Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 1.5/5 (2 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৬-২৯-২০১৬

নজর না ঘোরালে ১৫ বছরে মারা পড়বে প্রায় ৭ কোটি শিশু: ইউনিসেফ

নজর না ঘোরালে ১৫ বছরে মারা পড়বে প্রায় ৭ কোটি শিশু: ইউনিসেফ

জাতিসংঘ, ২৯ জুন- বর্তমান ধারায় চলতে থাকলে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের যে সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে, সেই ২০৩০ সালের মধ্যে প্রতিরোধ করা যায় এমন কারণে বিশ্বে ৬ কোটি ৯০ লাখ শিশুর মৃত্যু ঘটবে বলে সতর্ক করেছে ইউনিসেফ।

বিশ্বে শিশুদের অবস্থা নিয়ে মঙ্গলবার প্রকাশিত জাতিসংঘ সংস্থাটির বার্ষিক প্রতিবেদনে এই আশঙ্কার কথা বলা হয়।

এতে বলা হয়, অবস্থার বদল না ঘটলে ২০৩০ সালের মধ্যে ১৬ কোটি ৭০ লাখ শিশু দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাস করবে। এ সময়ে বাল্যবিয়ের শিকার হবে ৭৫ কোটি মেয়ে।

ইউনিসেফ বলছে, বিভিন্ন দেশের সরকার, দাতাগোষ্ঠী, ব্যবসায়ী ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের প্রয়োজনীয়তার দিকে না তাকালে যে পরিস্থিতি দাঁড়াবে তার চিত্র উঠে এসেছে তাদের এই প্রতিবেদনে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বব্যাপী শিশু মৃত্যু রোধ, শিশুদের স্কুলে নেওয়া এবং দারিদ্র্য বিমোচনে ‘উল্লেখযোগ্য’ অগ্রগতি মাথায় রেখেই এই সতর্কবার্তা দিয়েছে ইউনিসেফ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৯৯০ দশকের তুলনায় বিশ্বে শিশু মৃত্যুহার কমে প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে, ১২৯টি দেশে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাওয়া ছেলে-মেয়ের সংখ্যা সমান হয়েছে এবং অতি দরিদ্র মানুষের সংখ্যা প্রায় অর্ধেক হয়েছে।

তবে এই অগ্রগতি সবার জন্য সমানভাবে হয়নি বলে ইউনিসেফের পর্যবেক্ষণ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সবচেয়ে দরিদ্র পরিবারের শিশুদের পাঁচ বছর বয়স হওয়ার আগেই মৃত্যু ও দীর্ঘস্থায়ী অপুষ্টিতে ভোগার হার ধনীদের তুলনায় দ্বিগুণ। দরিদ্র পরিবারের মেয়েদের শিশু বয়সে বিয়ের হার সম্পদশালী পরিবারের মেয়েদের তুলনায় আড়াই গুণ বেশি।

দক্ষিণ এশিয়া ও সাব-সাহারা আফ্রিকায় মাধ্যমিক পাস করা মায়ের সন্তানের তুলনায় অশিক্ষিত মায়ের সন্তানের পাঁচ বছর বয়সের আগে মৃত্যুর সম্ভাবনা তিন গুণ বেশি। এসব অঞ্চলে দরিদ্র পরিবারের মেয়েদের বাল্যবিয়ে হওয়ার সম্ভাবনা ধনী পরিবারের মেয়েদের তুলনায় দ্বিগুণ।

প্রতিবদন অনুযায়ী, বিশ্বে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় আছে সাব-সাহারা আফ্রিকা অঞ্চলের শিশুরা, সেখানে অন্তত ২৪ কোটি ৭০ লাখ শিশু অথবা প্রতি তিনজনে দুইজন বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের মধ্যে আছে, যারা বেঁচে থাকা ও বিকশিত হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সুবিধা পায় না।

এই অঞ্চলের ২০ থেকে ২৪ বছরের তরুণ-তরুণীদের ৬০ শতাংশেরই চার বছরের বেশি স্কুলে যাওয়া হয়নি।

বর্তমান ধারা চলতে থাকলে ২০৩০ নাগাদ এই অঞ্চলের শিশুদের যে অবস্থা দাঁড়াবে তার একটি পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে প্রতিবেদনে।

তাদের মতে, প্রতিরোধ করা যায় এমন কারণগুলোতে যে ছয় কোটি ৯০ লাখ শিশুর মৃত্যু হবে, তার অর্ধেকই এই অঞ্চলের।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাওয়ার বয়সী ৬ কোটি শিশুর অর্ধেকের বেশি শিক্ষার বাইরে থাকবে। প্রতি ১০ শিশুর নয়জনই চরম দারিদ্র্যের মধ্যে থাকবে।      

প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে প্রায় ১২ কোটি ৪০ লাখ শিশু প্রাথমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বাইরে রয়েছে। আবার প্রাথমিক শেষ করা প্রতি ৫ জনের ২ জন লিখতে, পড়তে ও সাধারণ অঙ্ক কষতে জানে না।

২০১১ সালের চেয়ে এখন স্কুলের বাইরে থাকা শিশুর সংখ্যা বেড়েছে বলে ইউনিসেফ জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, একটি দেশের তরুণদের বাড়তি এক বছরের পড়াশোনা সেই দেশের দারিদ্র্যের হার গড়ে ৯ শতাংশ কমিয়ে দেয়।

সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের দিকে নজর দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক অ্যান্থনি লেইক বলেন, “কোটি কোটি শিশুর জীবনে একটি ন্যায্য সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়া শুধু তাদের ভবিষ্যৎকেই হুমকিতে ফেলে না, বংশ পরম্পরায় প্রতিকূলতার চক্র তৈরির মাধ্যমে তা তাদের সমাজের ভবিষ্যৎকে বিপন্ন করে।

“আমাদের একটি বেছে নিতে হবে- এই শিশুদের পেছনে এখনই বিনিয়োগ করব নাকি বিশ্বকে আরও বেশি অসম ও বিভক্ত হতে দেব।”

“অসাম্য অনতিক্রম্য বা অজেয় নয়,” বলা হয়েছে প্রতিবেদনে।

এ আর/০৫:৪৫/২৯জুন

উত্তর আমেরিকা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে