Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৭-০১-২০১৬

মেনিনজাইটিসের ঘরোয়া প্রতিকার

সাবেরা খাতুন


মেনিনজাইটিসের ঘরোয়া প্রতিকার

আধুনিক বিশ্বের একটি ভীতিকর অসুস্থতা হচ্ছে মেনিনজাইটিস। এর কারণ এর ভীতিজনক লক্ষণ বা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার জন্যই বা এটি প্রাণনাশক বলেই না বরং এটি একটি বহুরূপী রোগও বটে। মস্তিষ্ক ও স্পাইনাল কর্ডের আবরণের তীব্র প্রদাহকে মেনিনজাইটিস বলে। বিভিন্ন কারণে এই প্রদাহ হতে পারে যেমন-  ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস বা ছত্রাকের সংক্রমণের কারণে এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে ঔষধের প্রতিক্রিয়াতেও হয়ে থাকে।

মেনিনজাইটিসের লক্ষণের সাথে ফ্লু বা তীব্র ঠান্ডার লক্ষণের মিল আছে। এছাড়াও ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া, মাথাব্যথা, আলোর প্রতি সংবেদনশীলতা, জ্ঞানীয় বৈকল্য, অস্বস্তিবোধ, ক্লান্তি বা জ্বর ও থাকতে পারে। লক্ষণের বিভিন্নতা যা ব্যক্তিবিশেষেও ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। তাই এই প্রদাহজনিত রোগটি শনাক্ত করা ও চিকিৎসা শুরু করার আগেই হয়ে উঠতে পারে জীবনসংহারি।

ভাইরাসজনিত মেনিনজাইটিসে আক্রান্ত হলে ৩ দিনের মধ্যে রোগী ভালো হতে শুরু  করে এবং ২ সপ্তাহের মধ্যে ভালো হয়ে যায়। ভাইরাসজনিত মেনিনজাইটিস যদি হালকা ধরণের হয় তাহলে ঘরোয়া প্রতিকারের মাধ্যমেই এর নিরাময় করা সম্ভব যেমন- বেশি করে তরল খাবার খাওয়া এবং ব্যথা ও জ্বরের জন্য ঔষধ খাওয়া। তীব্র ভাইরাল বা ব্যাকটেরিয়াল মেনিনজাইটিস নিরাময়ের জন্য হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রয়োজন হয়। এন্টিবায়োটিক, করটিকোস্ট্যারয়েড এবং জ্বর কমানোর ঔষধ দেয়া হয়, অক্সিজেন ও স্যালাইন দিতে হতে পারে। যদি মেনিনজাইটিসের চিকিৎসা করা না হয় তাহলে বধিরতা ও স্থায়ী জ্ঞানীয় ক্ষতি হতে পারে এমনকি মৃত্যুও হতে পারে। কিছু ঘরোয়া প্রতিকারের মাধ্যমে ইমিউন সিস্টেমকে উদ্দীপিত করে মেনিনজাইটিস নিরাময় করা যায়। আসুন তাহলে জেনে নিই মেনিনজাইটিসের ঘরোয়া প্রতিকার সম্পর্কে।

১। সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকা
মেনিনজাইটিসের চিকিৎসার প্রথম ধাপে রোগীকে সম্পূর্ণ বেড রেস্টে থাকতে হবে। এতে উপসর্গগুলো কমতে সাহায্য করবে। বেড রেস্টে থাকাকালীন টাইম পাসের জন্য বই পড়া, টিভি দেখা ও গান শোনার মত কাজগুলো করতে পারেন।

২। কোল্ড প্যাক
মেনিনজাইটিসের অন্যান্য উপসর্গের পাশাপাশি জ্বর আসা মারাত্মক হতে পারে যা চিকিৎসা ও নিরাময়কে জটিল করে তুলতে পারে। তাই জ্বর নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য কোল্ড প্যাক ব্যবহার করুন। নিয়মিত আইস প্যাক ব্যবহার করলে জ্বর কম থাকবে এবং ইমিউন সিস্টেম প্রদাহ ও ইনফেকশনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে পারবে। 

৩। ন্যাচারাল বাথ
স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানিতে গোসল করলে সারা শরীরে সঠিকভাবে রক্ত সংবাহিত হয়। এর ফলে মস্তিষ্ক ও স্পাইনাল কর্ডের প্রদাহ ও অস্বস্তি কমে।

৪। রসুন
রসুনে অ্যালিসিন নামক সক্রিয় উপাদান থাকে। এছাড়াও শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে যা ব্যাকটেরিয়া নাশক ও ভাইরাস নাশক উপাদানে সমৃদ্ধ। মেনিনজাইটিসের প্রকোপ কমানোর জন্য রসুন গ্রহণ করুন।

৫। জলপাই পাতার রস
মেনিনজাইটিসের নিরাময়ের জন্য জলপাই পাতার রস গ্রহণ করুন। কারণ এতে অ্যান্টিভাইরাল ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান আছে। জলপাই পাতার রসের প্রদাহ নাশক ক্ষমতাও আছে। তাই মেনিনজাইটিসের প্রদাহ দূর করতে, জ্বর কমতে এবং ব্যথা ও অস্বস্তি দূর করতে সাহায্য করে জলপাই পাতার রস।

ভাইরাল মেনিনজাইটিসের চেয়ে ব্যাকটেরিয়াল মেনিনজাইটিস মারাত্মক ধরণের হয়ে থাকে। তাই সঠিকভাবে চিকিৎসা গ্রহণ করা প্রয়োজন। চিকিৎসার পাশাপাশি উপরের পরামর্শগুলো অনুসরণ করলে দ্রুত নিরাময় লাভ করা যায়।          

লিখেছেন- সাবেরা খাতুন

এফ/১৬:০৫/০১ জুলাই

সচেতনতা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে