Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.3/5 (33 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৭-২১-২০১২

চলচ্চিত্রে হুমায়ূন, হুমায়ূনের চলচ্চিত্র

চলচ্চিত্রে হুমায়ূন, হুমায়ূনের চলচ্চিত্র
নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ আজ আর নেই। কিন্তু আছে তার অসংখ্য অবিস্মরণীয় সৃষ্টিকর্ম। তার সৃষ্টি সাহিত্যকর্মকে আলোকিত করার পাশাপাশি টেলিভিশন নাটককে দিয়েছে ভিন্নমাত্রা। আর তার চলচ্চিত্র বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পকেও আলোকিত করেছে। পরিচালক হিসেবে উন্নতমানের কিছু চলচ্চিত্র যেমন নির্মাণ করেছেন তেমনই তার সাহিত্যকর্ম নিয়েও নির্মিত হয়েছে একাধিক মানসম্পন্ন ছবি। এসব চলচ্চিত্রের অধিকাংশই জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়েও স্বীকৃতি লাভ করেছে। হুমায়ূন আহমেদ পরিচালিত সর্বশেষ নির্মিত ইমপ্রেস টেলিফিল্মের ছবি ‘ঘেটুপুত্র কমলা’ এখন মুক্তির মিছিলে। আমেরিকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত মাসে ২০ দিনের জন্য বাংলাদেশে এসে বন্ধুদের নিয়ে ছবিটি দেখেছেন হুমায়ূন আহমেদ। নন্দিত এ চলচ্চিত্রকারের চলচ্চিত্র নিয়েই রচিত হয়েছে এ বিশেষ প্রতিবেদন।
চলচ্চিত্রে হুমায়ূন আহমেদ
চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার আগেই হুমায়ূন আহমেদ তার সাহিত্যকর্ম নিয়ে চলচ্চিত্রে পদার্পণ করেন টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব মুস্তাফিজুর রহমানের হাত ধরে। তার বহুল পঠিত ও জনপ্রিয় উপন্যাস শঙ্খনীল কারাগার নিয়ে মুস্তাফিজুর রহমান নির্মাণ করেছেন ‘শঙ্খনীল কারাগার’ ছবি। ১৯৯২ সালে ছবিটি মুক্তি পেয়ে সিনেমাপ্রেমীদের  মাঝে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। প্রথম ছবিতে হুমায়ূন আহমেদ জিতে নেন শ্রেষ্ঠ কাহিনীকারের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। পাশাপাশি ‘শঙ্খনীল কারাগার’ ওই বছর শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র, শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী ডলি জহুর এবং শ্রেষ্ঠ শব্দ গ্রাহক এমএ মজিদ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। ‘শঙ্খনীল কারাগার’ ছবিতে অভিনয় করেছেন আসাদুজ্জামান নূর, ডলি জহুর, শিলা আহমেদসহ অনেকেই। এরপর হুমায়ূন আহমেদের কাহিনী নিয়ে বিখ্যাত চলচ্চিত্রকার সুভাষ দত্ত নির্মাণ করেন ‘আবদার’ নামে একটি বাণিজ্যিক চলচ্চিত্র। এতে অভিনয় করেন ইলিয়াস কাঞ্চন ও দিতি। নন্দিত কথাশিল্পী হুমায়ূন আহমেদের সাহিত্যকর্ম নিয়ে মোট ৮টি ছবি নির্মাণ করেন স্বনামধন্য পরিচালকরা। ছবিগুলো হচ্ছে- মোরশেদুল ইসলাম পরিচালিত ‘দূরত্ব’ ও ‘প্রিয়তমেষু’, শাহ আলম কিরণ পরিচালিত ‘সাজঘর’, আবু সাইয়ীদ পরিচালিত ‘নিরন্তর’, বেলাল আহমেদ পরিচালিত ‘নন্দিত নরকে’ এবং তৌকীর আহমেদ পরিচালিত ‘দারুচিনি দ্বীপ’। এসব ছবির মধ্যে মোরশেদুল ইসলাম পরিচালিত ইমপ্রেস টেলিফিল্মের ছবি ‘দূরত্ব’র জন্য ২০০৪ সালে শ্রেষ্ঠ শিশুশিল্পীর জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পায় মাস্টার অমল। পাশাপাশি একই পরিচালকের ছবি লেজার ভিশন প্রযোজিত ‘প্রিয়তমেষু’র জন্য শিশুশিল্পী হিসেবে বিশেষ শাখায় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করে মাস্টার জাকান জুনায়েদ জীবরান। ২০০৭ সালে হুমায়ূন আহমেদের সাহিত্যকর্ম নিয়ে নির্মিত তৌকীর আহমেদ পরিচালিত ইমপ্রেস টেলিফিল্মের ছবি ‘দারুচিনি দ্বীপ’ ৭টি শাখায় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করে। শাখাগুলো হচ্ছে- শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র (প্রযোজক ফরিদুর রেজা সাগর), শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যকার (হুমায়ূন আহমেদ), শ্রেষ্ঠ অভিনেতা (রিয়াজ), শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী (জাকিয়া বারী মম), শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেতা (আবুল হায়াত), শ্রেষ্ঠ নৃত্যপরিচালক (কবিরুল ইসলাম রতন) এবং শ্রেষ্ঠ সংগীত পরিচালক (এসআই টুটুল)। একই বছর হুমায়ূন আহমেদের সাহিত্যকর্ম নিয়ে নির্মিত শাহ আলম কিরণ পরিচালিত ইমপ্রেস টেলিফিল্মের ছবি ‘সাজঘর’ তিনটি শাখায় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করে। শাখাগুলো হচ্ছে- শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেত্রী (নিপুণ), শ্রেষ্ঠ গায়ক (এ্যান্ডু্র কিশোর) ও শ্রেষ্ঠ গীতিকার (মুন্সী ওয়াদুদ)।
হুমায়ূন আহমেদের চলচ্চিত্র
১৯৯৪ সালে হুমায়ূন আহমেদ চলচ্চিত্র পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। গড়ে তোলেন প্রযোজনা সংস্থা নুহাশ চলচ্চিত্র। প্রথম নির্মাণ করেন মুক্তিযুদ্ধের অবিস্মরণীয় চলচ্চিত্র ‘আগুনের পরশমণি’। চমৎকার গল্প ও দুর্দান্ত নির্মাণশৈলীর কারণে ‘আগুনের পরশমণি’ চলচ্চিত্র শিল্পে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। পাশাপাশি অর্জন করে ৮টি শাখায় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। শাখাগুলো হচ্ছে- শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র (প্রযোজক হুমায়ূন আহমেদ), শ্রেষ্ঠ কাহিনীকার (হুমায়ূন আহমেদ), শ্রেষ্ঠ সংলাপ রচয়িতা (হুমায়ূন আহমেদ), শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী (বিপাশা হায়াত), শ্রেষ্ঠ সংগীত পরিচালক (সত্য সাহা), শ্রেষ্ঠ শব্দ গ্রাহক (মফিজুল হক), শ্রেষ্ঠ শিশুশিল্পী (শিলা আহমেদ), শিশুশিল্পী শাখায় বিশেষ পুরস্কার (হোসনে আরা পুতুল)। এরপর হুমায়ূন আহমেদ একে একে নির্মাণ করেন ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’, ‘দুই দুয়ারী’, ‘শ্যামল ছায়া’, ‘চন্দ্রকথা’ ও ‘নয় নম্বর বিপদ সংকেত’।
তার পরিচালিত সর্বশেষ ছবি ইমপ্রেস টেলিফিল্মের ‘ঘেটুপুত্র কমলা’, যা এখন মুক্তির মিছিলে। এসব ছবির মধ্যে ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’ ১৯৯৯ সালে ৭টি শাখায় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করে। শাখাগুলো হচ্ছে- শ্রেষ্ঠ অভিনেতা (জাহিদ হাসান), শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেতা (গোলাম মুস্তফা), শ্রেষ্ঠ সংগীত পরিচালক (মকসুদ জামিল মিন্টু), শ্রেষ্ঠ গীতিকার (রশীদউদ্দিন আহমেদ), শ্রেষ্ঠ গায়ক (সুবীর নন্দী), শ্রেষ্ঠ চিত্রগ্রাহক (মাহফুজুর রহমান খান) ও শ্রেষ্ঠ শব্দ গ্রাহক (মফিজুল হক)।
২০০০ সালে ‘দুই দুয়ারী’ ছবিটি দুটি শাখায় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করে। শাখা দুটি হচ্ছে- শ্রেষ্ঠ অভিনেতা (রিয়াজ) ও শ্রেষ্ঠ চিত্রগ্রাহক (মাহফুজুর রহমান খান)। ২০০৮ সালে ইমপ্রেস টেলিফিল্মের ছবি ‘আমার আছে জল’ দু’টি শাখায় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করে। শাখা দু’টি হচ্ছে- শ্রেষ্ঠ চিত্রগ্রাহক (মাহফুজুর রহমান খান) ও শ্রেষ্ঠ শিশুশিল্পী (মৃধা ইবশার নাওয়ার ওয়াফা)।
চলচ্চিত্রে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি
হুমায়ূন আহমেদের সাহিত্যকর্ম নিয়ে নির্মিত আবু সাইয়ীদ পরিচালিত ইমপ্রেস টেলিফিল্মের ছবি ‘নিরন্তর’ ২০০৬ সালে ভারতের ৩৭তম গোয়া ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে দ্বিতীয় শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র হিসেবে রৌপ্য ময়ূর (সিলভার পিকক) এবং ভারতের কেরালা ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র এবং কলকাতার কালাকার অ্যাওয়ার্ডে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রের পুরস্কার লাভ করে।
অস্কারে হুমায়ূন আহমেদের চলচ্চিত্র
বিশ্ব চলচ্চিত্রের সর্বশ্রেষ্ঠ পুরস্কার অস্কারে বিদেশী ভাষার চলচ্চিত্র বিভাগের প্রতিযোগিতায় হুমায়ূন আহমেদের দুটি ছবি অংশগ্রহণ করে। ছবি দুটি হচ্ছে- ইমপ্রেস টেলিফিল্মের ছবি হুমায়ূন আহমেদ পরিচালিত ‘শ্যামল ছায়া’ (২০০৫) এবং আবু সাইয়ীদ পরিচালিত ‘নিরন্তর’ (২০০৬)।
বাচসাস পুরস্কারে হুমায়ূন আহমেদের চলচ্চিত্র
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি (বাচসাস) প্রদত্ত চলচ্চিত্র পুরস্কারেও হুমায়ূন-এর চলচ্চিত্র বিভিন্ন শাখায় পুরস্কার অর্জন করেছে। এর মধ্যে ১৯৯৯ সালে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র (শ্রাবণ মেঘের দিন), শ্রেষ্ঠ কাহিনীকার (হুমায়ূন আহমেদ), শ্রেষ্ঠ গীতিকার (হুমায়ূন আহমেদ), শ্রেষ্ঠ অভিনেতা (জাহিদ হাসান), শ্রেষ্ঠ গায়ক (বারী সিদ্দিকি), শ্রেষ্ঠ সংগীত পরিচালক (মকসুদ জামিল মিন্টু), শ্রেষ্ঠ চিত্রগ্রাহক (মাহফুজুর রহমান খান), শ্রেষ্ঠ শিল্পী নির্দেশক (ধ্রুব এষ) এবং শ্রেষ্ঠ শব্দ গ্রাহক (মফিজুল হক)।
২০০১ সালে হুমায়ূন আহমেদের সাহিত্যকর্ম নিয়ে নির্মিত মোরশেদুল ইসলাম পরিচালিত ইমপ্রেস টেলিফিল্মের ‘দূরত্ব’ ছবিতে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র পরিচালক (মোরশেদুল ইসলাম), শ্রেষ্ঠ শব্দ গ্রাহক (রতন পাল), বিশেষ জুরি পুরস্কার (ফাহাদ), হুমায়ূন পরিচালিত ইমপ্রেস টেলিফিল্মের ছবি ‘শ্যামল ছায়া’র জন্য ২০০৫ সালে তানিয়া আহমেদ শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেত্রী এবং ২০০৮ সালে ‘আমার আছে জল’ ছবির জন্য লাক্স চ্যানেল আই সুপারস্টার বিদ্যা সিনহা মীম শ্রেষ্ঠ নবাগতা পুরস্কার লাভ করেন।

বলিউড

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে