Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.0/5 (15 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৭-০২-২০১৬

ওসি সালাইউদ্দিনের বাড়িতে শোকের মাতম

ওসি সালাইউদ্দিনের বাড়িতে শোকের মাতম

গোপালগঞ্জ, ০২ জুলাই- স্বজনদের কান্না আর আহাজারিতে ভাড়ি হয়ে উঠছে গোপালগঞ্জ শহর। সর্বত্র এখন শোকের ছায়া। সবাই বাক রুদ্ধ। এমন খবর শোনার জন্য কেউ প্রস্তুত ছিলেন না। কেউ ভাবেনও নাই এমনটি বাংলাদেশে হতে পারে। কিন্তু সব ভাবনার ব্যাত্যয় ঘটিয়ে জঙ্গিগোষ্ঠীর বুলেট আর গ্রেনেটর আঘাতে মুহূর্তেই ঝড়ে গেল সৎসাহসী পুলিশ অফিসার সালাহউদ্দিনের জীবন। 

শুক্রবার রাতে ঢাকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন বনানী থানার ওসি সালাউদ্দিন লুই। তার গ্রামের বাড়ি বঙ্গবন্ধুর জন্মভূমি গোপালগঞ্জ শহরের ব্যাংক পাড়ায়। রাতেই গণমাধ্যমে ওসি সালাহউদ্দিনের মৃত্যুর সংবাদ শোনার পর থেকে গোপালগঞ্জ শহরের ব্যাংক পাড়ার বাসায় আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসী ভিড় করেন। তারা শোক সন্তপ্ত পরিবারকে সান্ত্বনা দেয়ার চেষ্টা করছেন।

ওসি সালাউদ্দিনকে গোপালগঞ্জের মানুষ লুই নামে চিনে। একজন ভালো, পরোপকারী মানুষ হিসেবে এলাকায় তার ব্যাপক পরিচিতি। সেই মানুষটি এতো তাড়াতাড়ি সবাইকে ছেড়ে এভাবে চলে যাবে তা যেন কেউ মেনে নিতে পারছেন না।

ওসি লুইর হত্যাকারীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক বিচার করতে না পারলে এ ধরনের ঘটনা দেশে আরো বৃদ্ধি পাবে। তাই এদের মূলউৎপাটন করার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী।

নিহত লুইর ছোট ভাই মোহাম্মদ আলী খান বলেন, ‘আমার ভাই নিরীহ মানুষ বাঁচাতে গিয়ে শহীদ হয়েছেন। সে আমাদের কাছে বাবার সমতুল্য ছিলেন। আমাদের সব ভালো মন্দই তিনি দেখতেন। আমরা এ হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করছি।’

প্রতিবেশী ও গোপালগঞ্জ জেলা উদীচীর সভাপতি নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘ওসি সালাহউদ্দীন একজন সাহসী পুলিশ অফিসার ছিলেন। আর এ কারণেই তাকে অকালে জীবন দিতে হল। এ জন্য শুধু গোপালগঞ্জ শহর নয়, সারা জেলাবাসী শোকে কাতর। আমরা এ হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করছি।’

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শেখ লুৎফর রহমান বাচ্চু বলেন, ‘লুই একজন চৌকস ও স্বাধীনতার স্বপক্ষের পুলিশ অফিসার ছিলেন। বিভিন্ন সময় সরকার উৎখাতের যড়ষন্ত্র প্রতিহত করতে তার ব্যাপক ভূমিকা ছিল। এ হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত ও তাদের মদদ দাতাদের বিচারের আওতায় আনার জন্য সরকারের কাছে দাবি করছি।’

নিহত সালাহ উদ্দীন লুই একজন চৌকস পুলিশ অফিসার হিসেবে পরিচিত ছিলেন। মানুষের বিপদ-আপদে সবার আগে এগিয়ে আসার চেষ্টা করতেন। বিভিন্ন মসজিদ-মাদরাসা নির্মাণে সহযোগিতা করতেন। প্রতি বছর ঈদের সময় গরীব মানুষকে নতুন কাপড় ও টাকা দিয়ে সহযোগিতা করতেন। তাই একজন ভালো মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি।

ওসি সালাউদ্দীন লুইর বাবার নাম আব্দুল মান্নান খান। তিনি গোপালগঞ্জ এস এম মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। ৭ ভাই ৪ বোনের মধ্যে লুই ছিলেন পঞ্চম। বাবার মৃত্যুর পর পরিবারের সদস্যদের কাছে ওসি লুই ছিলেন পিতৃ সমতুল্য। পুরো পরিবারটি তার ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। পরিবারের প্রায় প্রতিটি সদস্যের যাবতীয় খরচ তিনি চালাতেন। তাই তার অকাল মৃত্যু কেউ মেনে নিতে পারছেন না।

এফ/২৩:০৫/০২ জুলাই

গোপালগঞ্জ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে