিসে এর ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। অন্য হাদিসে আছে, ‘যে ব্যক্তি ইবাদতের মাধ্যমে শবেকদর লাভ করবে, কিয়ামতের দিন আল্লাহতায়ালা তার মর্যাদা বুলন্দ করবেন।’

কেউ যদি পূর্ণ অর্জনের এমন বড় সুযোগ পেয়েও গাফেল ও অমনোযোগী থাকে তবে তার মতো হতভাগা আর কে হবে? অতএব রমজানের কোনো মুহূর্তকে নষ্ট করা উচিত নয়। বিশেষত রমজানের শেষ দশকে ইবাদতের প্রতি বেশি যত্নবান হওয়া উচিত এবং অধিক পরিমাণে রাত জাগরণ করা উচিত। যাতে শবেকদরের ফজিলত অর্জন হয়।

লাইলাতুল কদর চেনার ১৩টি আলামত
যে রাতটি লাইলাতুল কদর হবে সেটি বোঝার কিছু আলামত একাধিক হাদিসে বর্ণিত আছে। সেগুলো হলো:
১. এ রাতটি রমজান মাসে। আর এ রাতের ফজিলত কিয়ামত পর্যন্ত জারী থাকবে।
২. এ রাতটি রমজানের শেষ দশকে।
৩. এটি রমজানের বেজোড় রাতে হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
৪. রমজানের ২৭ রজনী লাইলাতুল কদর হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। হাদিসে আছে, উবাই ইবনে কাব হতে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, তিনি বলেন যে, আল্লাহর শপথ করে বলছি, আমি যতদূর জানি রাসুল (সা.) আমাদেরকে যে রজনীকে কদরের রাত হিসেবে কিয়ামুল্লাইল করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন তা হল রমজানের ২৭তম রাত। (সহিহ মুসলিম) হজরত আবদুল্লাহ বিন উমার থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কদরের রাত অর্জন করতে ইচ্ছুক, সে যেন তা রমজানের ২৭ রজনীতে অনুসন্ধান করে।’ (আহমাদ) কদরের রাত হওয়ার ব্যাপারে সম্ভাবনার দিক থেকে পরবর্তী দ্বিতীয় সম্ভাবনা হলো ২৫ তারিখ, তৃতীয় হলো ২৯ তারিখে। চতুর্থ হলো ২১ তারিখ। পঞ্চম হলো ২৩ তারিখের রজনী। আরেকটি মত হলোÑ মহিমান্বিত এ রজনীটি স্থানান্তরশীল। অর্থাৎ প্রতি বৎসর একই তারিখে বা একই রজনীতে তা হয় না এবং শুধুমাত্র ২৭ তারিখেই এ রাতটি আসবে তা নির্ধারিত নয়। আল্লাহর হিকমত ও তার ইচ্ছায় কোনো বছর তা ২৫ তারিখে, কোনো বছর ২৩ তারিখে, কোনো বছর ২১ তারিখে, আবার কোনো বছর ২৯ তারিখেও হয়ে থাকে।
৭. রাতটি গভীর অন্ধকারে ছেয়ে যাবে না।
৮. সেই রাত নাতিশীতোষ্ণ হবে। অর্থাৎ গরম বা শীতের তীব্রতা থাকবে না।
৯. মৃদুমন্দ বাতাস প্রবাহিত হতে থাকবে।
১০. সে রাতে ইবাদত করে মানুষ অপেক্ষাকৃত অধিক তৃপ্তিবোধ করবে।
১১. ওই রাতে বৃষ্টি বর্ষণ হতে পারে।
১২. সকালে হালকা আলোকরশ্মিসহ সূর্যোদয় হবে। যা হবে পূর্ণিমার চাঁদের মতো। (সহিহ ইবনু খুজাইমা : ২১৯০; বোখারি : ২০২১; মুসলিম : ৭৬২)

এফ/০৭:২২/০৩ জুলাই

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে