Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৬-২৮-২০১৬

মিতু হত্যা: রহস্যের শেষ কোথায়?

মিতু হত্যা: রহস্যের শেষ কোথায়?

চট্টগ্রাম, ২৮ জুন- চট্টগ্রামে পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যার বিষয়ে এখন নতুন করে নানা ধরনের প্রশ্ন উঠছে৷ আছে গুজবও৷ দুজন হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন৷ বলা হচ্ছে তারা ভাড়াটে খুনি৷

এসপি বাবুল আক্তারকে ঢাকার বাসা থেকে নিয়ে ১৫ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করায় নানা ধরনের প্রশ্ন উঠেছে৷ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, চট্টগ্রামের আলোচিত মাহমুদা খানম মিতু হত্যায় তার স্বামী এসপি বাবুল আক্তারের সম্পৃক্ত নেই।

মন্ত্রী বলছেন, “এসপি বাবুল আক্তারকে স্ত্রী হত্যায় জড়িত থাকার বিষয়ে কোনো জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি। তিনি নজরদারির মধ্যেও নাই।” মঙ্গলবার রাজধানীর ওসমানী মিলনায়তনে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে মন্ত্রী বলেন, “মিতু হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজনদের চিহ্নিত করা হয়েছে৷ তাদের মধ্যে দু-একজন ধরা পড়েছে৷ আমি সুনিশ্চিত, ভবিষ্যতে আরো ধরা পড়বে৷”

শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টার পর মিতুর স্বামী বাবুল আক্তারকে ঢাকায় তার শ্বশুর বাড়ি থেকে নিয়ে যায় পুলিশ৷ পরের দিন, অর্থাৎ শনিবার বিকেল ৪টার দিকে তাকে আবার বাসায় দিয়ে আসা হয়৷ তার শ্বশুর মোশাররফ হোসেন বলেন, “তাকে নিয়ে যাওয়ার পর দীর্ঘ সময় আমরা তার অবস্থান জানতাম না৷ তার মোবাইল ফোনও বন্ধ ছিল৷ এটা আমার কাছে অস্বাভাবিক মনে হয়েছে৷ ১৫ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আমরা তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারিনি৷ আমি বিশ্বাস করি না যে সে কোনোভাবে মিতু হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত৷”

তিনি বলেন, “বাবুল আক্তার সন্ত্রাসী ও জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অনেক সহসী কাজ করেছেন৷ সরকার তার এই কাজকে কীভাবে দেখছে তা আমার কাছে পরিষ্কার নয়৷ সরকার তার কাজকে কীভাবে বিবেচনা করছে তাও আমি জানি না৷”

রোববার চট্টগ্রামের আদালতে মিতু হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বলে দুজন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন৷ তারা হলেন- ওয়াসিম এবং আনোয়ার৷ চট্টগ্রামের পুলিশ কমিশনার ইকবাল বাহার জানিয়েছেন, “হত্যাকাণ্ডের সময় মোটরসাইকেলে থাকা তিনজনের একজন হলো ওয়াসিম৷ সে সরাসরি মিতুকে গুলি করে বলে আদালতে স্বীকার করেছে৷”

তিনি জানান, “হত্যাতাণ্ডে ৭/৮ জনের একটি পেশাদার চক্র জড়িত৷ বাকিদের ধরার চেষ্টা চলছে৷”

মাহমুদা খানম (মিতু) হত্যার ঘটনায় আরো দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারের দাবি করেছে পুলিশ।

নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) দেবদাস ভট্টাচার্য্য মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে এসব দাবি করেন।


তবে হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য বা ‘মোটিভ’ সম্পর্কে পুলিশ কোনো তথ্য এখানো জানায়নি৷ আর পেশাদার বা ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের কারা ভাড়া করেছে, নেপথ্যে কে আছে, তাও জানায়নি পুলিশ৷ পুলিশ কমিশনার ইকবাল বাহার সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, “কার নির্দেশে এবং কেন মিতুকে হত্যা করা হয়েছে, তা এখন বলা সম্ভব নয়।”

মন্ত্রী বলেন, ‘‘সন্দেহভাজন দু-একজনকে গ্রেফতারের পর সঠিক ব্যক্তিদের ধরা হয়েছে কিনা সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার জন্য জিজ্ঞাসাবাদ করতেই বাবুল আক্তারকে গোয়েন্দা দফতরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল৷ সেখানে তাদেরকে বাবুল আক্তারের মুখোমুখি করানো হয়৷”

বাবুল চাকরিতে ফিরছেন না?

স্ত্রী মাহমুদা খানম (মিতু) হত্যা মামলায় ১৫ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের চাকরিতে ফেরা নিয়ে বড় সংশয় দেখা দিয়েছে। তিনি আর চাকরিতে ফিরছেন না বলে অসমর্থিত একটি সূত্র জানিয়েছে। সর্বত্র আলোচনা, বাবুল আক্তার কি পুলিশ বাহিনী থেকে চলে যাচ্ছেন? একজন উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তা সাংবাদিকদের বলেছেন, কর্মকর্তাদের একটি অংশ চায় না, তিনি আর বাহিনীতে ফিরে আসুন। পুলিশ বাহিনীর ভেতরেও এ নিয়ে নানা আলোচনা রয়েছে।

জানতে চাইলে পুলিশের মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।

বাবুলের এক স্বজন বলেন, “ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর থেকে কাজে ফেরা নিয়ে বাবুলের মধ্যেও সংশয় তৈরি হয়েছে। গত শুক্রবার গভীর রাতে শ্বশুরবাড়ি থেকে তাঁকে ডিবি কার্যালয়ে নেয়া হয়। এরপর ১৫ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর শ্বশুরবাড়িতে পৌঁছে দেয়া হয়। সেখানে যে পুলিশ পাহারা ছিল, গতকাল তা তুলে নেয়া হয়েছে।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন পুলিশ কর্মকর্তা সাংবাদিকদের বলেন, “গত শুক্রবার রাতে বাবুলকে ডিবি কার্যালয়ে আনার পর এক উপকমিশনারের কক্ষে ডিআইজি পদমর্যাদার তিনজন কর্মকর্তা জিজ্ঞাসাবাদ করেন। ওই সময় তাকে দুটি শর্ত দেয়া হয় বলে জানা গেছে। বলা হয়, ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সব তথ্য-প্রমাণ তাদের হাতে রয়েছে। তাকে জেলে যেতে হবে অথবা বাহিনী থেকে সরে যেতে হবে। বাহিনী থেকে সরে যাওয়ার ব্যাপারে বাবুল সম্মতি দেন বলে জানা গেছে।”

গত ৫ জুন ছেলেকে স্কুল বাসে তুলে দিতে গিয়ে চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি মোড় এলাকায় দুর্বৃত্তদের এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত ও গুলিতে খুন হন পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু৷ প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল, জঙ্গিরা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, কারণ, তার স্বামী বাবুল আক্তার বাংলাদেশে জঙ্গিবিরোধী অপারেশনের প্রথম সারির কর্মকর্তাদের একজন৷

জিজ্ঞাসাবাদ শেষে শনিবার বিকেলে বাসায় ফেরার পর থেকে এসপি বাবুল আক্তার সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলছেন না৷ টেলিফোনও ধরছেন না৷ তিনি এখনো তার শ্বশুরের বাসায়ই অবস্থান করছেন৷ এরপর থেকে তিনি আর বাসার বাইরেও বের হচ্ছেন না৷ বাসার সামনে নিয়মিত আটজন পুলিশ পাহারায় থাকছে৷

শ্বশুর মোশাররফ হোসেন জানান, “কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই৷ এমনিতেই বাবুল আক্তার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন না, বাইরে যাচ্ছেন না৷ আর মিতু হত্যার পর থেকেই পুলিশ পাহারা দেয়া হয়েছে৷” 

আর/১৭:১৪/২৮ জুন

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে