Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৬-২৭-২০১৬

যে কারণে 'সুন্দরবন-১০' বাংলার টাইটানিক

যে কারণে 'সুন্দরবন-১০' বাংলার টাইটানিক

ঢাকা, ২৭ জুন- ঢাকা বরিশাল নৌ-রুটে সদ্য উদ্বোধন হওয়া সুন্দরবন-১০ লঞ্চটিকে বাংলার টাইটানিক হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন নৌ-মন্ত্রী শাজাহান খান। এর অত্যাধুনিক সুযোগ সুবিধা যে কাউকেই মুগ্ধ করবে। যে কারণে সকলেই মন্ত্রীর এ বক্তব্যে একমত পোষণ করেছেন।

৩৩২ ফুট দৈর্ঘ্য ৫২ ফুট প্রস্থের ৩ তলা বিশিষ্ট এই লঞ্চে যাত্রী ধারণ ক্ষমতা রয়েছে প্রায় দেড় হাজার।

এদিকে, শতাধিক লঞ্চের মধ্যে এই লঞ্চটি সর্বাধিক সুবিধায় সজ্জিত। এটিতে চলাচলে অক্ষম এমন ব্যক্তিদের জন্য লিফট, মারাত্মক অসুস্থ রোগীদের জন্য 'সিসিইউ' (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) বেড, নামাজের নির্দিষ্ট স্থান, ইন্টারনেট-ওয়াইফাই, এটিএম বুথ, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, শিশু বিনোদন কর্নার, ফুড কোড ও সেলুনের ব্যবস্থা রয়েছে।

লঞ্চটির নিচের অংশে ১২টির মতো কম্পার্টমেন্ট রাখা হয়েছে। যাতে পানির নিচের এক অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলে অপর অংশ না হয় এবং এটি তলিয়ে না যায়। পাশাপাশি নিচ ও দ্বিতীয় তলায় ডেক ছাড়াও থাকছে যাত্রীদের দুইশ’র অধিক প্রথম শ্রেণির কেবিন, ১৫টি ভিআইপি, ৬টি ভিভিআইপি কেবিন ও ৪০টি সোফার ব্যবস্থা।

দুইশ’ টন পণ্য পরিবহনের সুবিধার সাথে লঞ্চটিতে সার্বক্ষণিক সিসি ক্যামেরা ও আধুনিক অগ্নি নির্বাপক যন্ত্রের ব্যবস্থা রয়েছে।

এমনকি জার্মানির তৈরি অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ২ হাজার ৭৫০ হর্স পওয়ায় দু’টি ইঞ্জিন দ্বারা লঞ্চটি চলছে। হুইল হাউজে (চালকের কক্ষ) সম্পূর্ণ অত্যাধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর যন্ত্রাংশ সংযোজন করা হয়েছে। এর রাডার সুকান ‘ইলেকট্রো ম্যাগনেটিক’ ও ম্যানুয়াল দ্বৈত প্রদ্ধতিতে ব্যবহার করা যাবে। ঘন কুয়াশায় চলাচলের জন্য আছে বিশেষ ফগ লাইট।

পাশাপাশি জিপিএস পদ্ধতি সংযুক্ত করা হয়েছে। ফলে লঞ্চটি চলাচলরত নৌ-পথের এক বর্গকিলোমিটারের মধ্যে গভীরতা ছাড়াও আশপাশের অন্য যে কোনো নৌ-যানের উপস্থিতি চিহ্নিত করতে পারবে।

এতে ভ্রমণ করতে ঢাকা থেকে বরিশালগামী যাত্রীদের গুণতে হবে- ডেকে ২০০ টাকা, সোফায়-৫০০ টাকা, সিঙ্গেল কেবিন ১ হাজার টাকা, ডাবল কেবিন ২ হাজার টাকা এবং ভিআইপি কেবিনে ৪ থেকে ৬ হাজার টাকা।
এদিকে গত ২৫ জুন লঞ্চটি উদ্বোধনের সময় উপস্থিত হয়ে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, নৌ-পরিবহণ মন্ত্রী শাজাহান খান ২ ঘন্টা লঞ্চটিতে ভ্রমণ করেন, যাত্রীকল্যাণ এবং নৌ- যোগাযোগ ব্যবস্থায় একটি অনন্য মাইলফলক হিসেবেই 'সুন্দরবন-১০'র বর্ণনা করেন।

সুন্দরবন নেভিগেশনের প্রধান সাইদুর রহমান মিন্টু বলেন, " ৩ বছরের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল সুন্দরবন-১০। নিজের লাভের থেকেও যাত্রীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখেই এতসব সুবিধার সমন্বয় করেছি। বিশেষ করে বরিশাল থেকে অনেক অসুস্থ রোগী ঢাকায় ভাল চিকিৎসা নেওয়া জন্য আসতে গিয়ে দীর্ঘ সময়ের কারণে এবং কোন অস্থায়ী মেডিকেল ব্যবস্থার সুযোগ না থাকায় আরো বেশি অসুস্থ হয়ে যেতেন। পথেই অনেম মানুষ মারা যেতেন। সে কারণে সুন্দরবন-১০ এ (সিসিউ)র ব্যবস্থা করেছি। যা পূর্বে কখনোই কোন লঞ্চে ছিল না"।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসে বরিশাল-৫ আসনের সাংসদ জেবুন্নেসা আফরোজ লঞ্চটির অত্যাধুনিক সুবিধায় আপ্লুত হয়ে যান। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, সিসিউ সুবিধা না থাকার কারণে তার স্বামী প্রয়াত শওক হোসেন হীরণ (সাবেক সাংসদ বরিশাল-৫) পথিমধ্যেই মৃত্যুবরণ করেন বিনাচিকিৎসায়।

আর/১০:১৪/২৭ জুন

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে