Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 1.5/5 (2 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৬-২৬-২০১৬

গণভোটের রায়: এখন যা যা ঘটবে

গণভোটের রায়: এখন যা যা ঘটবে

লন্ডন, ২৬জুন- যুক্তরাজ্য যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে, তা নিশ্চিত হয়ে গেছে গত শুক্রবার। তবে এই বিচ্ছেদ এখনই ঘটছে না। যুক্তরাজ্য এখনো ইইউর সদস্য আছে এবং খুব সম্ভব আগামী কয়েক বছর থাকবে। তবে এই ঐতিহাসিক গণভোটের কারণে ধারাবাহিকভাবে কয়েকটি বড় ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে।

নতুন প্রধানমন্ত্রী আসবেন: ইইউতে থেকে যাওয়ার পক্ষে প্রচারে নেতৃত্ব দিয়ে পরাজিত হওয়ার পর পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন। আগামী অক্টোবরে তিনি ক্ষমতা ছাড়বেন। যদিও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে গণভোট-পরবর্তী নতুন পরিস্থিতি তাঁরই মোকাবিলা করার কথা ছিল। কিন্তু তিনি এ দায়িত্ব নিতে নারাজ। ফলে যুক্তরাজ্যের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হবে নতুন একজন প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করা। ক্যামেরনের দল কনজারভেটিভ পার্টি আগামী সেপ্টেম্বরে ব্যালটের মাধ্যমে নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন করবে।

লেবার পার্টিতেও কি পরিবর্তনের ধাক্কা লাগবে?: বিরোধী লেবার পার্টির নেতা জেরমি করবিন ইইউতে থাকার পক্ষে ছিলেন। দলে তাঁর ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়েও গুঞ্জন শুরু হয়ে গেছে। ইতিমধ্যে লেবার পার্টির দুই এমপি করবিনের প্রতি অনাস্থা জানিয়েছেন। দলে করবিন-বিরোধীরা আশা করছেন, তাঁরা তাঁকে পদত্যাগে বাধ্য করতে সক্ষম হবেন।

বাজার সাময়িক অস্থিতিশীল থাকবে: গণভোটের ফলাফলের বাজার-প্রতিক্রিয়া ছিল তাৎক্ষণিক ও নাটকীয়। যুক্তরাজ্যের মুদ্রা পাউন্ড স্টার্লিংয়ের দর ৩১ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে শুক্রবার।
ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের গভর্নর মার্ক কার্নেই ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। তিনি বলেছেন, আগামী কয়েক দিন হয়তো বাজার অস্থিতিশীল থাকবে। তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যাংক প্রস্তুত রয়েছে। বাজারের অস্থিরতা মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক ২৫০ বিলিয়ন পাউন্ডের বেশি অর্থ দিতে প্রস্তুত রয়েছে।

ইউরোপীয় নেতাদের প্রতিক্রিয়া: ইউরোপীয় নেতাদের আশা ছিল, যুক্তরাজ্য ইইউতে থাকবে। যুক্তরাজ্যবাসীর সিদ্ধান্তে তাঁরা হতাশ হলেও পরিবর্তিত পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত রয়েছেন। ইতিমধ্যে বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে জরুরি বৈঠক ডেকেছে যুক্তরাজ্য ছাড়া বাকি ইউরোপীয় দেশগুলো। আগামী সোমবার বৈঠকে বসবে জার্মানি, ফ্রান্স ও ইতালি। এরপর এই সপ্তাহের শেষ দিকে ২৭টি সদস্যদেশ বৈঠক করে পরবর্তী করণীয় ঠিক করবে। তবে তাদের আশঙ্কার মূল কারণ হচ্ছে, যুক্তরাজ্যের ফলাফলের পর ইতিমধ্যে ফ্রান্স ও নেদারল্যান্ডসে উগ্র ডানপন্থী এবং ইইউ-বিরোধী দলগুলো গণভোটের দাবি তুলতে শুরু করেছে।

বিদায়ের পন্থা ত্বরান্বিত করা: ২০০৯ সালের ১ ডিসেম্বর কার্যকর হওয়া লিসবন চুক্তি ইইউর অন্যতম সাংবিধানিক ভিত্তি। সেটির আর্টিকেল ফিফটিতে সংক্ষেপে বলা রয়েছে জোট ছেড়ে যাওয়ার নিয়মকানুন। যদিও এর আগে কখনো আর্টিকেল ফিফটির প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়নি। সম্ভবত ইইউ ছাড়ার দায়িত্ব উত্তরসূরির কাছে দিয়ে যাবেন ক্যামেরন। তবে হুট করেই ইইউ ছাড়তে পারবে না যুক্তরাজ্য। বাকি ২৭টি দেশের সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা করতে হবে। আগামী দুই বছরে এই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার কথা। তবে ধারণা করা হচ্ছে, আরও বেশি সময় লাগবে।

ইইউ ত্যাগের পক্ষের প্রচারণাকারীরা বলছেন, এ মুহূর্তে আর্টিকেল ফিফটির প্রয়োজনীয়তা নেই। এখন অনানুষ্ঠানিক আলাপ হবে। ইইউ এবং এর দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাজ্যের সম্পর্ক কী হবে, তা নিয়ে আলোচনা হওয়া উচিত আগে। কোনো কোনো পক্ষ বলছে, আগামী বছর ফ্রান্স ও জার্মানির জাতীয় নির্বাচনের পরই আর্টিকেল ফিফটি নিয়ে আলোচনা শুরু হতে পারে।

পার্লামেন্ট নীরবে বসে থাকবে না: যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের ৬৫০ এমপির মধ্যে অধিকাংশই ইইউতে থাকার পক্ষে ছিলেন। কিন্তু জনগণের ইচ্ছা ছিল ভিন্ন। অনিচ্ছা সত্ত্বেও এমপিদের ইইউ থেকে যুক্তরাজ্যের প্রত্যাহার-সংক্রান্ত চুক্তি অনুমোদন করতে হবে। এই ফলাফল মেনে নিলেও চুপ করে বসে থাকবেন না তাঁরা। গণভোটের পর আগামী সোমবার পার্লামেন্ট অধিবেশন বসবে। সেদিন প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরন গণভোট ও ইইউ থেকে বিচ্ছেদের বিষয়ে বক্তব্য দেবেন।

ইতিমধ্যে ৪৫০ জনের বেশি এমপি উদ্যোগ নেওয়া শুরু করেছেন, যেন যুক্তরাজ্য একক বাজারব্যবস্থায় থাকতে পারে। এর মানে হচ্ছে, যুক্তরাজ্যকে তার সীমান্ত ইইউভুক্ত অন্য দেশগুলোর জন্য উন্মুক্ত রাখতে হবে। এটা ব্রেক্সিটপন্থীদের জন্য পছন্দসই হবে না।

আলোচনায় যুক্তরাজ্যের পক্ষে নেতৃত্ব দেবেন কে?: একটি প্রশ্ন বড় হয়ে দেখা দিচ্ছে, ইইউ থেকে বিচ্ছেদ-প্রক্রিয়ায় যুক্তরাজ্যের পক্ষে আলোচনায় নেতৃত্ব দেবেন কে? প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরন পদত্যাগ করার সঙ্গে সঙ্গে অর্থমন্ত্রী জর্জ অসবর্ন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফিলিপ হ্যামন্ড এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থেরেসা মে কেউ হয়তো পদত্যাগ করবেন। তাঁরা ইইউতে থাকার পক্ষেই বক্তব্য দিয়ে আসছিলেন। সুতরাং, তাঁরা আলোচনায় থাকতে আগ্রহী হবেন না হয়তো।

আগামী দিনে যুক্তরাজ্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বরিস জনসন বা মাইকেল গোভকে পেতে পারে। তাঁরা ব্রেক্সিটের পক্ষে প্রচারে নেতৃত্বের সারিতে ছিলেন। তাঁদের ওপরই হয়তো আলোচনার দায়িত্ব পড়তে পারে। তবে স্কটল্যান্ড, ওয়েলস এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডের নেতৃত্বও আলোচনার টেবিলে থাকার দাবি তুলতে পারেন।

যুক্তরাজ্যের ভবিষ্যৎ ভাঙনের মুখে?: ব্রেক্সিটের পক্ষে রায়ের ফলে ওয়েস্টমিনস্টারে নতুন করে উদ্বেগ শুরু হয়েছে। যুক্তরাজ্যের ভবিষ্যৎ এখন নানামুখী সন্দেহের দোলাচলে রয়েছে। যুক্তরাজ্যের অধিকাংশ লোক ইইউতে না-থাকার পক্ষে ভোট দিলেও স্কটল্যান্ডের ৬০ শতাংশ মানুষ ইইউতে থাকার পক্ষে ভোট দিয়েছেন। এর ফলে সেখানে পুনরায় স্বাধীনতার পক্ষে গণভোটের আয়োজন করা হতে পারে। এতে করে যুক্তরাজ্যের মানচিত্র সংকুচিত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে।

স্কটিশ ন্যাশনালিস্ট পার্টির জ্যেষ্ঠ নেতারা বলছেন, গণভোট প্রমাণ করে দিয়েছে যে, স্কটল্যান্ডবাসী ইইউতেই তাদের ভবিষ্যৎ দেখতে পাচ্ছে।
ব্রেক্সিটের ফলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, উত্তর আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে রিপাবলিক অব আয়ারল্যান্ডের সীমান্ত আরও কড়াকড়ি হবে। অনেকে ইতিমধ্যে আয়ারল্যান্ডের একীভূত হওয়ার কথা বলা শুরু করেছেন।

এ আর/০৮:০২/ ২৬জুন

ইউরোপ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে