Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 1.3/5 (3 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৬-২৯-২০১৬

উত্তর বাড্ডায় বহুতল ভবনে সাত ঘণ্টা পর আগুন নিভেছে

উত্তর বাড্ডায় বহুতল ভবনে সাত ঘণ্টা পর আগুন নিভেছে


ঢাকা, ২৯ জুন- রাজধানী ঢাকার উত্তর বাড্ডায় একটি বহুতল ভবনে ভয়াবহ আগুনের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে বিটিআই প্রিমিয়ার প্লাজা নামের ১৪ তলা ভবনটিতে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের ২৮টি ইউনিট প্রায় সাত ঘণ্টা চেষ্টা চালানোর পর আগুন নেভাতে সক্ষম হয়। আগুনের এই ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি বলে তারা জানিয়েছে। এ ঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, রাত আড়াইটার দিকে প্রগতি সরণিসংলগ্ন উত্তর বাড্ডায় বিটিআই প্রিমিয়ার প্লাজা কমপ্লেক্স অবস্থিত। বিশাল এই কমপ্লেক্সে চার তলা পর্যন্ত শপিং কমপ্লেক্স। এই বিপণিকেন্দ্র থেকে আগুনের সূত্রপাত। খবর পেয়ে রাত তিনটার দিকে ফায়ার সার্ভিসের ২৮টি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ শুরু করে।

মাহমুদুল হাসান বলেন, ভবনটির প্রথম চারটি তলায় আসবাবপত্রের দোকান। এই চারটি তলা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আগুন ছড়িয়ে পড়ায় ভবনের বাসিন্দারা ছাদে আশ্রয় নেন। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা অনেক ব্যক্তিকে উদ্ধার করেন।

প্রিমিয়ার প্লাজার কয়েকজন বাসিন্দা ও এলাকাবাসী বলেন, পাঁচতলা থেকে ১৪ তলা পর্যন্ত পাঁচটি ইউনিটের ১৩৬টি আবাসিক ফ্ল্যাট রয়েছে। নিচের বাকি চারটি তলায় শপিং কমপ্লেক্স। শপিং কমপ্লেক্সের ডেকো ফার্নিচার নামের একটি দোকানে বিদ্যুতের শর্টসার্কিট থেকে আগুন লাগে। তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, আগুন ছড়িয়ে যাওয়ার পর ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়। পানি না থাকায় ও সরু গলির কারণে আগুন নেভাতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। আগুন নেভানোর গাড়ি ঢোকাতে না পেরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা মাইকিং করে ভবনটির বাসিন্দাদের ছাদে যেতে বলেন। এরপর পাশের একটি গলিতে যায় ফায়ার সার্ভিসের একটি গাড়ি। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা একপর্যায়ে পেছনের একটি জলাশয় ও আশপাশের বাড়ি থেকে পানি ছিটাতে থাকেন। ফায়ার সার্ভিসের ১২১ জন উদ্ধারকর্মী ভোর পৌনে সাতটার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। এরপরও শপিং কমপ্লেক্স থেকে ধোঁয়া বের হতে থাকে। পরে সকাল ১০টার দিকে আগুন পুরোপুরি নেভানো সম্ভব হয়। তবে পুরো কমপ্লেক্সে আগুন নেভানোর তেমন কোনো ব্যবস্থা ছিল না। সতর্কতার জন্য অ্যালার্মও নেই। সিঁড়িগুলো সরু। এ ছাড়া আগুন নেভানোর সরঞ্জামগুলো মেয়াদোত্তীর্ণ ছিল।

আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর ভবনের বাসিন্দারা জানান, ভেতরে প্রচণ্ড গরম। আগুনের কারণে ভবনের কয়েকটি তলার দেয়াল ও টাইলস ফাটল ধরেছে।

রোকসানা নামের ওই ভবনের ১১ তলার এক বাসিন্দা বলেন, রাতে সাহরির কারণে বেশির ভাগ বাসিন্দা জেগে ছিলেন। আগুনের ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা সতর্ক হয়ে ছাদে চলে যান। আগুন নিয়ন্ত্রণে এলে তাঁরা নিচে নেমে আসেন।

ফায়ার সার্ভিসের ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা বলেন, নিচে শপিং সেন্টার ও ওপরে আবাসিক ফ্ল্যাট—এমন ভবন বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। এ ছাড়া সরু গলির ভেতরে এমন ভবন নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া উচিত নয়।

ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক অপারেশন মেজর শাকিল নেওয়াজ বলেন, ২৫ হাজার বর্গফুটের একটি ভবন তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু সরু গলির কারণে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন গাড়িগুলোকে ঘটনাস্থলে যেতে বেগ পেতে হয়েছে।

এ আর/১৩:৩৬/২৯জুন

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে